পেশা ছাড়ছেন মুন্সীগঞ্জের পাটি’র কারিগররা

জেলার টঙ্গীবাড়ি উপজেলার পাইকপাড়া বা পাটিকরপাড়া এলাকার পাটির বেশ সুনাম রয়েছে। প্রায় ৪০০ বছরের ঐতিহ্য এই পাটি শিল্প। পাটিকরপাড়া এলাকায় নারী-পুরুষ মিলে প্রায় শতাধিক পরিবার পাটি তৈরির কাজে নিয়োজিত রয়েছেন।

পেশা ছাড়ছেন মুন্সীগঞ্জের পাটি’র কারিগররামোতরা নামক গাছের বাকল দিয়ে তৈরি হয় পাটি। পাটি তৈরির কাঁচামাল মোতরা স্থানীয়ভাবে উৎপাদন না হওয়ার কারণে সিলেটের গোয়াইনঘাট থেকে আনতে হয় চড়ামূল্যে। পাটির চাহিদা থাকলেও দিন দিন উৎপাদন কমে যাওয়ায় মুন্সীগঞ্জের ঐতিহ্য আজ হারাবার পথে।

স্থানীয়ভাবে পাটির কাঁচামাল না পাওয়া যাওয়ার কারণে উচ্চমূল্যে মোতরা সিলেট থেকে আনতে হয়। গত বছর এক পাটির মোতরা ৫৫ টাকায় পাওয়া যেতো। এখন কিনতে হয় ৭০ টাকায়। বর্তমানে কাঁচামালের দাম বৃদ্ধি পাওয়া ও অলাভজনক ব্যবসা হওয়ায় অনেক কারিগরই এ শিল্পে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছেন।

পাটি তৈরির নারী শ্রমিকরা জানান, তাদের একটি পাটির বাইন তৈরি করতে সময় লাগে ২ থেকে ৩ দিন। এতে একটি দেশি অর্থাৎ মোটা পাটির বাইন তৈরিতে মজুরি পান ১১০ টাকা, সিলেটের একটি পাটির বাইন তৈরি বাবদ ১৫০ টাকা ও টিকন বাইন তৈরিতে ৫শ’ থেকে ৭শ’ টাকা মজুরি পায়। চিকন পাটির বাইন তৈরিতে ১০-১২দিনও সময় লাগে বলে নারী শ্রমিকরা জানান।

এতো কম মজুরি অন্য কোন পেশায় নেই বলে শ্রমিকদের অভিযোগ। এসব কারণে তারা এখন নানামুখী পেশায় চলে গেছে, কেউ রাজমিস্ত্রি, কেউ স্বর্ণের কাজ, কেউ ওয়ার্কশপ কেউবা আবার বিদেশে চলে যাচ্ছে।

এদিকে, শীতল পাটি ৩ থেকে ৪ হাজার টাকায়, চিকন পাটি ১ হাজার ৭শ’ থেকে ১ হাজার ৮ শ’ টাকায় এবং মোটা পাটি ৪ শ’ ৫০ টাকা থেকে ৫ শ’ টাকায় পাইকারি বিক্রি করছেন। কিন্তু এতে তেমন লাভ হচ্ছে না বলে পাটি তৈরির কারিগররা জানান।

সরকারি সহযোগিতার মাধ্যমে তারা কাঁচামাল পেলে তাদের জন্য পাটি তৈরি লাভজনক হতো।

মুন্সীগঞ্জ বিসিকের উপ-ব্যবস্থাপক মো. সাইফুল আলম জানিয়েছেন, পাটিকরপাড়ার ২ জন পাটি শিল্পের উদ্যোক্তাকে আমরা দেড়লাখ টাকা ঋণ দিয়েছি।

পাটি শ্রমিকরা মনে করেন, যদি পাটি উৎপাদনের পর সরকারিভাবে বিদেশে রপ্তানি করা হতো তবে তাদের ভাগ্য বদলে যেতো।

সর্বোপরি পাটি তৈরির কারিগররা সরকারের কাছ থেকে সুদ মুক্ত ঋণের দাবি করেছেন।

পূর্ব পশ্চিম

Comments are closed.