নেতারা শুধু প্রতিশ্রুতিই দিয়েছেন, সেতু আর হয়নি

মঈনউদ্দিন সুমন: স্বাধীনতার ৪৪ বছর পেরিয়ে গেলেও মুন্সীগঞ্জ পৌরসভার চর কিশোরগঞ্জ (মোল্লা চর) গ্রামের মানুষের সেতু নির্মাণের একমাত্র দাবি বাস্তবায়ন হয়নি। এ গ্রামে প্রায় ১০ হাজার মানুষের বসবাস। কিন্তু তাঁদের যাতায়াতের একমাত্র পথটি এখনো নৌকায় পার হতে হয়।

গ্রামের একাধিক বাসিন্দা জানান, তাঁদের গ্রামটি চর এলাকা। এর চারপাশে নদী। এটি পড়েছে মুন্সীগঞ্জ পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডে। গ্রামে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও তিনটি মসজিদ আছে। মুন্সীগঞ্জ শহর বা কোথাও যেতে হলে গ্রামের লোকজনকে নৌকা পার হয়ে যাতায়াত করতে হয়। এতে গ্রামের ছেলেমেয়েদের স্কুল-কলেজে যাতায়াতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। সবচেয়ে দুর্ভোগে পড়তে হয় অন্তঃসত্ত্বা নারী ও রোগীদের। তাই তাঁদের দাবি ছিল, ধলেশ্বরীর শাখা নদী কালিদাস পণ্ডিত নদীতে প্রায় ৪০০ মিটার দৈর্ঘ্যের একটি সেতু নির্মাণের। এ জন্য বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরা নির্বাচনের সময় ভোট চাইতে এসে জয়ী হলে সেতু বানানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। কিন্তু নির্বাচনে জেতার পর তাঁদের আর দেখা মেলেনি। সেতুও তৈরি হয়নি।

চর কিশোরগঞ্জের বাসিন্দারা জানান, মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনের বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য সাবেক এলজিআরডি উপমন্ত্রী আবদুল হাই বারবার প্রতিশ্রুতি দিলেও তা বাস্তবায়ন করেননি। নির্বাচনের পর তাঁর দেখা পাওয়া যায় না। এমনকি আগে মুন্সীগঞ্জ পৌরসভার বিএনপির সাবেক মেয়র ও আওয়ামী লীগের মেয়ররাও সেতু নির্মাণ করে দেওয়ার কথা বলেছেন। কিন্তু তা শুধু প্রতিশ্রুতিতেই সীমাবদ্ধ রয়েছে।

এ ছাড়া আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য এম ইদ্রিস আলী নির্বাচনী জনসভায় কালিদাস পণ্ডিত নদীতে সেতু নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। কিন্তু সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর তিনি একবারও ওই এলাকায় যাননি। মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য, আওয়ামী লীগের মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মৃণাল কান্তি দাসও প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। কিন্তু সেতু আর বাস্তবায়ন হয়নি।

এর আগে মুক্তিযোদ্ধা এ বি এম সিদ্দিক বাবুল নিজ উদ্যোগে একটি বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করে দেন। দুই বছর পর সেটি ভেঙে পড়ে। এরপর সাঁকোটি আর নির্মাণ করা সম্ভব হয়নি।

কালিদাস পণ্ডিত নদীতে সেতু নির্মাণের ব্যাপারে মুন্সীগঞ্জ পৌরসভার আওয়ামী লীগদলীয় মেয়র মোহাম্মদ ফয়সাল বিপ্লব বলেন, ‘এটা আমার নির্বাচনী অঙ্গীকার। এটা আমার নলেজে রয়েছে। এ বিষয়ে আমি মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠিয়েছি। আমার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।’

মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মৃণাল কান্তি দাস বলেন, পৌরসভার মেয়র না চাইলে পৌর এলাকার ভেতরে কোনো উন্নয়নমূলক কাজ সংসদ সদস্যরা করতে পারেন না। পৌরসভার নাগরিক হিসেবে এই এলাকার মানুষের প্রতি আমার যথেষ্ট দায়িত্ব-কর্তব্য রয়েছে। আশা করেছিলাম সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে সেতু নির্মাণ করে দেব। কিন্তু সেতুটি নির্মাণের জন্য এক পা এগোলে তিন পা পেছাতে হয়। পৌরসভার কর্তৃপক্ষ যদি আমার কাছে সহযোগিতা চায়, তা হলে সেতু নির্মাণ করতে বেশি সময় লাগার কথা নয়।’

সংসদ সদস্য আরো বলেন, ‘এলাকার মানুষের দাবি আমার কাছে আছে। কিন্তু দাবি থাকলে কী হবে, চাবিকাঠি যাঁদের কাছে, তাঁরা যদি আমার কাছে কোনো প্রকার সহযোগিতা না চান তাহলে তো কিছু করার থাকে না।’

এনটিভি

Comments are closed.