নতুন ১০৮ শব্দসৈনিককে মুক্তিযোদ্ধা স্বীকৃতি ॥ গেজেট প্রকাশ

মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ দ্বিতীয় দফায় নতুন আরও ১০৮ শব্দসৈনিককে মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি দিয়ে গেজেট প্রকাশ করেছে সরকার। এর আগে ৮৭ শব্দসৈনিককে একই কারণে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া হয়। স্বীকৃতিপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধারা এখন থেকে সরকার ঘোষিত সব সুযোগ-সুবিধা ভোগ করবেন। বুধবার বিকেলে এ বিষয়ে গেজেট প্রকাশ করা হয়। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়কমন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক জনকণ্ঠকে এ তথ্য জানান। সূত্র জানায়, জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের (জামুকার) ৩৭তম ও ৩৯তম সভার আলোচ্যসূচী নং যথাক্রমে ২.৭ ও ১.০০ এর সিদ্ধান্ত এবং জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের ৩১/১০/২০১৬ তারিখের ৪৮.০২.০০০০.০০১.৩২.২৩৪.১৫/১০১০ এর স্মারক অনুযায়ী এ প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে উপসচিব মাহবুবুর রহমান ফারুকী স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল আইন ২০০২ (২০০২ সালের ৮নং আইন) এর ৭ (ঝ) ধারা অনুযায়ী প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধারা (স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রে অংশগ্রহণকারী এবং মুক্তিযুদ্ধকালে গঠিত সাংস্কৃতিক সংগঠনের শব্দসৈনিক) তালিকা, সরকার এত দ্বারা রুলস অব বিজনেস ১৯৯৬ জি সিডিউল-১ (এলোকেশন অব বিজনেস) এর তালিকা ৪১ এর ৫নং ক্রমিকে প্রদত্ত ক্ষমতা বলে গেজেট প্রকাশ করল। ঢাকা জেলার মুক্তিযোদ্ধারা হচ্ছেন- সমর দাস, বুলবুল মহলানবীশ, তরুণ কুমার মহলানবীশ, শুক্তি মহলানবীশ, ডালিয়া নওশিন, লাকী আখন্দ, মঞ্জুলা দাস গুপ্তা, মৃত অমিতাভ সেনগুপ্ত, মোঃ কামাল উদ্দিন আহমেদ, শারমীন সোনিয়া মুরশীদ, তাজিন মাহনাজ মুরশীদ, মৃত সৈয়দ মোহাম্মদ চান, শীলা ভদ্র, আব্দুল্লাহ আল ফারুক, শিপ্রা রায়, মামুনুর রশিদ, মোতাহার হোসেন, নাসিমুল কাদের চৌধুরী, শাহীন সামাদ, মৃত আব্দুল জব্বার খান, রূপা খান (রূপা ফরহাদ), মুজাফ্ফর হায়াত খান, জাহাঙ্গীর হায়াত খান (রুমু খান), বুলবন ওসমান, ছন্দা ভূঁইয়া হাজরা, নিতাই চন্দ্র সরকার। মাদারীপুর জেলার- মোঃ মনোয়ার হোসেন খান, আমির হোসেন, মঞ্জুর আহমেদ, শরিয়তপুর জেলার- আবদুল হালিম মিয়া, রাজবাড়ী- জেলার মৃত গোপী বল্লভ, মুন্সীগঞ্জ জেলার- আশফাকুর রহমান খান, শেখ নাসির উদ্দিন, বাবুল দত্ত, সরদার আলাউদ্দিন, এবিএম মঞ্জুর কাদের (বাবুল আখতার), নঈম গওহর, গোপালগঞ্জের অনিল কুমার দে, শহীদ হাসান, নারায়ণগঞ্জ জেলার- তোফাজ্জল হোসেন শিকদার (টি এইচ শিকদার) গাজীপুরের মৃত নিখিল দেব, নরসিংদীর মৃন্ময় দাস গুপ্ত, কিশোরগঞ্জ জেলার বিপুল ভট্টাচার্য ও জাহিদ সিদ্দিকী। চট্টগ্রাম বিভাগের কুমিল্লার মোহাম্মদ ফারুক, বাদল রহমান, মৃত কাজী হাবিব উদ্দিন আহমেদ মণি, সৈয়দ আব্দুস শাকের, মোঃ ফেরদৌস হোসেন ভূঁইয়া, মোমিনুল হক চৌধুরী, ব্রাহ্মণবাড়ীয়ার রাশিদুল হোসেন, সৈয়দ মহিউদ্দিন হায়দার, আলী যাকের, শেখ সাদী খান, তানসেন খান, তড়িৎ হোসেন খান, ফেনীর আ ন ম গাজীউল হক, জহির রায়হান, চট্টগ্রাম জেলারÑ বেলাল মোহম্মদ, সুব্রত বিকাশ বড়ুয়া, সখিনা বেগম, জয়ন্তী ভূঁঞা, অজয় কিশোর, দেবু চৌধুরী, আবুল কাশেম সন্দ্বীপ, শেফালী ঘোষ, ননী গোপাল দত্ত, মিহির লালা।

বরিশাল বিভাগের ভোলার শহীদুল ইসলাম, বরিশালের অরুণা রানী সাহা, আসাদ চৌধুরী, মৃত আলমগীর কবীর, বরগুনার অরূপ তালুকদার। সিলেট বিভাগের সিলেট জেলার সুজেয় শ্যাম, নাসরীন আহমেদ (জেরিন আহমেদ), অনুপ কুমার ভট্টাচার্য, মাওলানা শেখ মোঃ উবায়দুল্লাহ বিন সাঈদ জালালাবাদী।

খুলনা বিভাগের বাগেরহাটের সৈয়দ হাসান ইমাম, লায়লা হাসান, সাতক্ষীরা জেলার আবু তোয়াব খান, কাজী রোজী, যশোরের মুস্তফা আনোয়ার হোসেন খান, মেহেরপুরের মৃত শেখ জমির উদ্দিন, কুষ্টিয়ার মোহসীন রেজা, খন্দকার আমিনুল হক বাদশা, খন্দকার এমদাদুল হক (মান্না হক), এমএ মান্নান, হালিমা জব্বার, রংপুর বিভাগের গাইবান্ধার আশরাফুল আলম, মোহাম্মদ রেজাউল করিম চৌধুরী, টিপু চৌধুরী, রংপুর বিভাগের রংপুর জেলার মৃত অজিত রায়, নীলফামারী জেলার মৃত হরলাল রায়, রথীন্দ্র নাথ রায়, রাজশাহী বিভাগের নাটোর জেলার আখতার হুসেন, রাজশাহীর মু. গোলাম রব্বানী, কাজী মিসবাহুন নাহার, মোঃ রেজাউল করিম (রবু), মোঃ রফিকুল আলম, সিরাজগঞ্জের কামাল লোহানী, মাজহারুল ইসলাম, মহাদেব সাহা, মৃত গাজী শাহ্ আলী সরকার, মৃত ড. মাজহারুল ইসলাম, পাবনার কাদেরী কিবরিয়া, ময়মনসিংহের নেত্রকোনার, মাহবুব তালুকদার ও কবি নির্মলেন্দু গুণ। প্রজ্ঞাপনে বাংলাদেশ ফরম ও প্রকাশনা অফিস তেজগাঁওকে বর্ণিত তালিকার প্রজ্ঞাপনটি গেজেটের অতিরিক্ত সংখ্যায় প্রকাশে অনুরোধ করা হয়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক জনকণ্ঠকে বলেন, ১৯৭১ সালের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধেও সময় বাংলাদেশের অবরুদ্ধ প্রায় সাড়ে ৬ কোটি বাঙালীকে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র ও বিভিন্ন মাধ্যমে গান, কবিতা চরমপত্র পাঠসহ নানা কার্যক্রম দিয়ে ও মুক্তিযুদ্ধের সর্বশেষ সংবাদ পরিবেশন করে উজ্জীবিত করে রেখেছেন রাষ্ট্রের এসব জ্ঞানী গুণী ব্যক্তিগণ। একই সঙ্গে মুক্তিযোদ্ধারা নতুন করে তাদের আহ্বানে পাক হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়তেন। তাই সরকার এর স্বীকৃতি স্বরূপ দ্বিতীয় দফায় ১০৮ শব্দসৈনিককে মুক্তিযোদ্ধা স্বীকৃতি দিয়ে গেজেট প্রকাশ করেছে। এখন থেকে এসব মুক্তিযোদ্ধা তাদের ও তাদের পরিবারের জন্য সরকার ঘোষিত সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা ভোগ করবেন।

জনকন্ঠ