৩ বছরে মাধ্যমিক থেকে ঝরে গেছে আড়াই হাজার শিক্ষার্থী!

তানজিল হাসান: মুন্সীগঞ্জ জেলায় প্রধান ১৫টি কেন্দ্রসহ মোট ৪৩টি কেন্দ্রে একযোগে জেএসসি ও জেডিসি পরীক্ষা, ২০১৬ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। জেলা শিক্ষা অফিসার মো. শরিফুল ইসলাম জানান, এ বছর জেলায় মোট পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ২৪ হাজার ৪৫২ জন। তার মধ্যে জেএসসি পরীক্ষার্থী ২২ হাজার ৯৪৬ জন ও জেডিসি পরীক্ষার্থী ১৫০৬ জন। তবে সংখ্যার দিক থেকে মেয়েরা এবার এগিয়ে আছে। তবে তিন বছর আগে এই শিক্ষাবর্ষের যে পরিমাণ শিক্ষার্থী প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল এবার তার চেয়ে প্রায় আড়াই হাজার শিক্ষার্থী কমে গেছে।

২০১৬ সালে যে সকল পরীক্ষার্থী জেএসসি ও জেডিসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে যাচ্ছে তারা ২০১৩ সালে প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছিল। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের সূত্রে জানা যায়, ২০১৩ সালের প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষায় জেলায় মোট ২৬ হাজার ৬৭২ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে ২৬ হাজার ৬৭০ জন পরীক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়। ২০১৩ সালে প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকে তিন বছরে মাধ্যমিক শিক্ষা থেকে ঝরে গেছে মোট ২ হাজার ২১৮ জন।

এদিকে এবার ২২ হাজার ৯৪৬ জন জেএসসি পরীক্ষার্থীর মধ্যে মেয়ের সংখ্যা ১২ হাজার ৪৯৩ জন এবং ছেলে পরীক্ষার্থী ১০ হাজার ৪৫৩ জন। অন্যদিকে, জেডিসি পরীক্ষার্থী মেয়ের সংখ্যা ৮১০ জন ও ছেলের সংখ্যা ৬৯৬ জন।

জেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার ফেরদৌসী বেগম এসব তথ্য জানিয়ে বলেন, ‘মোট ২৭ হাজার ২৭০ জন শিক্ষার্থী রেজিস্ট্রেশন করেছিল (ডিআর তালিকায় নাম থাকা)। তবে বিভিন্ন কারণে পরীক্ষা দিতে সক্ষম হয়েছিল ২৬ হাজার ৬৭২ জন।’

এদিকে ঝরে যাওয়া শিক্ষার্থীদের ব্যাপারে জেলা শিক্ষা অফিসার মো. শরিফুল ইসলাম ‘তথ্য নিশ্চিত না হয়ে’ কোনও মন্তব্য করতে অপারগতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘২০১৩ সালে জেলায় মোট কত শিক্ষার্থী প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছিল তা আমার জানা নেই। তাই এ বিষয়ে আমার কোনও মন্তব্য করা ঠিক হবে না।’

তবে এডিসি (সার্বিক, শিক্ষা ও আইসিটি) মো. হারুন-অর-রশীদ জানান, ‘কিছু শিক্ষার্থী ‘ড্রপ আউট’ হয়। তবে, তা খুবই নগন্য। আসলে এসকল শিক্ষার্থীর বেশিরভাগই ভালো স্কুলে ভর্তি হওয়ার জন্য ঢাকায় চলে যায় বা অন্যান্য কারণে অন্য জায়গায় চলে যায়।’

বাংলা ট্রিবিউন

Comments are closed.