মা–মেয়েকে হত্যার দায়ে গৃহশিক্ষকের মৃত্যুদণ্ড

চুয়াডাঙ্গায় মা-মেয়েকে খুনের দায়ে মনজুরুল ইসলাম নামের এক গৃহশিক্ষককে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানার আদেশ দিয়েছেন আদালত। অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. রোকনুজ্জামান গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে এই রায় ঘোষণা করেন।

মামলার বিবরণে জানা গেছে, মুন্সিগঞ্জ জেলার বিক্রমপুর তিনদোকান রাড়িখাল গ্রামের হাবিবুর রহমান দীর্ঘদিন ধরে চুয়াডাঙ্গা সমবায় নিউমার্কেটে তৈরি পোশাকের ব্যবসা করতেন। তিনি ২০০৫ সাল থেকে চুয়াডাঙ্গা চেম্বারের সভাপতি ইয়াকুব হোসেনের বাড়ির দোতলা ভাড়া নিয়ে সপরিবারে বসবাস করতেন। ইয়াকুবের ছোট ভাই মনজুরুল এই দম্পতির মেয়ে আয়েশা খাতুনকে পড়াতেন। ২০০৯ সালের ১৬ নভেম্বর সকালে মনজুরুল ভাড়াটে হাবিবুর রহমানের বাসায় যান। সেখানে হাবিবুরের স্ত্রী রিনা আক্তারের (৩২) সঙ্গে তাঁর বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে মনজুরুল ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে রিনা আক্তারকে হত্যা করেন। রিনা নয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। এ ছাড়া বাগ্‌বিতণ্ডার সময় মায়ের পক্ষ নেওয়ায় আয়েশা খাতুনকেও কুপিয়ে হত্যা করেন মনজুরুল। পরে তিনি বাড়ি থেকে বেরিয়ে ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দেন। এতে তাঁর ডান পা কাটা পড়ে। পরে আশপাশের লোকজন মনজুরুলকে উদ্ধার করে সদর হাসপাতালে ভর্তি করে।

এদিকে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় হাবিবুর রহমান বাদী হয়ে ওই দিন রাতেই মনজুরুলকে আসামি করে সদর থানায় মামলা করেন। পরে পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করে।

সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আমির আব্বাস তদন্ত শেষে ২০১০ সালের ১৬ জানুয়ারি মনজুরুলের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

জানতে চাইলে সহকারী সরকারি কৌঁসুলি (এপিপি) বেলাল হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, আটজন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ এবং মামলার উপযুক্ত তথ্যপ্রমাণ সাপেক্ষে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আদালত এই রায় ঘোষণা করেন।

প্রথম আলো

Comments are closed.