পদ্মায় চলছে বাংলা-চায়নার মাখামাখি

চীন বাংলাদেশে নির্মাণ কাজের পুরোনো বন্ধু। অবকাঠামো উন্নয়নে বাঙালি-চাইনিজ আত্মার আত্মীয়। দৃশ্যমান বড় প্রকল্প, বিশেষ করে সড়ক এবং সেতু নির্মাণে চীন, জাপান এবং দক্ষিণ কোরিয়ার নাম না বললেই নয়।

দেশের সবচেয়ে বড় প্রকল্প পদ্মাসেতুতেও চীনা বন্ধুরা হাত মিলিয়েছেন। চীনের বিখ্যাত নির্মাণ প্রতিষ্ঠান ‘চায়না মেজর ব্রীজ ইঞ্জিনিয়ারিং কর্পোরেশন’ সেতুর মূল কাজ করছে।

সেই সুবাধে প্রকৌশলীসহ চীনের শতাধিক নাগরিক এখন পদ্মা পাড়ে। দিন কাটে বাঙালির সঙ্গে। রাতও তাই। চাইনিজ-বাঙালি হাতে হাতে রেখে নির্মাণ করছেন স্বপ্নের পদ্মাসেতু।

মূল কাজে চাইনিজ প্রকৌশলীরা থাকলেও মূলত তিন সহস্রাধিক বাঙালি শ্রমিকের উপরেই তাদের কাজের নির্ভরতা। ইশারা আর উভয়ের আদো আদো ভাষায় একে অপরের কাজের বন্ধু। ভাষার ব্যবধান মনের ব্যবধান যে বাড়াতে পারে না, তার প্রমাণ মিলছে পদ্মায়।

সোমবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, চাইনিজ এবং বাঙালি মিলেই নানা কাজ করছেন তারা। গায়ের রং আর ভাষায় পার্থক্য থাকলেও কাজ চলছে সমান তালে। দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতায় এখানে কর্মরত চাইনিজরা কিছুটা বাংলা আয়ত্ব করতে সক্ষম হয়েছেন। কাজের তাগিদ এবং বাঙালি শ্রমিকদের সঙ্গে মিশেই তারা বাংলা কিছুটা বুঝতে পারছেন।

অপরদিকে এখানে বাঙালি শ্রমিকরাও চায়না ভাষা কিছুটা অনুধাবন করতে পারছেন। চাইনিজরা তাদের ভাষায় কথা বলা মাত্রই তা বুঝতে পেরেই সাড়া দিচ্ছেন বাঙালিরা। ভাষার দুর্বোধ্যতা এখানে তেমন বাধ সাজতে পারেনি।

অনেক চাইনিজ ভাষাই এখন বুঝতে পারেন গাইবান্ধা থেকে আসা শ্রমিক জহুরুল ইসলাম। পাইলিংয়ের কাজে সহায়তা করছেন বি বস নামের চীনা প্রকৌশলীকে। কাজের ফাঁকে ফাঁকেই জহুরুল বলেন, শুরু থেকেই এখানে আছি। আগেও চাইনিজ প্রতিষ্ঠানে কাজ করার অভিজ্ঞতা আছে। এ কারণে তাদের ভাষা অনেকটাই বুঝতে পারি।

মুন্সিগঞ্জ জেলার বিক্রমপুর থেকে আসা বিপ্লব নামের আরেক শ্রমিক বলেন, কিছুটা সমস্যা তো হয়-ই। তবে ইংরেজি বললে, অনেকটাই বুঝতে পারি। আমরাও কিছুটা ইংরেজি বলতে পারি। বাংলা, চাইনিজ আর ইংরেজি ভাষা মিলেই একে অপরের সঙ্গে ভাব বিনিময় করি। বুঝতে না পেরে মাঝে মাঝে বিরক্ত লাগে, আবার কখনো কখনো মজাও পাই। নিজেরা নিজেরা হাসাহাসিও করি। ওরাও মজা করে। আছি তো সবাই সবার বন্ধু হয়েই।

জাগো নিউজ