অন্তঃসত্ত্বা কিশোরীর ইজ্জতের মূল্য ২০হাজার টাকা!

টঙ্গীবাড়ী উপজেলার হাসাইল বানারী ইউনিয়নের বানরী গ্রামের এক অন্তঃসত্ত্বা কিশোরীর ইজ্জতের মূল্য ২০ হাজার টাকা নির্ধারণ করেছে গ্রাম্য আদালত। বানারী চরাঞ্চলে ধর্ষিতা মেয়ের বাড়িতে মঙ্গলবার রাতে এই গ্রাম্য শালিশী বসে। হাসাইল বানারী ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ড সদস্য আলি আকবর ঢালী, ৭,৮,৯ সংরক্ষিত মহিলা সদস্য কাজলী মেম্বার এবং কাদির বেপারীর নেতৃত্বে ধর্ষকের কাছ হতে টাকা খেয়ে গ্রাম্য শলিশরা ওই ধর্ষিতার ইজ্জতের মূল ২০হাজার টাকা নির্ধারণ করে ধর্ষিতাকে এলাকা থেকে তাড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এর আগে বানারী চরাঞ্চলেন ওই কিশোরীকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে, বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণ করার অভিযোগ করেছে ধর্ষিতা।

পরে ওই কিশোরী ধর্ষিতা অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পরলে তাকে বিয়ে না করে প্রতারনা করার অভিযোগ উঠেছে একই গ্রামের যুবক সোহেল মুন্সির বিরুদ্ধে।
ধর্ষিতা জানান, এক বছর পূর্বে বানরী গ্রামের করিম আলি মুন্সির ছেলে সোহেল (২৫) তাকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুলে । পরে সে আমাকে অচিরেই বিয়ে করবে বলে তার আতœীয়র বাড়িতে নিয়ে জোরপূর্বক আমার ইচ্ছার বিরুদ্ধে মিলামিশা করে। পরে বিয়ে করার কথা বলে আরো কয়েকবার তার বন্ধু-বান্ধব ও আত্বীয়-স্বজনের বাসায় নিয়ে একাধিকবার আমার সাথে শারীরিক মিলামিশা করে। আর এরই মধ্যে আমি অন্তসত্ত্বা হয়ে পরি।

এই বিষয়টি আমি সোহেলকে জানালে, সোহেল রেগে গিয়ে আমার সাথে খারাপ আচরন করে। পরে আমি আমার বাবা মা ও এলাকাবাসীকে ঘটনাটি জানাই । ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার জন্য সোহেল ও তার পরিবার আমাদের পরিবারকে বিভিন্ন ভাবে হুমকি ধমকি দিচ্ছে। কিশোরী আরও জানায়, ঘটনাটি এলাকায় জানাজানি হয়ে গেছে এখন সোহেল আমাকে বিয়ে না করলে আত্মহত্যা ছাড়া আমার আর কোন উপায় থাকবে না।

এদিকে এলাকাবাসী জানান,সোহেল এর আগেও ওই এলাকার আরেকটি মেয়েকে বিয়ে করার কথা বলে একাধিকবার শারীরিক সম্পর্ক গড়ে তুলে। কয়েক মাস পরে যখন ওই মেয়ে অন্তসত্ত্বা হয়ে পরে তখন ব্যাপারটি সোহেলকে জানালে সোহেল তাদের সম্পর্কের কথা অস্বীকার করলে মেয়েটি আতœহত্যা করে মারা যায়। এলাকাবাসী আরো জানায়,সোহেলের বিরুদ্ধে একাধিক মেয়েকে ধর্ষনের অভিযোগ রয়েছে।তাদের দাবী সোহেলকে আইনের আওতায় এনে কঠিন শাস্তি প্রদান করা হোক।

এ ব্যাপারে আলী আকবর মেম্বার এর সাথে যোগাযোগ করা হলে সে বিচার করার বিষয়টি অস্বীকার করে জানান, আমি অন্য মানুষের মুখে বিষয়টি শুনেছি। কিন্তু তারা যদি আমাদের কাছে না আসে তাহলেতো আমরা বিচার কিংবা আইনগত কোন পরমর্শ দিতে পারিনা। এ ব্যাপারে টঙ্গীবাড়ী থানা ওসি আলমগীর হোসাইন জানান, এখনো থানায় অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ হলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যাবস্থা নেওয়া হবে।

বিক্রমপুর চিত্র

Comments are closed.