পদ্মা সেতুর প্যানেল অব এক্সপার্ট সরেজমিন সভা এবং নির্দেশনা

পদ্মা সেতুর প্যানেল অব এক্সপার্টদের তিন দিনব্যাপী সভা শনিবার শেষ হয়েছে। প্রায় চার মাস পরে এই টিম সরেজমিনে সভা করেছেন। এতে বিদেশী পাঁচ বিশেষজ্ঞসহ ১০ বিশেষজ্ঞ অংশ নেন। এই টিমের জন্য বিশেষ নিরাপত্তা ছিল। তাই এই সংক্রান্ত তথ্যাদি জানানো হয়নি। এর আগের প্রকল্প এলাকার এই সভা হয়েছিল ১৪ থেকে ১৬ জুলাই। এর আগের সভাটি হয়েছিল গত এপ্রিলে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র শনিবার রাতে নিশ্চিত করেছেন, ৩৭ নম্বর পিলারে সম্পন্ন হওয়া পাইল স্থাপন অনুমোদন দিয়েছে বিশেষজ্ঞ প্যানেল। তাই টিমের নির্দেশনা অনুযায়ী কংক্রিটিং এবং পিয়ার স্থাপন শিঘ্রই হবে। সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীরা জানান, সেতুর অগ্রগতির জন্য প্যানেল অব এক্সপার্টদের সভাটি অতিগুরুত্বপূর্ণ। সভায় সুপার স্ট্রাকচার স্থাপন এবং অন্যান্য অগ্রগতি ও সমস্যা নিয়েও আলোচনা হয়েছে। সভায় উপস্থিত দায়িত্বশীলরা জানিয়েছেন, সুপার স্ট্রাকচার স্থাপনেও একটি পরিবর্তন আনা হয়েছে তিন দিনের এই সভায়। প্রথম স্প্যান সুপার স্ট্রাকচার জাজিরা প্রান্তে এবং দ্বিতীয় স্প্যানটি মাওয়া প্রান্তে স্থাপনের ব্যাপারে সর্বশেষ সিদ্ধান্ত ছিল। এখন নাব্য সঙ্কটের কারণে জাজিরা প্রান্তে ব্যবহৃত ভাড়ি যন্ত্রপাতিগুলো মাওয়া প্রান্তে আনা যাচ্ছে না। তবে ড্রেজিং চলছে নাব্যতা ফিরিয়ে আনতে। তাই দ্বিতীয় স্প্যানটিও জাজিরা প্রান্তে স্থাপানের বিষয়ে সিদ্ধান্ত এসেছে।

পরিদর্শনের পর বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার এই বিশেষঞ্জ দল দিনভর সভা করেন জাজিরা প্রান্তে সার্ভিস এরিয়া-২ এ। দেশের সর্ববৃহত প্রকল্পটির নানা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উঠেছে এতে। যার সমধান দেয়া হয় সভা থেকেই। শনিবার বিশেষজ্ঞ দল সকাল ৯টা থেকে ১১টা পর্যন্ত পদ্মায় সেতুর নির্মাণ কাজ পরিদর্শন করেন। পরে সাড়ে ১১ টা থেকে ১টা পর্যন্ত চূড়ান্ত সভা করেন মাওয়া প্রান্তের দোগাছির সার্ভিস এরিয়া-১ এ। পরে দলটি বেলা পৌনে ৩টায় বিশেষ নিরাপত্তায় ঢাকার উদেশ্যে রওনা হয়।
প্যানেল অব এক্সপার্ট’র চেয়ারম্যান ড. জামিলুর রেজা চৌধুরীর নেতৃত্ব দলটি দেশের গুরুত্বপূর্ণ এই প্রকল্পটির জরুরি অবজারবেশন দিয়েছেন। এই বিশেষজ্ঞ প্যানেলে কলম্বিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের একজন করে, জাপানের দু’জন এং ডেনমার্কের একজনসহ মোট পাঁচজন বিদেশী বিশেষজ্ঞ রয়েছেন। ১১ সদস্য বিশিষ্ট এই প্যানেলে বাংলাদেশের ছয় বিশেষজ্ঞ। তবে ড. আইনুন নিশাদ মিশরে অবস্থান করায় এবারের সভায় তিনি অংশ নিতে পারেননি।

বিশেষজ্ঞ প্যানেলকে সার্বিকভাবে সহায়তা করছেন পদ্মা সেতুর সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী ও কর্মকর্তাগণ। এদের মধ্যে ছিলেন প্রকল্প পরিচালক, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ও নির্বাহী প্রকৌশলীগণ।

বাসস

Comments are closed.