ফলোআপ: বিটিভির মহা পরিচালকের স্বাক্ষর নকল: সাংস্কৃতিক কর্মীদের ক্ষোভ

নৃত্য শিল্পী মেহেদি হাসান বিটিভির মহা পরিচালকের স্বাক্ষর জালিয়াতির কারণে ক্ষোভ জানিয়েছে মুন্সিগঞ্জের সাংস্কৃতিক কর্মীরা। মুন্সিগঞ্জ নিউজ ডটকম অনলাইন পোর্টালে তার এই অনিয়মের খবর প্রকাশের পর এই ক্ষোভ প্রকাশ করে সাংস্কৃতিক কর্মীবৃন্দরা।

জানা যায়, মুন্সিগঞ্জে বিটিভির মহা পরিচালকের স্বাক্ষর নকল করে স্থানীয় নৃত্য শিল্পী মেহেদি হাসানের বিরুদ্ধে ব্যাপক জালিয়াতির অভিযোগ উঠে। মেহেদি মুন্সিগঞ্জে বিভিন্ন বয়সী নৃত্য শিল্পীদের কাছ থেকে বিটিভিতে নৃত্য পরিবেশন করানোর কথা বলে মহা পরিচালকের স্বাক্ষর নকল করে সকলকে ফরম দেন। এই ফরম প্রায় ৩৫জনের মধ্যে বিলি করা হয়। এই সংবাদ প্রকাশের পর থেকে মেহেদীর কাছ থেকে অনেকেই টাকা ফেরত চেয়েছেন। এই বিষয়ে মেহেদি হাসান মুন্সিগঞ্জ নিউজ ডটকমকে জানান, আমি টাকা উঠিয়ে বিটিভি’র একজনকে দিয়েছি। তাকে টাকা ফেরত দিতে বলেছি। সেখান থেকে টাকা ফেরত আসলেই আমি সবার টাকা ফেরত দিতে পারবো। তিনি জানান, বিটিভি’র ঐ লোকটি আমাকে এই কাজে ব্যবহার করেছে। আমি আসলেই বুঝতে পারেনি।

এদিকে সাংস্কৃতিক অঙ্গন থেকে কথিত এই নৃত্য শিল্পীকে বয়কট ও প্রশাসনের নজরে বিষয়টি নেয়ার জন্য দাবি জানিয়েছেন মুন্সিগঞ্জ সাংস্কৃতিক কর্মীরা। অনিয়মিত সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক গোষ্ঠির সভাপতি এড. সুজন হায়দার জনি বলেন, কতিপয় অসাধু চরিত্রের মানুষের কারনে মুন্সিগঞ্জের সাংস্কৃতিক অঙ্গনের বদনাম হচ্ছে। এই বিষয়ে আমাদের এখন সচেতন হবার সময় এসেছে। এছাড়া অভিবাবকদের এই বিষয়ে সচেতনতা অবলম্বন করতে হবে। অভিবাবকদের প্রতি আমার আহ্বান থাকবে-আগে আপনার সন্তানকে প্রকৃত ও মানসম্পন্ন শিল্পী হিসেবে তৈরি করুন। মেধা মনন ও যোগ্যতা অর্জন করলে দালালের মাধ্যমে টাকা খরচ করে টিভিতে অনুষ্ঠান করানোর চেষ্টা করতে হবে না। টিভি চ্যানেল আপনার সন্তানের প্রতিভা খুঁজে বের করবে।

নাট্যকর্মী ডালিম রহমান বলেন, মেহেদির এই অনিয়ম এর নিন্দা জানাই,তাকে সাংস্কৃতিক কর্মকান্ড হতে বয়কট করার দাবিও জানান তিনি।

মেহেদির মহাপরিচালকেরর নাম ও সিল বিহীন স্বাক্ষরিত চিঠি দিয়ে নৃত্য শিক্ষার্থীদের নিকট টাকা নেওয়ার জালিয়াতি ফাঁস হয়ে যাওয়াতে ফেঁসে গেছেন কথিত এই নৃত্য শিক্ষক। এই বিষয়ে বিটিভিতে কর্মরত মেহেদি হাসান বাবু বলেন,এটা মহাপরিচালকেরর স্বাক্ষর নয়।এতে নাম বা তার সিলও নেই।আর এতে টাকার অংকও দেয়া ছিল। এটা নেহাৎ জাল বলে তার ধারনা। সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সাধারন সম্পাদক সাব্বির জাকির বলেন, মেহেদি হাসানের এই জালিয়াতির জন্য অনেকে আমাকে ফোনে জানিয়েছেন। মুন্সীগঞ্জে টক অব দ্যা টাউনে পরিণত হয়েছে মেহেদির এই জালিয়াতির বিষয়।এই বিষয়ে জানতে চাইলে মুন্সিগঞ্জ শিল্পকলা একাডেমী কালচারাল অফিসার মোখলেছা হিলালী বলেন, মেহেদি যদি এমনটা করে থাকে সেটা তার ব্যক্তিগত বিষয়। শিল্পকলার সাথে এর সংশ্লিষ্টতা নেই। একই সুরে শিশু একাডেমীর মুন্সিগঞ্জের কর্মকর্তা জেসমিন বেগম বলেন,এটা তার ব্যক্তিগত বিষয়।

এই বিষয়ে জানতে চাইলে,মেহেদি হাসান বলেন, মহাপরিচালকের স্বাক্ষরিত এই চিঠিতে আমাকে একজন দিয়েছেন। তাই অনুষ্ঠানের জন্য আমি এই টাকা নিয়েছি। এই মেহেদির বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে তিনি নানান অনিয়ম ও জালিয়াতি করেছেন নৃত্য শিল্পীদের সাথে। মুন্সিগঞ্জেরর সাংস্কৃতিক কর্মীবৃন্দ প্রশাসনকে বিষয়টি আমলে নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

মেহেদি হাসানের বিষয়ে সংবাদ প্রকাশের পর সাংস্কৃতিক মহলে আলোচনার ঝড় উঠে। আর সেই ধারাবাহিকতায় নুরপুরের এক অভিভাবক তার কাছে নূপুরের টাকা ফেরত চায় বলে শোনা যায়। নুরপুরে এক অভিভাবকের কাছ মেহেদি অনেক দিন আগে নূপুর তৈরি করে দেয়ার কথা বলে ২২ হাজার টাকা আনে। কিন্তু নূপুর তৈরি করে দিচ্ছে না বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

মুন্সিগঞ্জ নিউজ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *