পদ্মা সেতুর প্রাণী জাদুঘর সমৃদ্ধ হচ্ছে

মোঃ রুবেল ইসলাম তাহমিদ: উপজেলার লৌহজংয়ে পদ্মা সেতুর দোগাছি সার্ভিস এরিয়ায় প্রতিষ্ঠিত স্থাপন প্রাণী জাদুঘর সমৃদ্ধ হচ্ছে। জানাগেছে, একশ’১৪ প্রজাতির প্রাণী এখানে স্থান পেয়েছে।

রুমের ভেতরে কয়েকটি পার্টিশন করে মৃতু প্রাণীগুলো এমনভাবে রাখা হচ্ছে, যেন মনে হয়, একেবারে জ্যান্ত প্রাণী। বিষাক্ত পদ্ম গোখরা থেকে শুরু করে নানা জাতের ব্যাঙ পর্যন্ত আছে এই জাদুঘরে। দিনে দিনে বাড়ছে জাদুঘরের সংগ্রহ। টার্গেট ৫ হাজার প্রাণীবৈচিত্র্য রাখা। জাদুঘরে প্রবেশ করলে বা দিকে তাকালে ১০ থেকে ১২টি সাপের ভয়ঙ্কর আক্রমণাত্মক দৃশ্যের চোখে পড়বে। এখানে কাচের বোতলের ভেতরে বন্দী সাপগুলো। ভয়ঙ্কর বিষধর তার শরীরের খোলস হারিয়ে শুধু সাদা হাড় নিয়ে কাচের বাক্সে বন্দী হয়ে আছে জেন কংকালের মতো।

প্রথম পর্যায়ে জাদুঘরটির সংগ্রহ বাড়ানো এবং তার সংরক্ষণ নিয়েই বেশি মনোযোগী কিউরেটরসহ মাঠকর্মীরা। আগামী ৫ বছর ধরে জাদুঘর প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে। এখন মাত্র ৬ থেকে ৭ মাস পার হয়েছে। এরই মধ্যে জাদুঘরে এসেছে প্রায় ৫শ’ প্রাণীবৈচিত্র্য। তবে এখনই এটি উন্মুক্ত নয় সাধারণের জন্য। এটি দেখতে হলে আরও কয়েক বছর অপেক্ষা করতে হবে। পদ্মা সেতু প্রকল্প এলাকা এবং তার আশপাশের নানা জীববৈচিত্র্যকে টিকিয়ে রাখতে এবং ভবিষ্যত প্রজন্মকে এগুলোর সঙ্গে পরিচিত করাতে জাদুঘরের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। তবে পদ্মা সেতুর জাদুঘর আরও বড় এবং পরিকল্পিতভাবে করা হচ্ছে। যেন ভবিষ্যতে দেশের যে কেউ এবং বিদেশীরা এগুলো দেখতে পারেন।

জাদুঘরের কিউরেটর ড. আনন্দ কুমার দাস প্রতিবেদক কে জানান, পদ্মা সেতু ও এ এলাকার প্রাণী জগত সংরক্ষণের তাগিদ থেকে তাদের সংগ্রহের একটি লক্ষ্য দেয়া হয়েছে। বিভিন্ন বন্যপ্রাণী এবং সাপ, ব্যাঙ টিকটিকি, কচ্ছপ, হরিণ, ইঁদুর, সিয়াল ,কুকুর ,পোকামাকড়, প্রজাপ্রতির পাশাপাশি এ এলাকার ঐতিহ্যবাহী মাছ ধরার ও ধান চাষের যন্ত্র নাংগল ও বিভিন্ন ধরনের ডিংগী নৌকাও জাদুঘরে সংরক্ষণ করা হচ্ছে। প্রাণী জাদুঘরটিতে এখন জনবল ২৬ জন। এর মধ্যে ১৩ জন মাঠকর্মী। কনসালট্যান্ট যাঁরা আছেন সকলেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণীবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক।

এছাড়াও রয়েছেন রিসার্চ এ্যাসোসিয়েট, টেকনোলজিস্ট ও সাপোর্টিং স্টাফ। এখানকার স্টাফ প্রাণীবিদ্যা বিভাগের হাসান নবীনে সাথে আলাপ হলে তিনি বলেন, পদ্মা সেতুর আশপাশে যেখানই কোন প্রাণী মারা গেছে, শুনলে সেখান থেকে আমরা গিয়ে নিয়ে আসছি। এদিকে পদ্মা সেতুর ঘিরে আশপাশের চিত্র যেন মন পাল্টে যাচ্ছে। চিত্র পাল্টাচ্ছে এই অঞ্চলের মানুষের আর্থ-সামাজিক অবস্থারও। সেতু চালু হওয়ার আগেই এই অঞ্চলের এই পরিবর্তন আর পরে যে কি হতে তাই নিয়ে ভাবছেন অধিবাসীরা।

পদ্মার এই কর্মযজ্ঞের প্রায় ১ কিলোমিটাার দূরের বাসিন্দা শেখ জামান, তিনি দীর্ঘদিন দেশের বাইরে ট্যুরে ছিলেন বিশ্বের অনেক শহর সম্পর্কে তাঁর বেশ ধারণা রয়েছে। তিনি মনে করেন এই সেতু ঘিরে যে পরিবেশ এখানে তৈরি হচ্ছে সেটি বিশ্বের অন্যতম পর্যটন এলাকা হবে।

এদিকে পদ্মা সেতুর নির্মান কাজ প্রত্যাশিত গতিতে এগিয়ে চলছে বলে প্রতিবেদককে জানিয়েছেন পদ্মাসেতু প্রকল্পের (মূল সেতু) নির্বাহী প্রকৌশলী দেওয়ান মোঃ আবদুল কাদের।

সময়ের কন্ঠস্বর

Comments are closed.