মুন্সীগঞ্জে লাউ চাষে সফলতা

সবজি উৎপাদনের অন্যতম জেলা মুন্সীগঞ্জ। আলু এ জেলার প্রধান অর্থকরী ফসল হলেও অন্যান্য সবজিও এখানে উৎপন্ন হয়ে থাকে। মুন্সীগঞ্জ সদরের বজ্রযোগিনী ও রামপাল ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের উচু জমিতে সারা বছরই আগাম সবজি চাষ হয়ে থাকে। আগাম চাষে কৃষকরাও লাভবান হয়ে আসছেন। তেমনি আগাম লাউ চাষে লাভবান হয়েছেন শ্রী জ্ঞান অতীশ দীপঙ্করের জন্মভিটা বজ্রযোগিনীর নুরুল ইসলাম শেখ।

মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার বজ্রযোগিনী ইউনিয়নের ভট্রাচার্যপাড়া গ্রামের নুরুল ইসলাম শেখ কৃষিকাজ করে আজ স্বাবলম্বি। ৩০-৩২ বছর ধরে তিনি কৃষিকাজ করে জীবিকা নির্বাহ করছেন। তার পরিবারের কেউ কৃষিকাজের সঙ্গে জড়িত নয়। ৩ ছেলে ১ মেয়েকে মানুষ করেছেন। এক ছেলে প্রবাসী, আরেক ছেলে চাকরি করেন। মেয়েকে বিয়ে দিয়েছেন আর ছোট ছেলে রুবেল মুন্সীগঞ্জ সরকারি হরগঙ্গা কলেজের দ্বিতীয় বর্ষে পড়াশুনা করছেন। ভট্রাচার্যেরপাড়া গ্রামে ১৪ শতাংশ জমির উপর তিনি লাউ চাষ করেছেন।

লাউ গাছের চারা রোপনের ২ মাস পরই গাছে লাউ ধরে বিক্রির উপযোগী হয়ে উঠে। আগাম এ লাউ চাষে তিনি লাভবান হয়েছেন। ১৫ হাজার টাকা খরচে লাউ চাষ করে ২৫ হাজার টাকা বিক্রি করেছেন। গাছ থেকে কেটে প্রতিদিন ৯০-১০০টি লাউ বিক্রি করছেন বজ্রযোগিনীর বাজারে। শুরুতে একটি লাউ বিক্রি করেছেন ৬০-৭০টাকায়। এখন বিক্রি হচ্ছে ৪০-৫০টাকায়। এখন প্রতিদিন আড়াই থেকে ৩ হাজার টাকার লাউ বিক্রি করছেন। তার আশা, এ জমির লাউ বিক্রি করে তিনি অন্তত ৬০-৭০ হাজার টাকার মুনাফা নেবেন।

মুন্সীগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর উপ পরিচালক মো. হুমায়ুন কবীর জানান,এ বছর ৮০ হেক্টর জমিতে লাউ চাষের আবাদ হয়েছে। গত বছর ৭৩৮ হেক্টর জমিতে লাউ চাষ হয়েছিলো। এবার শীত মৌসুমে ৮০০ হেক্টর জমিতে লাউ চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

লাউ চাষি নুরুল ইসলাম শেখ বলেছেন, লাউ চাষ করে তিনি ভালো আছেন এবং বিক্রি ভালোই হচ্ছে।তিনি আরো জানান, আগে লাউ শীতকালে হতো। মুন্সীগঞ্জে এখন সারা বছর হচ্ছে। দিনদিন মুন্সীগঞ্জ জেলায় লাউ চাষ বৃদ্ধি পাচ্ছে। লাউ চাষে সরকার আর্থিক সহযোগিতা প্রদান করে না। কিন্তু কারিগরি সহযোগিতা করে থাকে।

বিডিলাইভ

Comments are closed.