ভিক্ষুকদের জন্য আনা সামগ্রী: কর্তৃপক্ষের উদাসীনতায় বিনষ্ট হওয়ার পথে

মুন্সীগঞ্জে ইসলামিক ফাউন্ডেশন যাকাত ফান্ডের টাকায় কেনা সেলাই মেশিন ও ভ্যান গাড়ি ভিক্ষুকদের বিতরণ না করায় এগুলো ব্যবহারের অনুপযোগি হয়ে পড়ছে। মুন্সীগঞ্জে ভিক্ষুকদের জন্য আনা সামগ্রী বিতরণে কর্তৃপক্ষের উদাসীনতায় বিনষ্ট হওয়ার পথে। এগুলো বিতরণ করার কথা থাকলেও নানা জটিলতার ফাঁদে ফেলে বিতরণ করা থেকে বিরত থাকার অভিযোগ উঠেছে। অনুসন্ধানে জানা গেছে, জেলার অসহায় গরীবদের আত্মনির্ভরশীল করার জন্য যাকাত ফান্ডের টাকায় কেনা ১০টি ভ্যান ও ৯০টি সেলাই মেশিন দেয়ার কথা থাকলেও পরবর্তীতে জেলা উন্নয়ন ও সমন্বয় কমিটির সভায় সিদ্ধান্ত হয় বরাদ্ধকৃত সেলাই মেশিন ও ভ্যান গরীবদের নয় ভিক্ষুকদের দেয়া হবে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসারগণ জানান, উপজেলা পর্যায়ে যাকাত কমিটির সদস্য হওয়ায় মুন্সীগঞ্জ জেলা প্রশাসন ছয় উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তাকে ভিক্ষুকদের তালিকা পাঠানোর নির্দেশ দেন। মুন্সীগঞ্জ ইসলামিক ফাউন্ডেশন সূত্রে জানা যায়, প্রায় ৬মাস পর ভিক্ষুকের তালিকা হাতে পায় জেলা প্রশাসন ও ইসলামিক ফাউন্ডেশন। ভিক্ষুকের তালিকাটি যাচাই বাছাই হচ্ছে বলে জানা গেছে।

মুন্সীগঞ্জে ছয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার তালিকা অনুযায়ী জেলায় ভিক্ষুক রয়েছে ১৯১জন, আর এ জেলাকে ভিক্ষুকমুক্ত করতে জেলা প্রশাসন ও ইসলামিক ফাউন্ডেশন সেলাই মেশিন ও ভ্যান বিতরণের সিন্ধান্ত নেয়। চলতি অর্থ বছরে মুন্সীগঞ্জ থেকে প্রায় ১৩ লক্ষ যাকাতের টাকা আদায় হয়। কেন্দ্র থেকে প্রায় সাড়ে ৬ লাখ টাকা মুন্সীগঞ্জের জন্য বরাদ্দ হয়। গরীবের মাঝে বিতরণের লক্ষে সেই টাকা দিয়ে ১০টি ভ্যান গাড়ি ও ৯০টি সেলাই মেশিন কেনা হয়েছিল জুন মাসের দিকে। এর পর থেকে ৯০টি সেলাই মিশিন মুন্সীগঞ্জ ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ষ্টোরে পড়ে আছে। ষ্টোরে পরে থাকায় মেশিনগুলো ক্রমেই অকেজো হয়ে যাচ্ছে। অপরদিকে ১০ ভ্যানগাড়ি মুন্সীগঞ্জ জেলা সার্কিট হাউজের মাঠে খোলা আকাশের নিচে মাসের পর মাস ফেলে রাখায় সেগুলোও নষ্ট হতে চলেছে।

স্থানীয়রা অভিযোগ করে বলছেন ভিক্ষুকরা সাধারণত সেলাই কাজে পারদর্শী নয় সে কারণে তাদের মাঝে এগুলো বিতরণ করা হলে তারা নামে মাত্র মূল্যে অনত্র বিক্রি করে দিতে পরে। মুন্সীগঞ্জ ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উপ পরিচালক বজলুর রশীদ জানান, ২০১৪-১৫ ও ২০১৫-১৬ অর্থ বছরের বরাদ্ধ এগুলো। যথা সময়ে বিতরণ করা না হলে মূল্যবান এ সেলাই মিশিন ও ভ্যান গাড়িগুলো অকেজো হবে তাই তারিখ নির্ধারন করা হচ্ছে এগুলো বিতরনের জন্য।

তিনি আরো জানান, জেলাকে ভিক্ষুক মুক্ত করতে শর্তসাপেক্ষে জেলার ১৯১ জন ভিক্ষুকদের মাধ্যে ১০০জন ভিক্ষুকদের সেলাই মেশিন ও ভ্যান গাড়ি বিতরণ করা হবে যা তারা বিক্রি করতে পারবেনা এবং ভিক্ষাবৃত্তি কাজে জড়াতে পারবেনা। অন্যদের পর্যায়ক্রমে দেয়া হবে।

এদিকে, যাকাত ফান্ডের অর্থে কেনা এসব ভ্যান গাড়ি গুলো পড়ে থাকতে থাকতে অকেজো হয়ে যাচ্ছে। স্থানীয়রা বলছে ভিক্ষুকরা এগুলো পেলে তাদের কাছ থেকে কৌশলে এক শ্রেণির দালালরা স্বল্প মূল্যে নিয়ে নিতে পারে। তাই ভিক্ষুকদের তালিকা বাদ দিয়ে নিজ নিজ এলাকার চেয়ারম্যান মেম্বারদের দিয়ে তালিকা তৈরি করে অসহায় গরীবদের মাঝে যাকাতের অর্থে কেনা এসব সেলাই মেশিন ও ভ্যানগাড়ি বিতরণ করলে লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য বাস্ত বায়ন হবে। তা ছাড়া ভিক্ষুকরা সেলাই মেশিনে কাজে পারদর্শী না বরং আগে সেলাই মেশিনের কাজ শিখিয়ে তাদের মাঝে এগুলো বিতরণ করলে সার্থক হবে। জেলা প্রশাসক সায়লা ফারজানা জানান ,এ সংক্রান্ত ফাইলটির কোথায় আছে তা খোঁজ খবর নেয়া হচ্ছে খুব দ্রুতই যাকাত ফান্ডের অর্থে কেনা এসব ভ্যান গাড়ি ও সেলাই মিশিনগুলো বিতরণ করা হবে।

এ ওয়ান নিউজ

Comments are closed.