মুন্সীগঞ্জ-গজারিয়া ফেরিরুট পুনরায় চালুর উদ্যোগ

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সঙ্গে দক্ষিণাঞ্চলের ২১ জেলার বিকল্প সংযোগ হিসেবে মুন্সীগঞ্জ-গজারিয়া ফেরি সার্ভিস খুবই গুরুত্বপূর্ণ। পদ্মা সেতু নির্মিত হলে চট্টগ্রাম বন্দরের সঙ্গে মোংলা বন্দরের যোগাযোগ দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। অথচ এই ফেরিরুটটি সচল নয়। চট্টগ্রামের সঙ্গে দেশের দক্ষিণ অঞ্চলের ১০-১২টি জেলার সড়কপথের সংযোগ স্থাপনে একমাত্র রুটে পড়েছে হরিণাঘাট (চাঁদপুর)-আলুবাজার (শরীয়তপুর) ফেরিরুট। এই ফেরিঘাটের দুপাশের সড়ক সম্প্রসারণ করা জরুরি। তদুপরি যে সড়ক বিদ্যমান, সেটিও খুবই নাজুক অবস্থায় আছে। দেশের উন্নয়নের স্বার্থে তাই গজারিয়া ফেরি সার্ভিস চালু করা এবং হরিণাঘাট-আলুবাজার ফেরিঘাটের দুপাশের সড়ক সংস্কার ও সম্প্রসারণ জরুরি হয়ে পড়েছে।

উপরোল্লিখিত দুটি বিষয় বিবেচনায় নিয়ে নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান সম্প্রতি ডিও (আধাসরকারি পত্র) দিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রীর কাছে।

জানা গেছে, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সঙ্গে দক্ষিণাঞ্চলের ২১ জেলার বিকল্প সংযোগ হিসেবে মুন্সীগঞ্জ-গজারিয়া ফেরি সার্ভিস গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে পদ্মা সেতু হলে চট্টগ্রাম বন্দরের সঙ্গে মোংলা বন্দরের যোগাযোগ বিশেষ গুরুত্ব বহন করবে।

এছাড়া হরিণাঘাট-আলুবাজার ফেরিরুটের চাঁদপুর ও শরীয়তপুরÑ এ দুই প্রান্তের সড়ক খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এ রুটে সুষ্ঠু যানচলাচলের জন্য ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তা সংস্কার ও সম্প্রসারণ একান্ত প্রয়োজন বলে চিঠিতে উল্লেখ করেন নৌমন্ত্রী।

সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ জানিয়েছে, মুন্সীগঞ্জ সড়কটি ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ৩৫তম কিলোমিটার থেকে মুন্সীগঞ্জ শহর পর্যন্ত বিদ্যমান। এর দৈর্ঘ্য ১৪ কিলোমিটার, ফুলদী ও মেঘনা নদীসহ। সড়কটির ৭ কিলোমিটারে ফুলদী নদীর রসুলপুরে সওজ বিভাগের ফেরি চালু রয়েছে। সড়কের ১০ ও ১১ কিলোমিটারে মেঘনা নদী, যেখানে মুন্সীগঞ্জ-গজারিয়ার মধ্যে ফেরি সার্ভিস চালুর প্রস্তাবনা আছে। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ভবেরচর নামক স্থান থেকে মুন্সীগঞ্জ জেলা শহর পর্যন্ত বিদ্যমান সড়কের প্রশস্ততা ১২ ফুট। এই সড়কে ৯টি পুরনো আরসিসি বক্সকালভার্ট ও ৪টি বেইলি ব্রিজ রয়েছে। বিদ্যমান সড়কের প্রশস্ততা কম হওয়ায় স্বাভাবিক যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে; দুর্ঘটনার আশঙ্কাও থাকে। তাই মুন্সীগঞ্জ-গজারিয়ার মধ্যে ফেরি সার্ভিস চালু করতে ভবেরচর থেকে মুন্সীগঞ্জ জেলা শহর পর্যন্ত ১৪ কিলোমিটার সড়ক, কালভার্ট ও বেইলি ব্রিজ সংস্কার করা প্রয়োজন।

জানা গেছে, বন্দর নগরী চট্টগ্রামের সঙ্গে দক্ষিণাঞ্চলের সড়কপথের সংযোগ স্থাপনকারী যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম হরিণা-আলুবাজার ফেরিরুট। চাঁদপুর সদর উপজেলাধীন ভাটিয়াপুল চৌরাস্তা থেকে হরিণা ফেরিঘাট পর্যন্ত বিদ্যমান ১৩ কিলোমিটার রাস্তা সংস্কার ও সম্প্রসারণ করতে বলা হয়েছে।

নৌমন্ত্রীর ডিওতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, শরীয়তপুর জেলার নরসিংদীপুর উপজেলাধীন ফেরিঘাটের মোড় থেকে বিদ্যমান আলুবাজার ফেরিঘাট পর্যন্ত ১ কিলোমিটার এবং আলুবাজারের বিদ্যমান ফেরিঘাটের পার্কিং ইয়ার্ড থেকে আধাকিলোমিটার রাস্তা সংস্কার ও সম্প্রসারণ করতে হবে।

আমাদের সময়

Comments are closed.