অধ্যাপক সুখেন ব্যানার্জী কথা বলতে পারছেন ॥ দোয়া প্রার্থী

অধ্যাপক সুখেন চন্দ্র ব্যার্নাজীকে কেবিনে দেয়া হয়েছে। তিনি এখন কথা বলতে পারছেন খেতেও পারছেন। তবে মাথার নলটি এখনও খোলা হয়নি। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী কথা বলা স¤পূর্ণ নিষেধ। দর্শনার্থীদের দেখা করতেও বারণ। গতকাল শনিবার দুপুর আড়াইটার দিকে তাকে কেবিনে দেয়া হয়। তাঁর মাথার টিউমারটির বায়োপসি রিপোর্ট নিয়ে এখন অপেক্ষা। কাল সোমবার এই রিপোর্ট পাওয়ার কথা রয়েছে।

দু’টি হাসপাতালে এই পরীক্ষার জন্য টিউমারটির নমুনা পাঠানো হয়েছে। এছাড়াও আরও একটি নমুনা রাখা হয়েছে। যদি কোন কারণে দু’টি হাসাপতালের রিপোর্টে কোন পার্থক্য হয়, তবেই আবার পরীক্ষা করা হবে। অস্ত্রোপচারের পরে একটি সিটি স্ক্যানও করা হয়। এটির রিপোর্ট শনিবার পাওয়ার গেছে। এই রিপোর্ট আগের উন্নতির কথা বলা হয়েছে।

এর আগে শুক্রবার বিশিষ্ট শিক্ষাবীদ সরকারী হরগঙ্গা কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ সকলের প্রিয় অধ্যাপক ব্যানার্জীর প্রায় সাড়ে ৪ ঘন্টা ধরে চলে অস্ত্রোপাচার। ঢাকার গ্রীনরোডের গ্রীন লাইফ মেডিক্যালে কলেজ এন্ড হাসপাতালে শুক্রবার সকাল ৯টা থেকে অস্ত্রোপচার শুরু হয়। শেষে দুপুর দেড়টায়। পরে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছিল। দুপুর সোয়া ২টায় তাঁর জ্ঞান ফিরে। অবস্থার উন্নতি হওয়ায় কেবিনে দেয়া হয়েছে। অধ্যাপক ব্যানার্জীর মনোবল চাঙ্গা রয়েছে। শনিবার রাতে তিনি শুভাকাঙ্খীদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেছেন। পাশপাশি দোয়া কামনা করেছেন।

ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরো সাইন’র অধ্যাপক আবুল খায়েরের তত্ত্বাবধানে তিনি রয়েছেন। অধ্যাপক ব্যানার্জীর শ্যালক ডা. উষা চক্রবর্তী এসব তথ্য জানিয়ে বলেন, টিউমারটি নমুনা পরীক্ষার রিপোর্টের ভিত্তিতেই পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহন করা হবে।

দেশের বাইরে এই শিক্ষককে চিকিৎসা জন্য নিতেও বাধ সেজেছে পাসপোর্ট। অধ্যাপক ব্যানার্জীর পাসপোর্ট করেনি। দেশের বাইরে যাওয়া ব্যাপারে তাঁর কোন আগ্রহ ছিল না। প্রিয় দেশের জন্যই তাঁর রাত দিনের অক্লান্ত পরিশ্রম ছিল। নিজের শরীরের প্রতি যতœ না নিয়ে তিনি মানুষের এবং প্রকৃতির যতেœ ছিলেন নিবেদিত প্রাণ। অসুস্থ অবস্থায়ও তাঁর বিনয় এবং কৃতজ্ঞতাবোধ না দেখলে বিশ্বাস করা যাবে না।

এদিকে সকলের প্রিয় এই শিক্ষাবীদকে শ্রদ্ধা ও খোঁজখবর করতে শনিবারও হাসপাতালটিতে ভিড় করেন বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ ও বহু ছাত্রছাত্রী। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ অনুরোধ করেছেন ভিজিটরদের চাপ কমানোর জন্য।

অধ্যাপক সুখেন চন্দ্র ব্যানার্জী জন্য আবারও সকলের প্রতি বিন¤্র শ্রদ্ধা জানিয়ে দোয়া চেয়েছেন তাঁর স্ত্রী শিক্ষিকা মিনা চক্রবর্তী, বড় কন্যা শিক্ষিকা অদিতি ব্যানার্জী টুম্পা ও ছোট কন্যা কলেজ ছাত্রী অয়ন্তী ব্যানার্জী বর্ষা।

জনকন্ঠ

Comments are closed.