অক্টোবরে জমি বরাদ্দ: আলোর মুখ দেখছে ওষুধ শিল্পপার্ক

নানা জটিলতায় আটকে থাকা ওষুধ খাতের অ্যাকটিভ ফার্মাসিউটিক্যাল ইনগ্রেডিয়েন্ট (এপিআই) শিল্পপার্ক আলোর মুখ দেখছে। আগামী অক্টোবর মাসের মধ্যেই ওই পার্কে কারখানা নির্মাণের জন্য জমি বরাদ্দ দেবে সরকার। ফলে শিগগিরই সেখানে অবকাঠামো নির্মাণ শুরু করতে পারবেন দেশের ওষুধশিল্পের উদ্যোক্তারা। মুন্সিগঞ্জের গজারিয়ার বাউশিয়ায় প্রায় ২০০ একর জমিতে এপিআই শিল্পপার্ক নির্মাণ করছে বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক)। এ পার্কে ৪২টি প্লট থাকছে কারখানা নির্মাণের জন্য। কারখানাগুলোতে ওষুধশিল্পের কাঁচামাল উৎপাদিত হবে।

গতকাল রোববার শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু বলেছেন, কারখানাগুলো চালু হলে ওষুধের কাঁচামাল আমদানির পেছনে বাংলাদেশের ব্যয় ৭০ শতাংশ কমবে। বাংলাদেশে প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ ওষুধ উৎপাদিত হলেও এর কাঁচামাল তৈরি হয় না। ওষুধের অ্যাকটিভ বা সক্রিয় উপাদান তৈরির জন্যই এপিআই শিল্পপার্ক তৈরি করা হচ্ছে। এপিআই শিল্পপার্কের বাস্তবায়ন পরিস্থিতি পর্যালোচনার জন্য গতকাল রোববার ওষুধ শিল্প সমিতির নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করে শিল্প মন্ত্রণালয়। এ বৈঠকে জমির দাম, কেন্দ্রীয় বর্জ্য পরিশোধনাগার (সিইটিপি) নির্মাণের ব্যয় বহন এবং জমির মূল্য পরিশোধের সময় নিয়ে আলোচনা হয়।

বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়, সিইটিপি নির্মাণের ব্যয় বহন করবেন শিল্পমালিকেরা। জমির মূল্য পরিশোধে মালিকেরা ১০ বছর সময় পাবেন। ৪২টি প্লটে কোন কোন কারখানা জমি পাবে, তা ঠিক করবে ওষুধ শিল্প সমিতি। বৈঠক শেষে বিফ্রিংয়ে এসব কথা জানান শিল্পমন্ত্রী। তিনি বলেন, জমি নিয়ে মামলাসহ নানা জটিলতায় প্রকল্পের কাজ শেষ হতে দেরি হয়েছে। তবে এখন বিসিকের তরফে ৯০ শতাংশ কাজ শেষ করে ফেলা হয়েছে। এপিআই শিল্পপার্কের প্রকল্প নেওয়া হয় ২০০৮ সালে। প্রথমে এর ব্যয় ধরা হয় ২১৩ কোটি টাকা। এরপর দুই দফা সংশোধন করে প্রকল্পের ব্যয় বাড়িয়ে ৩৩১ কোটি ৮৬ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়।

সর্বশেষ অগ্রগতি প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রকল্পটির জমি অধিগ্রহণ, মাটি ভরাট, সীমানাপ্রাচীর নির্মাণ ও বিদ্যুতায়নের কাজ শেষ হয়েছে। ফায়ার স্টেশন, জলাধার, পানি সরবরাহের পাইপলাইন স্থাপনসহ বিভিন্ন কাজ চলছে। গভীর নলকূপ স্থাপন, গ্যাস সরবরাহব্যবস্থা, পানিনিষ্কাশনব্যবস্থা নির্মাণ; এ ছাড়া কিছু জমি অধিগ্রহণের জন্য প্রকল্পের আরও একটি সংশোধন প্রস্তাব করা হয়েছে। সূত্র জানায়, বৈঠকে সরকার অধিগ্রহণ ও উন্নয়নের ব্যয়ের সঙ্গে ২০ শতাংশ সার্ভিস চার্জ ধরে জমির দাম নির্ধারণের প্রস্তাব করে। তবে ওষুধ শিল্প সমিতির নেতারা সার্ভিস চার্জ কমিয়ে ৫ শতাংশ এবং মূল্য পরিশোধের সময় বাড়িয়ে ২০ বছর করার দাবি করেন। আলোচনা শেষে সার্ভিস চার্জ কমিয়ে সাড়ে ১২ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়।

পাশাপাশি মূল্য পরিশোধের সময় নির্ধারণ করা হয় ১০ বছর। সাড়ে ১২ শতাংশ সার্ভিস চার্জ ধরে ১ শতাংশ জমির দাম পড়বে ৩ লাখ ৯ হাজার টাকা। ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ওষুধ রপ্তানি করে বাংলাদেশ প্রায় ৮ কোটি ২১ লাখ ডলার আয় করেছে, যা আগের বছরের চেয়ে ১৩ শতাংশ বেশি। ব্যবসায়ীরা বলেন, বাংলাদেশ থেকে ১৩৩টি দেশে ওষুধ রপ্তানি হয়। বৈঠক শেষে ওষুধ শিল্প সমিতির মহাসচিব এস এম শফিউজ্জামান বলেন, বাংলাদেশের ওষুধশিল্প একটি পর্যায়ে এসেছে। এখন শুধু নতুন বাজার তৈরি হবে আর রপ্তানি বাড়বে।

অনুষ্ঠানে শিল্পসচিব মো. মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া, বিসিকের নতুন চেয়ারম্যান মুসতাক হাসান মোহাম্মদ ইফতেখার, ইনসেপটা ফার্মাসিউটিক্যালসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুল মুক্তাদিরসহ শিল্প মন্ত্রণালয় ও বিসিকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং ওষুধ শিল্প সমিতির নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

গজারিয়া আলোড়ন

Comments are closed.