রামপুরায় গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার

রাজধানীর রামপুরা এলাকা থেকে সাদিয়া আক্তার মনি (২৩) নামে এক গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করেছে রামপুরা পুলিশ। শনিবার (১৭ ডিসেম্বর) দুপুর আড়াইটার দিকে ওই মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। মরদেহের শরীরের বিভিন্ন অংশে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। ময়নাতদন্তের জন্য লাশ ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। নিহতের স্বজনরা অভিযোগ করছেন, এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড।

রামপুরা থানার উপ-পুলিশ পরিদর্শক (এসআই) কামরুল হোসেন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘নিহত গৃহবধূর নাম সাদিয়া আক্তার মনি। তার স্বামী মুন্সিগঞ্জের মো. মাসুদ পারভেজ। এই দম্পতি ১২৬/বি মালিবাগ চৌধুরীপাড়া, রামপুরা ঠিকানায় থাকতেন। আজ দুপুর আড়াইটার দিকে ওই বাসার সামনে খাটিয়ার ওপর থেকে তার মৃতদেহ উদ্ধার করি। ময়নাতদন্তের জন্য লাগ মর্গে পাঠানো হয়েছে।’

কামরুল হোসেন আরও বলেন, ‘সাদিয়ার গলার নিচে বাম থেকে ডান পর্যন্ত অর্ধচন্দ্রাকৃতির কালো দাগ পাওয়া গেছে। এ ছাড়া চোখের ওপরের দিকে নীল রঙের ও বাম হাতের কনুই থেকে কব্জি পর্যন্ত লালচে দাগ দেখা গেছে।’

এই পুলিশ কর্মকর্তা আরও জানান, সাদিয়া-পারভেজ দম্পতির মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া হতো। সাদিয়ার মৃত্যু আত্মহত্যা নাকি হত্যা, তা ময়নাতদন্তের পর জানা যাবে বলে জানান কামরুল হোসেন।

পুলিশ জানায়, সকাল ১১টার দিকে সাদিয়াকে অসুস্থ অবস্থায় স্থানীয় কমিউনিটি হাসপাতালে নিয়ে গেলে তাকে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করে। সংবাদ পেয়ে পুলিশ মৃতদেহ উদ্ধার করে এবং পরে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজে পাঠায়।

নিহত গৃহবধূর ছোট ভাই আশিকুর রহমান মুন্না বাংলা ট্রিবিউনকে বরেন, ‘পাঁচ বছর আগে আমার বোনের বিয়ে হয়। তিন বছর আগে এক ছেলে হয়। কিন্তু বিয়ের কয়েক বছর পর থেকেই তাদের মধ্যে ঝগড়া লেগে থাকত। আমার দুলাভাই টাকার জন্য খুব চাপ দিত।’

মুন্না অভিযোগ করে বলেন, ‘এটা আত্মহত্যা নয়, হত্যা। আমার বোনকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে।’ তিনি আরও জানান, বৃহস্পতিবার (১৫ ডিসেম্বর) স্ত্রী-সন্তানকে নিয়ে মুন্সিগঞ্জ যান পারভেজ। পরদিন শুক্রবার (১৬ ডিসেম্বর) সন্তানকে দাদার বাড়িতে রেখেই স্ত্রী সাদিয়াকে নিয়ে ঢাকায় ফিরে আসেন তিনি।

বাংলা ট্রিবিউন

Comments are closed.