শ্যামপুরে ভুল চিকিৎসায় গৃহবধূর মৃত্যুর অভিযোগ

রাজধানীর শ্যামপুর থানার ধোলাইপাড়ে কিউর জেনারেল হাসপাতালে ভুল চিকিৎসায় অন্তঃসত্ত্বা এক গৃহবধূর মৃত্যুর অভিযোগ পাওয়া গেছে। ওই গৃহবধূর নাম সোনিয়া আক্তার (২৪)। তিনি মুন্সীগঞ্জ শ্রীনগর উপজেলার লস্করপুর গ্রামের হুমায়ুন কবিরের দ্বিতীয় স্ত্রী।

সোনিয়ার স্বামী হুমায়ুন কবির জানান, সাত মাস আগে পার্শ্ববর্তী আলমপুর গ্রামের শফি শেখের মেয়ে সোনিয়াকে তিনি গোপনে বিয়ে করেন। সোনিয়া যখন ৩ মাসের অন্তঃসত্ত্বা তখন দুই পরিবারের মধ্যে বিষয়টি জানাজানি হয়।

হুমায়ুনের প্রথম স্ত্রী মিতু বিষয়টি মেনে নিতে চাননি। এ অবস্থায় হুমায়ুন ঢাকায় চলে এসে ফুলবাড়িয়া এলাকায় একটি জুতার দোকানে চাকরি নেন। প্রথম মাসের বেতন পাওয়ার পর কেরানীগঞ্জের জিঞ্জিরা এলাকায় ৩ হাজার টাকায় একটি বাসা ভাড়া নেন। গত বৃহস্পতিবার সোনিয়াকে তিনি বাড়ি থেকে নিয়ে এসে ওই বাসায় তোলেন।

হুমায়ুনের দাবি, গত শনিবার হঠাৎ সোনিয়ার রক্তক্ষরণ শুরু হয়। প্রথমে তাকে কেরানীগঞ্জের সাজেদা ক্লিনিকে নেওয়া হয়। সেখানকার চিকিৎসকরা জানান, সোনিয়ার গর্ভের বাচ্চা নষ্ট হয়ে গেছে। পরেসেখান থেকে তাকে ধোলাইপাড় কিউর জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। সেখানকার চিকিৎসক জানান, সোনিয়ার গর্ভপাত করাতে হবে।

এরপর ১০ হাজার টাকা চুক্তিতে তাকে ওই হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। রবিবার (৮ জানুয়ারি) সকালে তার গর্ভপাত করানো হয়। এতে তার অবস্থার অবনতি ঘটে। সন্ধ্যা ৬টার দিকে সোনিয়াকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

এদিকের হুমায়ুনের দাবি, কিউর জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসকদের ভুল চিকিৎসার কারণে সোনিয়ার মৃত্যু হয়েছে। হুমায়ুন জানিয়েছেন, এ ব্যাপারে তিনি কিউর জেনারেল হাসপাতালের বিরুদ্ধে মামলা করবেন।

এ বিষয়ে কিউর জেনারেল হাসপাতালের স্বত্বাধিকারী মোছা. রহিমা হেমায়েত জানান, সোনিয়াকে গুরুতর অবস্থায় তার হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। তার দাবি, হুমায়ুন তার পরিচিত। তাকে তিনি বোনের ছেলে বলে দাবি করেন।

রহিমা হেমায়েত বলেছেন, ‘সোনিয়ার অবস্থা খুবই খারাপ থাকায় তাকে আমার হাসপাতালে ভর্তি করি।পরে অবস্থার অবনিত হয়। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।’

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ উপ-পরিদর্শক (এসআই) বাচ্চু মিয়া সোনিয়ার মৃত্যুর সত্যতা নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, লাশটি ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে রাখা হয়েছে।

এদিকে শ্যামপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘খবর পেয়ে আমরা কিউর হাসপাতালে গিয়ে সংশ্লিষ্টদের জিজ্ঞাসাবাদ করেছি। এখন অভিযোগ পেলে আমরা ব্যবস্থা নেবো।’

দ্য রিপোর্ট

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *