প্রবাসীদের মহান বিজয় দিবস পালন

রাহমান মনি: বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনা ও যথাযোগ্য মর্যাদায় জাপান প্রবাসীরা উদযাপন করেছে মহান বিজয় দিবসের ৪৫তম বর্ষপূর্তি। দিবসটি পালনে আয়োজন করা হয়েছিল বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের।

বৃহত্তর ময়মনসিংহ সোসাইটি অব বাংলাদেশ ইন জাপানের আয়োজনে ২৫ ডিসেম্বর রোববার টোকিওর কিতা সিটি আকাবানে বুনকা সেন্টার বিভিও হলে আয়োজিত বর্ণাঢ্য এ আয়োজনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দূতাবাসের চার্জ দ্য এফেয়ার্স, ইকোনোমিক মিনিস্টার ড. সাহিদা আকতার। বিশেষ অতিথি হিসেবে আমন্ত্রিত হয়ে এসেছিলেন জাপান প্রবাসী বীরমুক্তিযোদ্ধা শ্রী অজিত কুমার বড়–য়া। এছাড়াও দূতালয় প্রধান, দ্বিতীয় সচিব মোহাম্মদ জোবায়েদ হোসেন, বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক, ব্যবসায়িক ও আঞ্চলিক সংগঠনসমূহের নেতৃবৃন্দ এবং সর্বস্তরের প্রবাসী দলমত নির্বিশেষে উপস্থিত থেকে বিজয়ের এই আনন্দ উৎসবে মেতে ওঠেন।

অনুষ্ঠানের শুরুতেই শিল্পী হোসাইন মুনীরের শৈল্পিক ও নিপুণ কারুকার্যে নির্মিত অস্থায়ী স্মৃতিসৌধ ড. সাহিদার নেতৃত্বে মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে শহীদ বীর সেনানীদের ফুলেল শ্রদ্ধা জানানো হয়। এরপর ১৯৫২ ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে স্বাধিকার আন্দোলনে অংশ নেয়া বীর শহীদদের আত্মার শান্তি কামনা করে দাঁড়িয়ে নীরবতা পালন করা হয়।

অনুষ্ঠানের ১ম পর্বে কামরুল আহসান জুয়েলের উপস্থাপনায় আলোচনা সভায় অংশ নেন মোঃ নাজমুল হোসেন রতন, কাজী এনামুল হক, কাজী ইনসানুল হক, জিয়াউল ইসলাম, প্রকৌশলী শেখ ওয়াজির আহমেদ, মোঃ আলমগীর হোসেন মিঠু, খন্দকার আসলাম হিরা, মোঃ মাসুদুর রহমান, এ. আর. কামন, হোসাইন মুনীর, শ্রী সুখেন ব্রহ্ম, শ্রী অজিত বড়–য়া, ড. সাহিদা আকতার, ড. এ. বি. এম. রফিকুল ইসলাম, মোঃ মোফাজ্জল হোসেন প্রমুখ।

জি. এম. এস. সভাপতি ড. এ. বি. এম. রফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে এ সময় মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন ড. সাহিদা আকতার, শ্রী সুখেন ব্রহ্ম এবং শ্রী অজিত কুমার বড়–য়া।

দিবসটির তাৎপর্যে আলোচনায় অংশ নিয়ে বক্তারা বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধ বাঙালি জাতির শ্রেষ্ঠ অর্জন। ৩০ লাখ শহীদের রক্ত এবং ২ লাখ মা-বোনের সম্ভ্রমহানি ও অনেক ত্যাগ-তিতিক্ষার মাধ্যমে ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর মাত্র ৯ মাস যুদ্ধে আমাদের বিজয় নিশ্চিত হয়। যেটা বিশ্ব ইতিহাসে একটি বিরল ঘটনা। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে বলতে হয় রাজনৈতিক গ্যাঁড়াকলের প্যাঁচে যখন যে সরকার ক্ষমতায় এসেছে তখনই সে সরকার তার নিজেদের মতো করে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস শিখতে বাধ্য করেছে। যার জন্য সঠিক ইতিহাস আজও শিখা হয়নি। এই প্রবাসে আমাদের প্রজন্মকে আমরা যদি সঠিক ইতিহাস শিক্ষা দিতে না পারি তাহলে একদিন ইতিহাসের কাঠগড়ায় আমাদেরও দাঁড়াতে হবে।

অনুষ্ঠানের ২য় পর্বে ছিল শিশু-কিশোরদের সাংস্কৃতিক পর্ব। বাংলাদেশ প্রবাসী কল্যাণ সমিতি জাপানের ব্যবস্থাপনায় শিশু-কিশোরদের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন ববিতা পোদ্দার। একঝাঁক শিশু-কিশোরের সমন্বয়ে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানটি ছিল উপভোগ্য।

সবশেষে অর্থাৎ অনুষ্ঠানের তৃতীয় পর্ব ছিল মূল সাংস্কৃতিক পর্ব। স্থানীয় প্রবাসী সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘উত্তরণ’ বাংলাদেশ কালচারাল গ্রুপ, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করে। উত্তরণ-এর সিনিয়র শিল্পী প্রাক্তন লিডার খন্দকার ফজলুল হক রতনের সার্বিক পরিচালনায় উত্তরণ-এর নিজস্ব শিল্পী ছাড়াও অ্যামেচার শিল্পী শেখ ওয়াজির আহমেদ সংগীত পরিবেশন করেন। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন রণাঙ্গনের গান, বিজয়ের গান ও দেশাত্মবোধক গান দিয়ে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানটি ঢেলে সাজানো হয়। তবলায় বিমান পোদ্দার এবং ঢোলে ছিলেন মান্না চৌধুরী।

অনুষ্ঠান আয়োজনে সহযোগিতায় ছিল জাপান প্রবাসী বাংলাদেশি নাগরিকবৃন্দ।

rahmanmoni@gmail.com
সাপ্তাহিক

Comments are closed.