‘মুক্তিযুদ্ধের সময় এতো মুক্তিযোদ্ধা দেখিনি’

মহান একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে বিএলএফ-এর মুন্সীগঞ্জ জেলার (তৎকালীন মহকুমা) প্রধান ছিলেন।তার নেতৃত্বে মুক্তিযোদ্ধারা একের পর এক সফল অপারেশন চালিয়ে ১১ ই ডিসেম্বর হানাদার মুক্ত করে মুন্সীগঞ্জ।

আনিসজ্জামান আনিস গত দুই মেয়াদে মুন্সীগঞ্জ জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ইউনিট কমান্ডের নির্বাচিত কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।তিনি মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন গত দুই মেয়াদ ধরে।

বীর মুক্তিযোদ্ধা আনিসজ্জামান আনিস মুন্সীগঞ্জ হরগঙ্গা মহাবিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদের জিএস ও ভিপি ছিলেন।দুইবার ছিলেন মুন্সীগঞ্জ পৌরসভার চেয়ারম্যান।ছিলেন জেলা যুবলীগের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান।বর্তমানে এই বীর মুক্তিযোদ্ধা মুন্সীগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন।

তার বড় ভাই মো. মহিউদ্দিন ছিলেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের চিফ সিকিউরিটি গার্ড, মুক্তিযুদ্ধে বিএলএফের ঢাকা বিভাগীয় প্রধান এবং বর্তমানে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি।মুন্সীগঞ্জ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কার্যালয়ে মিডিয়া বিমুখ এই বীর মুক্তিযোদ্ধা আনিসজ্জামান আনিস মুন্সীগঞ্জের মুক্তিযুদ্ধ ও বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে খোলামেলাভাবে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন।

যে স্বপ্ন নিয়ে মুক্তিযুদ্ধ করেছিলাম, সেটার বাস্তবায়ন আজও হয়নি।বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন স্থানে যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছি।কিন্তু দেশ স্বাধীন হওয়ার তিন বছর যেতে না যেতেই জাতির জনককে স্বপরিবারে হত্যা করা হয়।সেখানেই আমাদের অগ্রযাত্রা ব্যাহত হয়।

বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন ছিলো সোনার বাংলা গড়ে তোলা-তাকে স্বপরিবারে হত্যা মধ্য দিয়ে তার সে স্বপ্ন বাধাগ্রস্থ হয়।ভিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন সরকার এসে বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়ে তোলাকে বাধাগ্রস্থ করে।বঙ্গবন্ধু কন্যা সেই বাধাকে দূর করে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন।

মুক্তিযুদ্ধের তালিকা প্রসঙ্গে মুক্তিযোদ্ধা আনিস উজ্জামান আনিস বলেন, বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন সরকার এসে অগণতান্ত্রিকভাবে তাদের ইচ্ছেমতো বাড়িয়ে নিয়েছে।বর্তমানে মুক্তিযোদ্ধা সনদ বন্ধ আছে, শুধুমাত্র সেনাবাহিনীর বেলায় সনদ দেয়া হচ্ছে।যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে তালিকা প্রনয়ণ করা হচ্ছে।তিনি বলেন, বিএনপি সরকারের আমলে অমুক্তিযোদ্ধা প্রয়াত শাহজাহান সিকদার জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার হয়েছিলো।তার অধীনস্থ অনেক ভুয়াকে মুক্তিযোদ্ধা সার্টিফিকেট দিয়েছে।

এটা আমাদের জন্য লজ্জার।সে কখনও মুক্তিযোদ্ধা ছিলো না, অথচ বলে বেড়াতো আমার সঙ্গে নাকি মুক্তিযুদ্ধ করেছিলো।সেতো কখনও মুক্তিযুদ্ধ করেনি।ঢেউটিন চুরি করার দায়ে চাকরি হারিয়েছিলো।

বিএলএফ-এর জেলা কমান্ডার আনিস উজ্জামান আনিস বলেন, অনেক অমুক্তিযোদ্ধারাই এখন মুক্তিযোদ্ধা সনদের জন্য ধরণা দিচ্ছে, বিভিন্ন লোকের বিভিন্ন মাধ্যমে-এটাকে আমি সন্দেহের চোখে দেখছি।মুক্তিযুদ্ধের সময়তো এতো মুক্তিযোদ্ধা দেখিনি।এখন এতো মুক্তিযোদ্ধা কোথা থেকে এলো?

মুন্সীগঞ্জের মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি সংরক্ষণ প্রসঙ্গে এই বীর মুক্তিযোদ্ধা বলেন, এতে তিনি সন্তুষ্ট নন।সংরক্ষণ সামান্য যা কিছু হয়েছে-তা গনার মধ্যে পড়ে না।পাকিস্থানি সেনাবাহিনী মুন্সীগঞ্জে প্রথম অপারেশন চালায় আব্দুল্লাহপুর গ্রামের পালবাড়িতে।সেখানে ৩০-৩২ জনকে হত্যা করা হয়।

এরপর কেওয়ার কেদার রায়ের চৌধুরী বাড়িতে এবং হরগঙ্গা কলেজ সংলগ্ন একটি ছাড়া ভিটায় (পরিত্যক্ত) বধ্যভূমি করে শত শত মানুষকে সেখানে হত্যা করা হয়।কিন্তু সেগুলো আজও সংরক্ষণ করা হয়নি।

তিনি বলেন, আমাদের নেত্রী শেখ হাসিনার ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে যে কাজ করে যাচ্ছেন আমরা তার বাস্তবায়ন এবং শিক্ষায় এগিয়ে যেতে পারি তাহলে দেশ উন্নত হবে। মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্মের জন্য সরকার কাজ করে যাচ্ছেন।

বীর মুক্তিযোদ্ধা আনিস উজ্জামান আনিস বলেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় দেশকে এগিয়ে নিতে হলে প্রথমে শিক্ষা, শান্তি ও ঐক্য দরকার।বিএনপি-জামায়াত যে জ্বালাও-পোড়াও করছে, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে তাদেরকে দমন করতে হবে। দমন করতে হলে শিক্ষার মাধ্যমে দেশ এগিয়ে নেয়া যাবে।

তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকার স্বাধীনতার পক্ষে কাজ করে যাচ্ছেন।বিরোধী দল (বিএনপি) মূল চেতনা থেকে দূরে রাখার জন্য জ্বালাও-পোড়াও আন্দোলন করছে।সরকারকে নানাবিধ বিভ্রান্ত করেছে, সরকার সেটাকে মোকাবেলা করে এগিয়ে যাচ্ছে।

পূর্ব পশ্চিম