মুন্সিগঞ্জ সহ ৩৭ জেলা শহরে পানি সরবরাহ প্রকল্পের মেয়াদ ফের বাড়ছে

ব্যয় দ্বিগুণের বেশি বেড়ে দাঁড়াচ্ছে প্রায় ৯শ’ কোটি টাকা
এক দফায় তিন বছর মেয়াদ বাড়িয়েও দেশের ‘৩৭ জেলা শহরে পানি সরবরাহ’ প্রকল্পের কাজ শেষ হচ্ছে না। কয়েকটি জেলার পৌরসভায় পানি শোধনাগার নির্মাণের স্থান নির্বাচন করা হয়েছে প্রকল্প বাস্তবায়নের শেষ সময়ে। এ কারণে শোধনাগার নির্মাণ কাজ শুরু করতে দেরি করেছেন ঠিকাদাররা। আবার প্রকল্প এলাকার মেয়রদের ডিও লেটারের প্রেক্ষিতে কিছু পৌরসভার কাজও বেড়ে গেছে। এতে প্রকল্পের মোট প্রাক্কলিত ব্যয় বাড়ানোর আবশ্যকতা দেখা দিয়েছে। ফলে দ্বিতীয়বারের মতো এ প্রকল্পের মেয়াদ ও ব্যয় বাড়ানোর সুপারিশ করেছে পরিকল্পনা কমিশন। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতর (ডিপিএইচ)।

সূত্র জানায়, মূল অনুমোদিত প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছিল প্রায় ৪২৬ কোটি টাকা। এর পর প্রথম দফায় ব্যয় বাড়ানো হয় ৩২৯ কোটি টাকা (প্রায় ৭৮ ভাগ)। এবার ব্যয় আরও প্রায় ১৪৬ কোটি টাকা বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। এতে প্রকল্পের বর্তমান মোট ব্যয়ের পরিমাণ দাঁড়াবে প্রায় ৯০০ কোটি টাকা, যা মূল অনুমোদিত প্রকল্প ব্যয়ের দ্বিগুণেরও বেশি। মূল প্রকল্পের বাস্তবায়নকাল ধরা হয়েছিল ডিসেম্বর ২০১০ হতে জুন ২০১৪ পর্যন্ত। প্রথম দফায় তিন বছর বাড়ানোর পর এবারও দুই বছর বাড়তে যাচ্ছে প্রকল্পের মেয়াদ। নতুন সময়সীমা অনুযায়ী ২০১৯ সালের জুনের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ করা হবে।

এ সংক্রান্ত সংশোধনী প্রস্তাবসহ প্রকল্পটি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) আগামী বৈঠকে অনুমোদনের জন্য উত্থাপন করা হতে পারে। সংশোধিত প্রকল্প প্রস্তাব বিষয়ে পরিকল্পনা কমিশনের ভৌত অবকাঠামো বিভাগের সদস্য খোরশেদ আলম চৌধুরী তার লিখিত সুপারিশে বলেছেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে দেশের ৮টি বিভাগের ৩৭টি জেলা শহরে নিরাপদ পানি সরবরাহ নিশ্চিত করার জন্য বিদ্যমান পানি সরবরাহ অবকাঠামোসমূহের সম্প্রসারণ ও পুনর্বাসন, পানি সরবরাহ ব্যবস্থাকে টেকসইকরণসহ জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং নিরাপদ পানি সরবরাহের কভারেজ বৃদ্ধি করা সম্ভব হবে।

জানা গেছে, সংশোধিত প্রস্তাবে ফেনী পৌরসভায় একটি ভূগর্ভস্থ পানি শোধনাগার নির্মাণ অন্তর্ভুক্তির প্রস্তাব করা হয়েছে। অপরদিকে কক্সবাজার, মুন্সীগঞ্জ জেলায় ভূগর্ভের পরিবর্তে ভূউপরিভাগে পানি শোধনাগার নির্মাণের প্রস্তাব করা হয়েছে। পাবনা জেলার ভূগর্ভের পানি শোধনাগারটি বাদ দেয়া হয়েছে। সার্বিকভাবে মূল প্রস্তাব থেকে দুটি ভূগর্ভস্থ পানি শোধনাগার নির্মাণ কাজ বাদ দেয়া হয়েছে। আর নতুন করে অতিরিক্ত চারটি ভূউপরিস্থ পানি শোধনাগার নির্মাণ, অতিরিক্ত ৭টি ওভারহেড ট্যাংক নির্মাণ, অতিরিক্ত ১২২টি পরীক্ষামূলক ড্রিলিং, অতিরিক্ত ৬১টি উৎপাদক নলকূপ স্থাপন, ৪৬০ কিলোমিটার পাইপলাইন স্থাপন, ১হাজার ৫০টি ওয়াটার পয়েন্ট স্থাপন এবং বিভিন্ন পৌরসভায় আরও ৫০টি পাম্প ও মোটর প্রতিস্থাপন কাজ যুক্ত করা হয়েছে।

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, বাংলাদেশ সরকার সকল জেলা সদর-পৌরসভায় বিভিন্ন প্রকল্পের আওতায় পাইপ লাইনের মাধ্যমে পানি সরবরাহ করছে। পানি সরবরাহ ব্যবস্থা নির্মাণের পর ডিপিএইচই অপারেশন এবং মেনটেন্যান্সের জন্য পৌরসভার নিকট হস্তান্তর করে। পানের জন্য ও গৃহস্থালি নানাবিধ কার্যক্রমের জন্য নিরাপদ পানির চাহিদা বৃদ্ধির কারণে বর্তমান পানি সরবরাহ ব্যবস্থা পর্যাপ্ত নয়। এর কারণ হচ্ছে পৌরসভার আয়তন ও জনসংখ্যা বৃদ্ধির। এছাড়া, বিভিন্ন এলাকায় পানি সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের কোন পুনর্বাসন কার্যক্রম গ্রহণ না করার ফলে নিরাপদ পানির উৎপাদনও হ্রাস পেয়েছে। বিদ্যমান পানি সরবরাহ অবকাঠামোসমূহের সম্প্রসারণ ও পুনর্বাসন এবং পানি সরবরাহ ব্যবস্থা টেকসই করার জন্য এই প্রকল্পটি মোট ৪২৪ কোটি ২৫ লাখ ৬৯ হাজার টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ে ২০১০ সালের ডিসেম্বর হতে ২০১৪ সালের জুন মাসে বাস্তবায়নের জন্য ২০১০ সালের ২৮ ডিসেম্বর একনেক সভায় অনুমোদিত হয়। পরবর্তীতে প্রকল্পের বেশ কিছু অঙ্গের ব্যয় বৃদ্ধির কারণে প্রকল্পের ব্যয় ৩২৯ কোটি ৪৬ লাখ টাকা বৃদ্ধি করে মোট ৭৫৩ কোটি ৭২ লাখ টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ে এবং ৩ বছর বর্ধিত মেয়াদে অর্থাৎ ২০১০ সালের ডিসেম্বর হতে ২০১৭ সালের জুন পর্যন্ত প্রকল্পের প্রথম সংশোধিত উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) অনুমোদিত হয়।

জনকন্ঠ

Comments are closed.