২৯ জেলায় সর্বোচ্চ ভ্যাটদাতার সম্মাননা পেল ওয়ালটন

যথাযথ নীতিমালা অনুসরণের মাধ্যমে সর্বোচ্চ পরিমাণ কর পরিশোধ করায় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) কর্তৃক সেরা করদাতার সম্মাননা অর্জন করেছে দেশের ইলেকট্রনিক্স জায়ান্ট ওয়ালটন। ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ফার্ম ক্যাটাগরিতে সর্বোচ্চ পরিমাণ কর প্রদান করায় এনবিআর পাঁচটি প্রতিষ্ঠানকে পুরস্কৃত করে। যার মধ্যে ওয়ালটন মাইক্রো-টেক করপোরেশন প্রথম এবং ওয়ালটন প্লাজা দ্বিতীয় পুরস্কার লাভ করে। যার স্বীকৃতি স্বরূপ জাতীয় রাজস্ব বোর্ড এর কাছ থেকে ট্যাক্স কার্ড ও সনদ লাভ করে।

একইসঙ্গে সর্বোচ্চ পরিমাণ মূল্য সংযোজন কর (মূসক) বা ভ্যাট প্রদান করায় ২৯টি জেলায় সেরা ভ্যাটদাতার সম্মাননা অর্জন করেছে ওয়ালটন প্লাজা। ব্যবসা ক্যাটাগরিতে সারা দেশে মোট ৪৯টি প্রতিষ্ঠানকে সেরা ভ্যাটদাতার পুরস্কার দেয়া হয়। যার মধ্যে ওয়ালটন প্লাজাই পেয়েছে ২৯টি।

সম্প্রতি রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্মাণাধীন জাতীয় রাজস্ব ভবনে অনুষ্ঠিত হয় জাতীয় আয়কর সপ্তায় ওয়ালটনসহ পাঁচটি ফার্মকে ট্যাক্স কার্ড ও সম্মাননা সনদ দেয়া হয়।

এদিকে চলতি মাসে অনুষ্ঠিত জাতীয় ভ্যাট সপ্তাহ উপলক্ষ্যে এনবিআর ২০১৪-১৫ অর্থবছরের জন্য উৎপাদন, ব্যবসা ও সেবা এই তিন ক্যাটাগরিতে জেলা পর্যায়ে সর্বোচ্চ ভ্যাট প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে পুরস্কৃত করে।

ওয়ালটনের অপারেটিভ ডিরেক্টর উদয় হাকিম মনে করেন, এর মাধ্যমে প্রমাণিত হয়- দেশীয় ব্র্যান্ড হিসেবে ওয়ালটন যেমন গ্রাহকপ্রিয়তার শীর্ষে তেমনি যথাযথ কর প্রদানের মাধ্যমে রাজস্ব খাতেও প্রতিষ্ঠানটি রাখছে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা।

২০১৪-১৫ অর্থবছরে ব্যবসা ক্যাটাগরিতে জেলা পর্যায়ে সর্বোচ্চ ভ্যাটদাতা হিসেবে পুরস্কারপ্রাপ্ত ওয়ালটন প্লাজাগুলো হলো: জামালপুর মেডিক্যাল রোডের ওয়ালটন প্লাজা, কিশোরগঞ্জ স্টেশন রোডের ওয়ালটন প্লাজা, মুন্সীগঞ্জ সদর রোডের ওয়ালটন প্লাজা, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কালিবাড়ি মোড়ের ওয়ালটন প্লাজা, সিলেটের আম্বরখানার ওয়ালটন প্লাজা, সুনামগঞ্জ পুরাতন বাসস্ট্যান্ড রোডের ওয়ালটন প্লাজা, মৌলভীবাজার শ্রীমঙ্গল রোডের ওয়ালটন প্লাজা, বাগেরহাট পৌরসভা রোডের ওয়ালটন প্লাজা, সাতক্ষীরার পলাশপোলের ওয়ালটন প্লাজা, বরিশাল সদর রোডের ওয়ালটন প্লাজা, পটুয়াখালী সদর রোডের ওয়ালটন প্লাজা, পিরোজপুর হাসপাতাল রোডের ওয়ালটন প্লাজা, ভোলা সদরের ওয়ালটন প্লাজা, যশোর আরএন রোডের ওয়ালটন প্লাজা, গোপালগঞ্জ গৌরঙ্গী ডিসি রোডের ওয়ালটন প্লাজা, ঝিনাইদহ এইচএসএস রোডের ওয়ালটন প্লাজা, রাজবাড়ী প্রধান সড়কের ওয়ালটন প্লাজা, ফরিদপুর গোয়ালচামটের ওয়ালটন প্লাজা, মাগুরা সৈয়দ আতর আলী রোডের প্লাজা, নড়াইল রূপগঞ্জ বাজারের ওয়ালটন প্লাজা, রংপুর স্টেশন রোডের ওয়ালটন প্লাজা, দিনাজপুরের মডার্ন রোডের ওয়ালটন প্লাজা, নীলফামারীর সৈয়দপুরের ওয়ালটন প্লাজা, পাবনার গোপালপুরের আব্দুল হামিদ রোডের ওয়ালটন প্লাজা, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ইন্দারা রোডের ওয়ালটন প্লাজা, নাটোর কানাইখালীর ওয়ালটন প্লাজা, বগুড়া ঝাউতলার ওয়ালটন প্লাজা, রাজশাহী সাহেব বাজারের ওয়ালটন প্লাজা ও সিরাজগঞ্জের এসএস রোডের ওয়ালটন প্লাজা।

এ প্রসঙ্গে ওয়ালটনের বিপণন বিভাগের প্রধান সমন্বয়ক ইভা রিজওয়ানা বলেন, ওয়ালটন উচ্চ গুণগতমানের পণ্য উৎপাদন এবং সাশ্রয়ী মূল্যে বাজারজাত করে দেশের সব শ্রেণি-পেশার গ্রাহকদের আস্থা অর্জনে সক্ষম হয়েছে। যার ফলে দেশের সর্বত্র ওয়ালটন পণ্যের চাহিদা ও বিক্রি ব্যাপক বেড়েছে। সেই সঙ্গে বাড়ছে ভ্যাট আদায় ও প্রদানের পরিমাণ। ওয়ালটন একদিকে বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করছে, অন্যদিকে সরকারের কর আদায় নীতি যথাযথভাবে অনুসরণের মাধ্যমে দেশের রাজস্ব বৃদ্ধিতেও ভূমিকা রাখছে।

ওয়ালটন গ্রুপের নির্বাহী পরিচালক (পলিসি, এইচআরএম অ্যান্ড অ্যাডমিন) এস এম জাহিদ হাসান বলেন, ‘ওয়ালটন সকল পর্যায়ে স্বচ্ছভাবে ব্যবসা করছে তারই প্রমাণ সেরা করদাতা ও সর্বোচ্চ ভ্যাট দাতার স্বীকৃতি। জেলা পর্যায়ে ব্যবসা ক্যাটাগরির ৬০ শতাংশ পুরস্কারই আমরা পেয়েছি। এতে বোঝা যায় আমরা তৃণমূল পর্যায় থেকে শুরু করে সব জায়গায় সরকারের প্রাপ্য কর পরিপূর্ণভাবে দিয়ে থাকি।’

তিনি বলেন, ‘মফস্বল থেকে শুরু করে ওয়ালটনের প্রতিটি ইউনিট সঠিকভাবে ট্যাক্স, ভ্যাট বা প্রযোজ্য কর পরিশোধ করতে বদ্ধপরিকর। রাজস্ব বোর্ডের কর নীতিমালা যথাযথভাবে অনুসরণ করে ওয়ালটন যথাসময়েই সরকারের প্রাপ্য কর সঠিক পরিমাণে প্রদান করে থাকে। এর মাধ্যমে একদিকে যেমন সরকারের রাজস্ব আয় বাড়ছে, তেমনি সেই আদায়কৃত রাজস্ব দিয়ে সরকার বাস্তবায়ন করছে দেশের আর্থ-সামাজিক খাতের অসংখ্য উন্নয়নমূলক প্রকল্প।’

কয়েক বছর আগেও ফ্রিজ, এয়ার কন্ডিশনার, টেলিভিশনের মতো উচ্চ প্রযুক্তির ইলেকট্রনিক্স অ্যাপ্লায়েন্সের অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটানো হতো আমদানি করা পণ্য দিয়ে। কিন্তু ওয়ালটন দেশেই বিশ্বমানের ইলেকট্রনিক্স ও ইলেকট্রিক্যাল হোম অ্যাপ্লায়েন্সেস উৎপাদন শুরুর মাত্র কয়েক বছরের মধ্যেই এ খাতের চিত্র সম্পূর্ণ বদলে গেছে। এ খাতে দেশ এখন প্রায় স্বয়ংসম্পূর্ণ। মানুষের ঘরে ঘরে সাশ্রয়ী মূল্যে প্রযুক্তি পণ্য পৌঁছে দিয়ে ওয়ালটন এখন গ্রাহকপ্রিয়তার শীর্ষে।

আমদানি নির্ভরতা কাটিয়ে দেশীয় প্রযুক্তি শিল্পের বিকাশ, ব্যাপক কর্মসংস্থান ও দক্ষ জনশক্তি তৈরির মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধিতে ওয়ালটন রাখছে বিরাট ভূমিকা। সেই সঙ্গে বিশাল অবদান রাখছে সরকারের রাজস্ব বৃদ্ধিতেও। যার স্বীকৃতি হিসেবে জাতীয় পর্যায়ে সেরা আয়কর দাতার সম্মাননার পাশাপাশি মিলেছে ২৯টি জেলায় সর্বোচ্চ মূল্য সংযোজন কর (মূসক) বা ভ্যাটদাতার পুরস্কার।

ঢাকাটাইমস