শ্রীনগরে এক ইনজেকশনের গায়ে আরেক ইনজেকশনের লেবেল লাগিয়ে বেশী দামে বিক্রি !

আরিফ হোসেন: শ্রীনগরে এক ইনজেকশনের গায়ে আরেক ইনজেকশনের লেবেল লাগিয়ে বেশী দামে বিক্রি করে ধরা পড়েছেন এক র্ফামেসী ব্যবসায়ী। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত ডাক্তারের চোখে ধরা পড়ায় বড় রকমের স্বাস্থ্যের ক্ষতি থেকে রক্ষা পেয়েছেন সাত বছরের এক শিশু। গত ২০ সেপ্টেম্বর দুপুরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এঘটনা ঘটে।

জানাগেছে, ওই দিন দুপুরে উপজেলার আটপাড়া গ্রামের মনির হোসেনর সাত বছরের ছেলে মেহেদী হাসানের পায়ে তাঁরকাটা বিধলে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসা হয়। হাসপাতালের জরুরী বিভাগের কর্তব্যরত ডা: রাশেদুল হাসান প্রেসক্রিপশনে টিটাগাম ইনজেকশন লিখে দেন। এসময় মনির হোসেন হাসপাতালের পাশ্ববর্তী জয় ফার্মেসী থেকে ইনজেকশনটি কিনে আনেন। ফার্মেসীটির মালিক হাসপাতালের সিনিয়র নার্স রানু বেগমের স্বামী সিরাজুল ইসলাম। ডাক্তার ইনজেকশনটি পুশ করার আগে দেখতে পান ইনজেকশনের গায়ে টিটাগামের লেবেল লাগানো থাকলেও খোদাই করে রেখা রয়েছে এট্রোপিন ইনজেকশনের নাম। এজন্য ডা ঃ রাশেদ ইনজেকশনটি পুশ না করে তা আটক করেন। ডা ঃ রাশেদ জানান, টিটাগাম ইনজেকশনের বাজার মূল্য প্রায় ৮০০ টাকা। এটি ধনুষ্টকরের প্রতিষেধক হিসাবে ব্যবহার করা হয়। অপর দিকে এট্রোপিন ইনজেকশনের বাজার মূল্য ৭ টাকার মতো। দুটির প্রিপারেশনও ভিন্ন। এট্রোপিন সাধারণত বিষ খাওয়া রুগিদের হৃদস্পন্দন বাড়ানোর জন্য ব্যবহার করা হয়।

এঘটনায় মেহেদী হাসানের বাবা মনির হোসেন হাসপাতাল বরাবর জয় ফার্মেসীর বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। হাসপাতালের আরএমও রেজাউল হক লিখিত অভিযোগ পাওয়ার কথা স্বীকার করেছেন। এব্যাপারে শ্রীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রধান রাজা দেব শংকর মন্ডল জানান, দুই মস পূর্বে জয় ফার্মেসীর বিরুদ্ধে মেয়াদোত্তীর্ন সেলাইন বিক্রির অভিযোগ উঠেছিল। ঘটনাটি তদন্তে প্রমান হওয়ায় তা সিভিল সার্জন বরাবর লিখিত ভাবে জানানো হয়েছে। এই বিষয়টি নিয়েও দুএক দিনের মধ্যে তদন্ত কমিটি গঠন করে সিভিল সার্জন বরাবর প্রতিবেদন দেওয়া হবে।

Comments are closed.