রেড ক্রিসেন্ট অর্থ তহবিলের নিয়ন্ত্রন শাহজাহান গাজীর হাতে!

আন্তর্জাতিক সেবামূলক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির মুন্সিগঞ্জ জেলা ইউনিটের তহবিল এককভাবে নিয়ন্ত্রন করার অভিযোগ উঠেছে ইউনিটের সাধারণ সম্পাদক শাহজাহান গাজীর বিরুদ্ধে। পরিচালনা পর্ষদের অন্যান্য সদস্যদের মতামতের তোয়াক্কা না করে অনিয়মতান্ত্রিক ভাবে তিনি তহবিলের টাকা হরিলুট করছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

সুত্র জানায়-যুব রেড ক্রিসেন্ট কার্যক্রম সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী এখন সহশিক্ষা কার্যক্রম হিসেবে বিবেচিত হওয়ায় জেলা পর্যায়ের প্রায় অর্ধ শতাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বড় অংকের তহবিল যথারীতি জেলা রেড ক্রিসেন্ট ফান্ডে জমা হয়।

এছাড়া বিভিন্নস্থরের আর্থিক অনুদান, রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির কেন্দ্রীয় বরাদ্ধ, আজীবন সদস্য অন্তরভুক্তিকরন ফি ও শহরের হাটলক্ষ্মীগঞ্জ জেলা রেড ক্রিসেন্ট ভবনের নীচতলার মার্কেটের দোকান ভাড়া বাবদ বিপুল পরিমান অর্থ জেলা রেড ইউনিট ফান্ডে জমা হয়ে থাকে।

এছাড়া নানাবিদ কার্যক্রম পরিচালনা করার জন্য কেন্দ্রীয় রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি থেকে বরাদ্ধ দেওয়া হয়। এই বিপুল পরিমান অর্থ কোথায় কিভাবে ব্যয় করা হচ্ছে এই বিষয়ে জেলা ইউনিটের পরিচালনা পর্ষদের সদস্যদের সাথে কোন মতবিনিময় করেন না সাধারণ সম্পাদক শাহজাহান গাজী।

এদিকে বিগত দিনের বিভিন্ন কার্যক্রমের আর্থিক হিসাব নিকাশ নিয়ে তার বিরুদ্ধে নানা গোঁজামিলের অভিযোগ রয়েছে। তার এই একক স্বেচ্ছাচারিতার কারণে মুন্সিগঞ্জ রেড ক্রিসেন্ট ইউনিটের মানবসেবার কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে বলে মনে করছেন অনেকে।

এ বিষয়ে মুন্সিগঞ্জ রেড ক্রিসেন্ট ইউনিটের কার্যকরী সদস্য আয়নাল হক স্বপন বলেন-সহশিক্ষা কার্যক্রমের অর্ধ শতাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বড় অংকের টাকা, বিভিন্নস্থরের আর্থিক অনুদান, রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির কেন্দ্রীয় বরাদ্ধ, আজীবন সদস্য অন্তরভুক্তিকরন ফি ও শহরের হাটলক্ষ্মীগঞ্জ জেলা রেড ক্রিসেন্ট ভবনের নীচতলার মার্কেটের দোকান ভাড়া বাবদ বিপুল পরিমান অর্থ জেলা রেড ইউনিট ফান্ডে জমা হয়।

কিন্তু এই টাকা কোথায় কিভাবে খরচ হয় তার কোন হিসাব সাধারণ সম্পাদক শাহজাহান গাজী দেন না। তিনি অর্থ তহবিল একাই নিয়ন্ত্রন করেন। এছাড়া কেন্দ্রীয় ভাবে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনার জন্য যে অর্থ বরাদ্ধ আসে সেই অর্থের হিসাবেও নানা গোঁজামিল রয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

শাহজাহান গাজীর এসব স্বেচ্ছাচারিতা বিষয়ে মুন্সিগঞ্জ রেড ক্রিসেন্ট ইউনিটের কার্যকরী সদস্য সিনিয়র রাজনীতিবিদ মোহাম্মদ জামাল হোসেন বলেন-সাধারণ সম্পাদক শাহজাহান গাজী সম্পূর্ণ অনিয়মতান্ত্রিক ভাবে স্বেচ্ছাচারিতার ভিত্তিতে রেড ক্রিসেন্ট কার্যক্রম পরিচালনা করে মানবসেবার ব্রতকে বিতর্কিত করেছেন।

তিনি তার একক সিদ্ধান্তে সব কিছু করতে চায়। মুন্সিগঞ্জ রেড ক্রিসেন্ট ইউনিটের একটি নির্বাচিত পরিচালনা পর্ষদ থাকলেও তিনি ওই পরিচালনা পর্ষদের কাউকেই মূল্যায়ন করেন না, কারো মতামত নেওয়ার প্রয়োজন মনে করেন না। অর্থ তহবিলের টাকা কোথায় কিভাবে ব্যয় হচ্ছে এ বিষয়েও তার কোন জবাবদিহিতা নেই। জামাল হোসেন আরও বলেন- আগামী ৩রা ডিসেম্বর মুন্সিগঞ্জ রেড ক্রিসেন্ট ইউনিটের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

এই নির্বাচনে তিনি আবার সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হতে গোপনে নিজের টাকা খরচ করে ভোটার অন্তর্ভুক্ত করেছেন। অন্য কেউ ভোটার করতে চাইলে শাহজাহান গাজী নানা টালবাহানা করে শেষ পর্যন্ত কাউকেই ভোটার করার জন্য ফরম দেননি বলে অভিযোগ করেন জামাল হোসেন।

এ বিষয়ে মুন্সিগঞ্জ জেলা রেড ক্রিসেন্ট ইউনিটের সভাপতি ও জেলা প্রশাসক সায়লা ফারজানা সাংবাদিকদের বলেন-আমি এই জেলায় নতুন যোগদান করেছি। এই বিষয়ে আমি এখনও অবগত নই। তবে সত্যি যদি কোন অনিয়ম হয়ে থাকে আমি ব্যবস্থা গ্রহন করব।

মুন্সিগঞ্জ নিউজ

Comments are closed.