গ্রাম্য সালিশি বিচারে পালিয়ে বেড়াচ্ছে এক অন্তঃসত্ত্বা ধর্ষিতা কিশোরী

টঙ্গীবাড়ী উপজেলার হাসাইল বানারী ইউনিয়নের বানারী গ্রামে বিচার-শালিশীতে এক অন্তঃসত্ত্বা ধর্ষিতাকে গ্রাম ছাড়া করার পর সে আত্বগোপন করে দিনে কাটাচ্ছে।

ধর্ষক সোহেল এবং ওই এলাকার কতিপয় প্রভাবশালী গ্রাম্য মাতবরগন মোট অংকের টাকা খেয়ে ধর্ষিতার পরিবারকে হুমকি দিচ্ছে তাই ধর্ষিতা নিজ বাড়িতে ফিরতে পারছেনা।

এর আগে গত ১৩ ডিসেম্বর মঙ্গলবার রাতে ধর্ষিতার নিজ গ্রামের বাড়ি বানারী গ্রামে বিচার শালিশী বসে।

উপজেলার হাসাইল বানারী ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ড সদস্য আলি আকবর ঢালী, ৭,৮,৯ সংরক্ষিত মহিলা সদস্য কাজলী মেম্বার এর নেতৃত্বে ওই গ্রাম্য বিচারে ধর্ষকের ২০ হাজার টাকা জরিমানা করলেও ধর্ষিতা জানান সে কোন টাকা পায়নি।

এছাড়াও ওই গ্রাম্য বিচারকরা ধর্ষকের কাছ হতে আরো ২০হাজার টাকা উৎকোচ নিয়ে ধর্ষনেরদায়ভার ধর্ষিতার উপর চাপিয়ে দিয়ে তার বিরুদ্ধে কুৎসা রটিয়ে তাকে গ্রামছাড়া করে দেয়।

এ ব্যপারে ধর্ষিতা জানান, আমাকে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেওয়ার পর আমি ঢাকা চলে আছি। মুন্সীগঞ্জের বাড়িতে ফোন দেওয়ার পর বাড়ির লোকজন আমাকে বলেছে সোহেল ও গ্রামের মাতবররা তাদের অনবরত প্রান নাশের হুমকি ধামকি দিচ্ছে।
গ্রামে আমাদের লোকজনও নাই আমাগো টাকাও নাই এ কারণে আমি গ্রামের নিজ বাড়িতে যাইতে পারছিনা। এছাড়া আমি টঙ্গীবাড়ী থানাও চিনিনা যে মামলা করবো।

অন্তঃসত্ত্বা ওই কিশোরী আরো জানান, এক বছর পূর্বে বানারী গ্রামের করিম আলি মুন্সির ছেলে সোহেল (২৫) আমাকে বিয়ে করবে বলে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুলে। পরে সোহেল আমাকে অচিরেই বিয়ে করবে বলে তার আত্বীয়র বাড়িতে নিয়ে জোরপূর্বক আমার ইচ্ছার বিরুদ্ধে শরিরিক সম্পর্ক করে। পরে বিয়ে করার কথা বলে আরো কয়েকবার তার বন্ধু-বান্ধব ও আত্বীয়-স্বজনের বাসায় নিয়ে একাধিকবার আমার সাথে শারীরিক মেলামিশা করে। আর এরই মধ্যে আমি অস্তঃসত্ত্বা হয়ে পরি।
অন্তঃসত্ত্বার এই বিষয়টি সোহেলকে জানানো হলে সোহেল রেগে গিয়ে আমার সাথে খারাপ আচরন করে। পরে আমি বাবা মা ও এলাকাবাসীকে ঘটনাটি জানাই ।

এদিকে ধর্ষিতার মা জানান গ্রাম্য বিচারকরা দির্ঘদিন বিচার করবো বলে আমাদের তারিখের পর তারিখ দিয়ে পরে মঙ্গলবার রাতে বিচারে বসে। বিচারে মাদবর-শালিশিরা বলে সব দোষ আমার নাকি আমার মেয়ের। তবে ব্যাপারে গ্রাম্য বিচারক আলি আকবর ঢালী জানান, আমি এ ধরনের কোন বিচার করি নাই।

এ ব্যাপারে টঙ্গীবাড়ী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আলমগীর হোসাইন জানান, এখনো থানায় কোন অভিযোগ পাইনি। তবে থানায় অভিযোগ হলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যাবস্থা নেওয়া হবে।

মুন্সিগঞ্জ নিউজ

Comments are closed.