টঙ্গিবাড়ীতে ভয়ংকর ভূমি জালিয়াতি পৌনে ৪ একর সম্পত্তি বেহাত

ভয়ংকর ভূমি জালিয়াতির মধ্য দিয়ে মুন্সীগঞ্জের টঙ্গীবাড়ি উপজেলার খিলপাড়া গ্রামের প্রায় পৌনে ৪ একর অর্পিত সম্পত্তি বেহাত হতে চলেছে। দুর্নীতি দমন কমিশনের এক অনুসন্ধানে এ চিত্র মিলেছে। উপজেলার খিলপাড়া মৌজার সিএস ও এসএ যথাক্রমে ৫৬, ৬১, ৬২, ৬৩, ৬৪ ও ৮১ নম্বর দাগের ৩ একর ৭৭ শতাংশ সম্পত্তি দখলের পায়তারার অংশ হিসেবে অভিনব ওই জালিয়াতি করা হয়েছে।এ ঘটনায় দুর্নীতি দমন কমিশন ঢাকা-২ সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের উপ-সহকারী পরিচালক মো. ফখরুল ইসলাম জেলার টঙ্গিবাড়ী থানা পুলিশের কাছে লিখিত এজাহার দায়ের করে ওই ভূমি জালিয়াতির অভিযোগ করেন।অভিযোগে জানা গেছে- খিলপাড়া গ্রামের ৩ একর ৭৭ শতাংশ সম্পত্তির মূল মালিক ছিলেন দুর্গাচরন বন্দোপাধ্যায়ের ছেলে জিতেন্দ্র নাথ বন্দোপাধ্যায়সহ প্রায় ২৪ জন ব্যক্তি। তারা ১৯৬৫ সালে ভারতে চলে ওই সম্পত্তি অর্পিত সম্পত্তিতে পরিণত হয়।

এদিকে, খিলপাড়া গ্রামের হাতিম বেপারী নামে এক ব্যক্তি ওই সম্পত্তির মধ্যে ১ একর ৫৪ শতাংশ ও হামিদ ঢালী নামে আরেক ব্যক্তি বাকী ১ একর ৫৪ শতাংশ লীজ নিয়ে ভোগ দখল করে আসছিলেন।এরই মধ্যে গত ২০০০ সালে টঙ্গিবাড়ী সাব রেজিষ্ট্রি অফিসে একাংশের লীজ গ্রহীতা হামিদ ঢালীর মেয়ে ফরিদা আক্তার ঝুমুরের নামে আম মোক্তারনামা দলিল সম্পাদন করা হয়েছে। জাল দলিল সম্পাদন করার ক্ষেত্রে উক্ত সম্পত্তির রেকডীয় মালিক দেখানো হয়েছে অক্ষম কুমার মুখোপাধ্যায় নামে এক ব্যক্তিকে। ১৯৩০ সালে অক্ষয় কুমারের নিকট হতে ওই সম্পত্তি জোত পত্তন নিয়েছেন একই উপজেলার বড় ছটফটিয়া গ্রামের বাসিন্দা ইব্রাহিম প্রমানিক নামে এক ব্যক্তি।

মুন্সীগঞ্জে টঙ্গিবাড়ীতে ভয়ংকর ভূমি জালিয়াতি পৌনে ৪ একর সম্পত্তি বেহাত ওই ইব্রাহিম প্রমানিককে (বর্তমানে প্রয়াত) দাতা হিসেবে দেখিয়ে ৩ একর ৭৭ শতাংশ সম্পত্তির গ্রহীতা হিসেবে হামিদ ঢালীর মেয়ে ফরিদা আক্তারের নামে আম মোক্তার নামা ওই দলিল সম্পাদন করা হয়েছে। এভাবেই ভয়ংকর ভূমি জালিয়াতির মাধ্যমে কোটি কোটি টাকার ওই অর্পিত সম্পত্তি দখলের প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে। প্রসঙ্গত: ২০০০ সালে টঙ্গিবাড়ী সাব রেজিষ্ট্রিট অফিসে দলিল সম্পাদন করার সময় ফরিদা আক্তারের বয়স ছিল মাত্র ১৩ বছর ৩ মাস। কেননা ২০০৫ সালে ফরিদার বিয়ের কাবিনে তার বয়স উল্লেখ করা হয়েছে ১৮ বছর।
এ প্রসঙ্গে একাংশের লীজ গ্রহীতা হাতিম বেপারীর ছেলে জাহাঙ্গীর আলম বলেন-ইতিমধ্যে দুর্নীতি দমন কমিশন অনুসন্ধান চালিয়ে ভূমিদস্যু চক্রের বিরুদ্ধে জাল দলিল সম্পাদনের প্রমান পেয়েছে।কাজেই জাল দলিল সম্পাদনকারী ভূমিদস্যু চক্রের অর্পিত সম্পত্তি দখলের পায়তারা থামাতে সরকারের ভূমি অফিসসহ সংশ্লিষ্ট বিভাগ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহন করবেন বলে আশা প্রকাশ করছি।

টঙ্গিবাড়ী উপজেলার বেতকা ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মজিবুর রহমান বলেন- অর্পিত সম্পত্তি রক্ষায় সরকারের সংশ্লিষ্ট দফতর অবশ্যই ভূমিদস্যু চক্রের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবে।

একই সঙ্গে ওই সম্পত্তির প্রকৃত লীজ গ্রহীতা হাতিম বেপারীর পরিবারকে ভোগ দখলের পুরোপুরি অধিকার ভোগের পদক্ষেপ নিবে। তবে হামিদ ঢালীর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করে তাকে পাওয়া যায়নি।

চমক নিউজ