মুন্সীগঞ্জে আশংকাজনক হারে বাড়ছে শিশু শ্রম

মুন্সীগঞ্জে শিশু শ্রমিকের সংখ্যা দিন-দিন বেড়েই চলছে। আজকাল রাস্তা-ঘাটে অল্পবয়সী ছেলেদের ওয়েলডিং, সি.এন.জি, রিক্সা, ঠেঁলা গাড়ি চালানোর মতো কঠিন সব কাজ করতে দেখা যায়। যে বয়েসে তাদের হাতে কলম আর বই থাকার কথা, সেই বয়েসে নেমে পরে রিক্সা ও ওয়েলডিং এর কাজের মতো কঠিন সব কাজে। মুন্সীগঞ্জ শহরের বিভিন্ন কলকারখানাসহ নানা ঝুঁকিপূর্ন কাজে শিশুদের কাজ করতে দেখা যায়।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, সাম্প্রতিক মুন্সীগঞ্জ জেলার উপজেলাগুলোতে ৯ থেকে ১৩ বছর ছেলেদের বিভিন্ন কারখানায় ও রাস্তার আশেপাশে নানা ঝুঁকিপূর্ণ কাজ করছে। এ বয়সে নিজেরা কি করছে তা জানেনা। সংসারের অভাবে অধিকংশ ছেলেরা ঝুঁকি নিয়ে কাজ করছে বিভিন্ন কলকারখানায় ও রাস্তাঘাটে। কাজ করার কারণে পাচ্ছে না তাদের প্রাথমিক শিক্ষা গ্রহনের সময়। শিক্ষা নিয়ে ব্যস্ত থাকলে সংসার চালাবে কে। নিজের ও পরিবারের সবার খাবার যোগাতে শিশুরা লেখাপড়ার পরিবর্তে কঠিন সব পেশা বেছে নিচ্ছে। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নেমে পড়ছে সংসার নামক এক বাস্তবতার মহান যুদ্ধে। কি তাদের ভবিষ্যৎ সেটাও জানেনা।

পরন্ত এক বিকেলে মুক্তারপুর বিসিক এলাকায় ঘুরতে গিয়ে শিশু শ্রমিক মিলন রাজবংশী সাথে দেখা হয়। বয়স ১২ বছর। সে সিরাজদিখান উপজেলার ইছাপুরা ইউনিয়নে রাজদিয়া গ্রামের লক্ষন রাজবংশীর ছেলে। মিলনের পরিবারে বাবা-মা ও তার দুই ছোট ভাই। বাবা নদীতে মাছ ধরে অনেক কষ্টে সংসার চালায়। মিলন ২০১৫ সালে পি এস সি পরীক্ষা পাশ করে। পরিবারে বড় ছেলে মিলন সংসার এর অভাবের তারনায় আর পড়তে পারেনি। পরে মুক্তারপুর বিসিক এলাকার ওয়েলডিং এর দোকানে কাজ করে। মাত্র ৬০টাকা রোজে কাজ করে। প্রতি মাসে বাবাকে ১৫শত টাকা দেয়। মিলন ও তার বাবার টাকা দিয়ে সংসার চলে যায়। তার ছোট ভাই তৃতীয় শ্রেণীতে পড়ে ও অপর জন বয়সে খুব ছোট। এভাবেই চলেছে মিলনের বাস্তবতার মহান যুদ্ধ।

অপর দিকে মুন্সীগঞ্জ শহর কাচারি এলাকায় শিশু শ্রমিক মো. শাহিন এর সাথে দেখা হয়। বয়স ১১ বছর। সে মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার মধ্য কোর্টগাঁও মোহাম্মদ বাদশাহ মিয়ার ছেলে। শাহিনের মা বাড়িতে কাজ করে, পিতা বিদেশ থাকে। তার পিতা মায়ের কোন খোঁজ খবর নেয়না। তার খবর রাখে না। তাই মায়ের এবং তার খাবার যোগাতে সি.এন.জি মেরামতের কাজ করে। পড়াশোনা করছো না কেন? জানতে চাইলে শাহিন বলে, পেটের দায়ে কাজ করি। পড়ালেখা করলে আমার মাকে দেখবে কে? খাওয়াবে কে? কাজ করে টাকা পাই, তা দিয়ে সংসার চলে। পড়ালেখার করলে খাবো কি? এসব প্রশ্নের আর উত্তর মিলে না।

এভাবেই মুন্সীগঞ্জ জেলার বিভিন্ন উপজেলার হাট-বাজারে শহরের অলি গলিতে শিশু কিশোরদের নানা রকম কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করতে হয়। পড়াশোনা করার ইচ্ছা থাকলেও আর হয়ে উঠে না। এদের ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়ে শিক্ষা কার্যক্রম থেকে ঝড়ে পড়া শিশুদের শিক্ষামুখী করে তুলবে সরকার এমনটাই প্রত্যাশা সকলের।

নয়াদিগন্ত