ডিপিএড কোর্সে ফেল ৬৫ জন শিক্ষক, পরে পাঁচশ টাকায় পাস

সি এম তানজিল হাসান: প্রাইমারি টিচার্স ট্রেনিং ইন্সটিটউশনে (পিটিআই) প্রশিক্ষণরত প্রাথমিক শিক্ষকদের ১৯৮ জনের মধ্যে ডিপিএড ইন কোর্স পরীক্ষায় ৬৫ জন ফেল করেছেন। পরে অবশ্য জনপ্রতি পাঁচশ টাকা ফি দিয়ে পুনঃ পরীক্ষায় সবাই পাস করেন।

জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমি (নেপ) সূত্রে জানা যায়, প্রাথমিক শিক্ষকদের দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বাধ্যতামূলকভাবে ডিপিএড কোর্সের আয়োজন করা হয়। এক বছরের তত্ত্বীয় ও পরে ছয় মাসের ইন্টার্নির পর ডিপিএড কোর্সের সনদ দেওয়া হয়। এক বছরের তত্ত্বীয় কোর্সে স্থানীয়ভাবে আয়োজিত একটি ইন-কোর্স পরীক্ষা ও জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমি (নেপ) কর্তৃক আয়োজিত একটি ফাইনাল পরীক্ষায় প্রশিক্ষণার্থীরা অংশ নেন ওই ১৯৮ জন শিক্ষক।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক প্রশিক্ষণার্থী জানান, গত ২০ জুলাই অনুষ্ঠিত ইন-কোর্স পরীক্ষায় মুন্সীগঞ্জে প্রাইমারি টিচার্স ট্রেনিং ইন্সটিটউশনে (পিটিআই) প্রশিক্ষণরত প্রাথমিক শিক্ষকদের ১৯৮ জনের মধ্যে ৬৫ জন ফেল করেন। বাংলা, ইংরেজি, গনিতসহ বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণার্থীরা ফেল করেন।

অবশ্য অনেকেই দাবি করেন, ইচ্ছে করেই তাদের ফেল দেখানো হয়েছে। অবশ্য এর এক মাস পরেই জনপ্রতি পাঁচশ টাকা করে ফি নিয়ে তাদের পুনঃ পরীক্ষার মাধ্যমে পাস দেখানো হয়। টাকা নেবার কোন রশীদ দেয়নি কর্তৃপক্ষ। সবার প্রশ্ন, কিভাবে এতো প্রশিক্ষণার্থী ফেল করল? আবার মাত্র এক মাস পরেই সবাই পাস করে কীভাবে? প্রশিক্ষণার্থীরা জানান, ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ভয়ে কেউ প্রতিবাদ করতে সাহস করেন নি।

এদিকে, ১৯৮ জন প্রশিক্ষণার্থীরা সবাই ফাইনাল পরীক্ষার জন্য ফরম পূরণ করেছেন। এ জন্য সুপারের কাছে তাদের জমা দিতে হয়েছে এক হাজার ৮শ’ টাকা। তবে ফরম পূরণের টাকারও কোনও রশীদ দেন নি প্রাইমারি টিচার্স ট্রেনিং ইন্সটিটউশন (পিটিআই), মুন্সীগঞ্জ কর্তৃপক্ষ।

এ ব্যাপারে প্রাইমারি টিচার্স ট্রেনিং ইন্সটিটউশন (পিটিআই), মুন্সীগঞ্জের সুপার রাকিবুল ইসলাম তালুকদার বলেন, ‘নেপ থেকে চিঠির মাধ্যমে পাঠানো নির্দেশনার বিপরীতে টাকা নেওয়া হয়েছে। তবে আমাদের এখানে রশীদের মাধ্যমে টাকা নেওয়ার কোনও ব্যবস্থা নেই।’

তিনি আরও বলেন, ‘প্রথমবার ইন-কোর্স পরীক্ষায় ৬০/৬৫ জন ফেল করেছিল। পরে পুনরায় পরীক্ষা দিলে তারা সবাই পাস করে। তাই তাদের ফাইনাল পরীক্ষার ফরম পূরণ করা হয়েছে।’

জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমির (নেপ) পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক নাজমুন নাহার বলেন, ‘দুই-চারজন হয়ত পরীক্ষায় ফেল করতে পারে। কিন্তু এত বেশি সংখ্যক প্রশিক্ষণার্থীর ফেল করার কথা কখনও শুনিনি। কারণ সবারইতো চাকরির মায়া আছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘যদি প্রশ্নে এমন কাঠিন কিছু থাকে যে কেউ তার উত্তর দিতে পারবে না সেক্ষেত্রে তো এতো বেশি সংখ্যক প্রশিক্ষণার্থী ফেল করতেই পারে। লোকাল ম্যানেজমেন্টের মাধ্যমে এই ইন-কোর্স পরীক্ষা হয়। এর ফি থেকে অন্যান্য ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি হয়ত শিক্ষকেরা একটু চা সিঙ্গারা খায়। অনেক সুপার মাঝেমাঝে নিজেদের কাছে কিছু (টাকা) রাখেন। তবে পুনরায় ইন-কোর্স পরীক্ষা দিতে হলে ফি দিতে হয় ৩শ’ টাকা।’

এ বিষয়ে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক হারুন-অর-রশীদ (সার্বিক, শিক্ষা ও আইসিটি) বলেন, ‘আমরা বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেব।’

বাংলা ট্রিবিউন