শ্রীনগরে সিজারিয়ানের সময় প্রসুতি মৃত্যুর ঘটনায় ২ ডাক্তার সহ ৮ জন গ্রেপ্তার

আরিফ হোসেন: শ্রীনগরে রানী জেনারেল হাসপাতালে সিজারিয়ানের সময় এক প্রসুতির মৃত্যুর ঘটনায় ২ ডাক্তার সহ ৮ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রবিবার সকালে তাদেরকে মুন্সীগঞ্জ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। এর আগে ডাক্তার ও হাসপাতাল কতৃপক্ষের গাফলতির অভিযোগে শনিবার রাতে প্রসুতির স্বামী শহিদুল ইসলাম বাদী হয়ে শ্রীনগর থানায় ৯ জনকে আসামী করে মামলা দায়ের করে। শনিবার সন্ধ্যায় রোজিনা বেগম (২২) নামে ওই প্রসুতির মৃত্যু হয়। এতে প্রসুতির স্বজনরা বিক্ষুব্ধ শুরু করে। পুলিশ ও র‌্যাব দুই ঘন্টা চেষ্টা করে বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রনে আনে।

রোগীর স্বজনরা ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, লৌহজং উপজেলার চন্দ্রের বাড়ী এলাকার শহিদুল ইসলামের স্ত্রী রোজিনা বেগম (২২) এর প্রসব ব্যাথা উঠলে তাকে শনিবার সকাল ১১ টার দিকে রানী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এসময় হাসপাতাল কতৃপক্ষ ঢাকা থেকে ডাক্তার আসার কথা বলে কাল ক্ষেপন করতে থাকে। বিকাল চারটার দিকে ডাঃ তানবীর নাহার শামীমা সিজারিয়ান করে রোজীনার পুত্র সন্তান প্রসব করান।

কিন্তু অনেক সময় পেরিয়ে গেলেও রোগীর কোন স্বজনদের ওটি রুমে ঢুকতে না দেওয়ায় তাদের সন্দেহ হয়। সন্ধ্যা ছয়টার দিকে মৃত রোজীনাকে ঢাকায় নেওয়ার জন্য এম্বুল্যান্সে তোলা হয়। এসময় রোজিনার স্বামী তার স্ত্রীর শরীর স্পর্শ করে দেখতে পান রোজিনা মৃত্যু বরণ করেছে। তিনি অভিযোগ করেন, আনাড়ী ডাক্তার দ্বারা সিজার করায় রোগীর মৃত্যু হয়েছে। রোজিনার আতœীয় স্বজনরা চিকিৎসায় গাফলতি হয়েছে বলে প্রতিবাদ করলে হাসপাতালের পাশ্ববর্তী বাড়ীর শাহ নেওয়াজ রোগীর আত্মীয় স্বজনদেরকে দ্রুত হাসপাতাল ছেড়ে যাওয়ার জন্য হুমকি দেন।

পরে রোজিনার আত্মীয় স্বজনরা বিষয়টি পুলিশকে জানালে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হওয়ার আগেই হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হারুন অর রশিদ,ম্যানেজার শ্যাম বাবু সহ কর্মকর্তারা পালিয়ে যায়। পরে পুলিশ হাসপাতালের মালিকানার অংশীদার ও শ্রীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্যাথলজি বিভাগের টেকনিশিয়ান আবুল কালাম আজাদ, নার্স লাকি আক্তার, হামিদা আক্তার, আকলিমা আক্তার, নুপুর খানম ও এক্সরে টেকনিশিয়ান আব্দুল্লাহিল মাসুমকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে।

কিন্তু রোগীর আত্মীয় স্বজনরা ডাক্তারদের গ্রেপ্তারের দাবী জানাতে থাকলে রাত দশটার দিকে অর্ধ শতাধিক কক্ষের তালা ভেঙ্গে চার তলার ৪১১ নম্বর কক্ষ থেকে গাইনী সার্জন ডা: তানবীর নাহার শামীমা ও এনেসথেসিয়ার ডাক্তার বাশার মোঃ আব্দুস সালামকে আটক করে। তাদেরকে আটক করার পর ঢাকা থেকে একাধিক ডাক্তার নেতা থানায় ছুটে আসেন। রাতভর ডাক্তার নেতারা ও স্থানীয় দালাল চক্র তাদের ছাড়িয়ে নিতে তদবির চালায়। কিন্তু পুলিশ তাদের অবস্থানে অনড় থেকে রবিবার সকালে আসামীদেরকে মুন্সীগঞ্জ আদালতে প্রেরণ করে। অপরদিকে রবিবার দুপুরেও প্রসুতির স্বজন সহ দুই শতাধিক লোক মিছিল করে রাণী হাসপাতালে ভাংচুর করতে গেলে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তোফাজ্জল হোসেন তাদের নিবৃত করেন।

Comments are closed.