টানা বর্ষণে মুন্সিগঞ্জে শীতের সবজির ক্ষতি

মুন্সিগঞ্জে চার দিনের টানা বর্ষণে শীতকালীন বিপুল শাকসবজি নষ্ট হয়েছে। কয়েক জায়গায় কৃষকদের নতুন করে সবজির আবাদ করতে হবে। এ কারণে কৃষকেরা এবার লোকসানের আশঙ্কা করছেন।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের জেলা কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতি, শুক্র, শনি ও রোববার মুন্সিগঞ্জে টানা বৃষ্টি হয়। জেলার অনেক ফসলি জমিতে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। এতে সবজির বীজতলাসহ খেতের অনেক সবজি নষ্ট হয়ে যায়। সূত্র জানায়, এ বছর জেলায় শীতকালীন সবজি আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৪ হাজার ২৭০ হেক্টর জমিতে। আবাদ হয়েছে ১ হাজার ৩৯ হেক্টর জমিতে। এর মধ্যে চার দিনের বর্ষণে ৫৯ হেক্টর জমির ফসল নষ্ট হয়। মুন্সিগঞ্জ সদর ও সিরাজদিখানে ক্ষতির পরিমাণ বেশি।

গতকাল সোমবার সদর উপজেলার পঞ্চসার ইউনিয়নের কেপিবাগ, ভট্টাচার্যের বাগ, রামপাল ইউনিয়নের দেওসার, শিকদার বাড়ি এবং বজ্রযোগিনী ও মহাকালী ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে দেখা যায়, ফুলকপি চারা মাটির সঙ্গে মিশে আছে। কিছু জমির পাটশাক ছোট ছোট। এগুলো পানির নিচে ডুবে আছে। লালশাক নষ্ট হয়ে যাওয়ায় চাষিরা দ্রুত তুলে ফেলতে ব্যস্ত। চাষিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বর্ষণে সবজিচাষিদের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এখন তাঁদের নতুন করে আবাদ করতে হবে; উৎপাদন খরচ দ্বিগুণ হয়ে যাবে।

ভট্টাচার্যের বাগ এলাকার লিটন ঢালী বলেন, তাঁর ৫০০ ফুলকপি চারা বৃষ্টিতে পচে গেছে। এখন নতুন করে আবাদ করতে হবে। দেওসার এলাকার নুরুল হক শেখ (৫০) বলেন, তাঁর ১১ শতাংশ জমির লাউগাছ ও ১৫ শতাংশ জমির দুই হাজার কপি চারা নষ্ট হয়ে গেছে। বৃষ্টি হওয়ার দুই দিন আগে কপির চারাগুলো রোপণ করা হয়। চারা, সার, বীজ ও শ্রমিকের মজুরি মিলে তাঁর ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা ক্ষতি হয়েছে। নতুন করে আবাদ করলেও উৎপাদন খরচ দ্বিগুণ হয়ে যাবে। এতে লাভের মুখ দেখা মুশকিল হয়ে পড়বে। একই এলাকার মাসুদ শেখের পাঁচ হাজার কপি চারা নষ্ট হয়। কেপিবাগের চাষি মো. শরিফ বলেন, চার দিনে সবজির বীজতলা নষ্ট হওয়া ছাড়াও আর্থিকভাবে অনেক লোকসান হয়েছে। বৃষ্টির কারণে চারা বিক্রি করা যায়নি।

মুন্সিগঞ্জ কাঁচাবাজারের একাধিক বিক্রেতা বলেন, বৃষ্টিতে লালশাক, ডাঁটা, লাউশাক ও মুলার ক্ষতি হয়েছে। কৃষকেরা দ্রুত শাক তুলে বাজারে আনছেন। এতে এসব শাকের দামও কমে গেছে।

জানতে চাইলে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. হুমায়ুন কবির বলেন, ‘বৃষ্টিতে যে পরিমাণ ফসলের ক্ষতি হয়েছে, এর হিসাব আমরা তৈরি করেছি। রোদ ওঠার পর ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করা যাবে।’

প্রথম আলো