দুই যোদ্ধা স্বাধীনতার ৪৫ বছরেও মুক্তিযোদ্বা সনদ ও মুক্তি ভাতা পায়নি

এম.এম.রহমান: পার হয়েছে স্বাধীনতার ৪৫ বছর তবুও পাওয়া হয়নি মুক্তিযোদ্বার সনদ ও মুক্তি ভাতা। এমনটা ঘটেছে মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার আধারা ইউনিয়নের তাতিকান্দি গ্রামের জগদিশ চন্দ্র নাগ ও যুদ্ধহত মুক্তিযোদ্ধা আমির হোসেন খানের সাথে। দেশের সরকার পরির্বতনের সাথে সাথে মুক্তিযোদ্ধাদের ভাগ্য পরির্বতানে ফলে প্রকিত যোদ্ধারা বঞ্চিত হচ্ছে এমনটা মনের করেন ততকালীন ভারতের আগরতলা মুক্তিযোদ্ধা টেনিং ক্যাম্পের টেনিং নিতে যাওয়া বাঙ্গালীদের অভ্যথনা কারী যোদ্ধা জগদিশ চন্দ্র নাগ।

অপরদিকে একই গ্রামের যুদ্ধাহত আমির হোসেন খান নামের এক পঙ্গু মুক্তিযোদ্ধা যিনি দীর্ঘ ৪৫ বছর লড়াই করে যাচ্ছেন জীবন সংগ্রামের সাথে। এই যোদ্ধা স্বাধীনতা সংগ্রামে অংশ নিয়ে গ্যানেড বিস্ফোরণে হারিয়েছেন পা। তার পর থেকে মানবেতর জীবন যাপন করে আসছে তিনি। নিজে করতে পারেননি লেখা পড়া ইচ্ছা ছিলো ছেলে-মেয়েদের পড়া লেখা করিয়ে উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত করা তাও হয়নি অভাব অনটনের কারনে। সনদ পাইয়ে দেয়ার কথা বলে বিগত বিএনপি-জামায়েত জোট সরকারে আমলে স্থানীয় এক প্রভাবশালী নেতা তার ছাড়পত্র নিয়ে আর দেননি ফেরত। তার পর থেকে আর পাওয়া হয়নি ক্গাজ গুলো। ফলে সনদ পাওয়ার হয়নি তার।

জগদিশ চন্দ্র নাগ ১৯৭১ সালের ১৬ই মার্চ ততকালিন বরিশালের ভোলায় বিয়ে করেন । বিয়ে করা বৌকে নিয়ে বাড়ীতে আসার পরের দিন ২৫ মার্চ রাতে শুরু হয় পাকিস্তান বাহীনির গুলি,গ্যানেড বিস্ফোরনের মাধ্যমে গনহত্যা । নিজবাড়ী চিতলিয়া বাজারের পাশের বাড়ীতে বসে বসে শুনছিলেন বোম আর গুলির বিকট শব্দ। তখনই বেবে নিয়েছিলেন, এই বুঝি বেজে গেলো যুদ্ধের দামামা। সকালের আলো ফুটতেই শহরের কয়েজন বন্ধুকে নিয়ে জেলা ট্রেজারী থেকে রাইফেল লুট করে চলে যান শহরের লঞ্চঘাট এলাকায়। সেখানে পাকিস্তান বাহীনির গান বোর্টে উদ্দ্যেশে রাইফেল তাক করে বসে থাকেন সাথে থাকা বন্ধুরা। তিনি আস্ত্র চালাতে পারেন না বলে চায়ের দোকানে বসে অপেক্ষা করছিলেন কখন আসবে গান বোর্ট। সারাদিন অক্ষোর করার পরে চলে আসেন বাড়ীতে । সেখান থেকে নতুন বৌকে বোরকা পরিয়ে নিজে পাগলের বেশ ধরে পায়ে হেটে চলে যান ভারতের আগরতলায়।

সেখানে কংগ্রেস ভবন ইউথ ক্যাম্পের রিসিপশনিষ্ট হিসাবে যোগদানের মধ্যে দিয়ে দেশের মুক্তিযোদ্ধাদের টেনিংয়ের ব্যবস্থা নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করেন এই যোদ্ধা। দীর্ঘ নয় মাসের রক্তক্ষী যুদ্ধের পরে স্বাধীন হয় সবুজ বাংলা। ৭৫রে বঙ্গবন্ধু’শ পরিবারে হত্যার পরে স্বাধীনতা বিরোধীরা ক্ষমতায় আসলে নিজেকে গুটিয়ে নেন তিনি। ফলে আর চাওয়া হয়নি মুক্তিযুদ্ধের সনদ। দীর্ঘ ২১ বছর পরে ১৯৯৬ সালে আওয়ামীলীগ সরকার ক্ষমতায় আসলে আবেদ করেন সনদের জন্য কিন্তু পাওয়া হয়নি সেই সনদ আবারো চলে আসে বিএনপি সরকার। তার পরে আবারো গুটিয়ে নেন নিজেকে। পরে আবার আওয়ামীলীগ সরকার ক্ষমতায় আসলে পুনরায় আবেদন করেন কিন্তু এখনো পাওয়া হয়নি তার সনদ।

অপর আরেক যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা আমির হোসেন খান স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশ নেয়ার জন্য চলে যান ভারতে। সেখানে ৩ মাসের টেনিং শেষে চলে আসেন দেশের কুমিল্লা জেলায়। সেখানে দু’টি সম্মুখ যুদ্ধে অংশনেন এই যোদ্ধা। দ্বিতীয় সম্মুখ যুদ্ধ শেষে ২২ জনের একটি মুক্তিযোদ্ধার দল ফিরার পথে বিস্ফোরন হয় গ্যানেড। এতে ঘটনা স্থলেই নিহত হয় ২০ মুক্তিবাহিনি। পা হারিয়ে প্রানে বেঁচে যান আমির হোসেন খান। তার পর দেশ স্বাধীন হলে স্বাধীনতা পায়নি আমির হোসেন খাঁন। পা হারানো যন্ত্রনা নিয়ে কাটিয়ে দিলেন স্বাধীনতার ৪৫টি বছর। প্রতি বছরে স্বাধীনতা ও বিজয় দিবসের দু’টি সম্মাননা ছাড়া পাওয়া হয়নি মুক্তিযোদ্ধার সনদ ও মুক্তিযোদ্ধার ভাতা। জেলায় অনেক ভূয়া মুক্তিযোদ্ধারা সনদ ও ভাতা পেলেও প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের একটি বিশাল অংশ এখনো পায়নি সনদ। তিনি আক্ষেপ করে বলেন গ্যানেড বিস্ফোরনে পা না হারিয়ে প্রান হারালে ভালো হতো তাহলে আর এমন অভাব অনটনের জীবন যাপন করতে হতোনা। দেশের জন্য যুদ্ধ করেও মরার পরে দেশের পতাকাটা বুকে জড়ানো হবেনা এটা মানতে পারছিনা।

অবহেলিত মুক্তিযোদ্ধা ও ভূয়া মুক্তিযোদ্ধারে তালিকা করে যথাযথ ব্যবস্থার কথা জানিয়ে জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আনিছুজ্জামান বলেন, জেলা যে সব প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধার নাম বাদ পরেছে তাদের নাম অন্তরভুক্ত করার লাক্ষে চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। পাশাপাশি যে সব ভূয়া মুক্তিযোদ্ধার নাম অন্তরভুক্ত করা হয়েছে তাদেও নাম বাদ দেয়ার চেষ্টাও চলছে।

চমক নিউজ

Comments are closed.