কেউ কথা রাখেনি!

মঈনউদ্দিন সুমন: মুন্সীগঞ্জ পৌরসভার চরকিশোরগঞ্জ (মোল্লাচর) গ্রামে বসবাসকারী মানুষের একটি সেতুর দাবি স্বাধীনতার ৪৫ বছরেও বাস্তবায়ন হয়নি। ওই গ্রামের ১০ হাজার মানুষের যাতায়াতের একমাত্র ভরসা নৌকা। বর্তমান সময়ে দেশের কোনো পৌরসভায় বসবাসকারী মানুষের কাছে এটা অকল্পনীয়।

মুন্সীগঞ্জ পৌরসভার ৭নং ওয়ার্ডে চরকিশোরগঞ্জ গ্রাম। প্রায় ১০ হাজার মানুষ বসবাসকরী এ গ্রামের চারপাশে নদী। ফলে গ্রাম থেকে অন্য কোথাও যেতে এ গ্রামে বসবাসকারীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের যাতায়াতে সমস্যা বেশি হয়। গ্রামে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও তিনটি মসজিদ আছে। নৌকা ছাড়া পারাপারের কোনো ব্যবস্থা না থাকায় কোমলমতি শিশুদের মধ্যে যারা উচ্চবিদ্যালয়ে যায় তাদের নানা সমস্যায় পড়তে হয়। নৌকা দিয়ে পারাপারের সময় প্রায়ই নৌদুর্ঘটনা ঘটে।

গ্রামবাসীরা জানান, ধলেশ্বরীর শাখা নদী কালিদাস পণ্ডিত নদীতে একটি সেতু নির্মাণ হলে শহরের সঙ্গে তাদের যাতায়াত ব্যবস্থা সহজ হবে। তবে স্বাধীনতার ৪৫ বছর পর তাদের সেতুর দাবিটি কোনো সরকারের আমলেই বাস্তবায়ন হয়নি।

তারা বলেন, বিগত সময়ে নির্বাচনের আগে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে বিভিন্ন সময় প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। নির্বাচনের আগে সবাই তাদের দাবির সঙ্গে একাত্মতাও পোষণ করেছিলেন। কিন্তু নির্বাচনের পর কেউ আর তাদের দেওয়া কথা রাখেননি।

ওই এলাকা সংশ্লিষ্ট মুন্সীগঞ্জ-৩ আসন থেকে চারবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন বিএনপির আব্দুল হাই। তিনি নির্বাচনের আগে বহুবার গ্রামের মানুষের কাছে সেতু নির্মাণ করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। কিন্তু নির্বাচিত হওয়ার পর সেতু তো দূরে থাক তার কাছে গ্রামবাসীদের ঘেঁষতে দেওয়া হয়নি বলে গ্রামের বাসিন্দারা জানান।

এমনকি বিএনপির সাবেক মেয়র ও আওযামী লীগ থেকে নির্বাচিত মেয়ররাও প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, কিন্তু কেউ কথা রাখেননি।

অপরদিকে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট থেকে মনোনয়ন পেয়ে নির্বাচিত হওয়া মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য এম ইদ্রিস আলীও নির্বাচনের আগে সেতু নির্মাণ করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। কিন্তু নির্বাচিত হওয়ার পর তিনি একবারের জন্যও ওই গ্রামে যাননি।

এ প্রসঙ্গে মুন্সীগঞ্জ পৌরসভার মেয়র হাজী মোহাম্মদ ফয়সাল বিপ্লব জানান, ‘এটা আমার নির্বাচনী অঙ্গীকার। এটা আমার নলেজে রয়েছে। এজন্য আমি মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়েছি। আমার চেষ্টা অব্যাহত আছে।’

এ প্রসঙ্গে মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য ও আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির উপ-দফতর সম্পাদক অ্যাডভোকেট মৃণালকান্তি দাস বলেন, ‘পৌরসভার ভিতরে সংসদ সদস্যদের উন্নয়নমুখী কাজ করার ক্ষেত্রে কিছু আইনগত বাধ্যবাধকতা রয়েছে। আমি আশা করেছিলাম জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে সেতুটি নির্মাণ করে দিব। এই সেতুটি নির্মাণের জন্য এক পা এগোলে তিন পা পিছাতে হয়। পৌরসভার দায়িত্বে যারা রয়েছেন তারা যদি আমার কাছে কোনো প্রকার সহযোগিতা চান, তা হলে সেতু নির্মাণ করতে বেশি সময় লাগার কথা না। ঐ এলাকার মানুষের দাবি আমার কাছে আছে। কিন্তু দাবি থাকলে কি হবে চাবিকাঠি যাদের কাছে তারা যদি আমার কাছে কোনো প্রকার সহযোগিতা না চান তাহলে তো কিছু করার থাকে না।’

দ্য রিপোর্ট

Comments are closed.