গাজীপুরে জনতার হাতে আটক দুই প্রতারক মা ও ছেলে

সিটি কর্পোরেশন ২৪ নং ওয়ার্ডের শিমুলতলীতে মা ছেলের প্রতারনার ফাঁদ থেকে রক্ষা পেলেন কয়েকজন ভুক্তভোগী। প্রতারক পিন্টু ঘোষ (৩২) তার মা মঙ্গলী রানী ঘোষ (৫০) প্রতারনা করে কয়েকবার পাড় পেলেও, এবার এলাকাবাসীর চোখ ফাঁকি দিয়ে পালিয়ে যাওয়ার সময় জনতার হাতে ধরা খেলেন প্রতারক মা ও ছেলে দুজনেই ।

জানাযায়, পিন্টু মুন্সিগঞ্জ জেলার সিরাজদিখান থানার আব্দুল্লাপুর গ্রামের পরিমল ঘোষের ছেলে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, পিন্টু ঘোষ এবং তার মা মঙ্গলী রানী শিমুলতলীতে বসবাস করেন মঙ্গলী রানীর বড় ভাই কুমিল্লা মিষ্টান্ন ভান্ডারের মালিকের পরিচয়ে। লোক মুখে শোনা চট্রগ্রামে থাকা অবস্থায় কোন এক কারণে একরাতেই পালিয়ে গাজীপুরে চলে আসেন পিন্টুর মা। বিপদে পড়ার কথা বলে আশ্রয় নেন বড় ভাইয়ের বাসায়। কিছু দিন যেতে না যেতেই বড় ভাইয়ের সাথেই প্রতারনা করে বসেন পিন্টুর মা। এক ব্যক্তির কাছ থেকে বড় ভাইয়ের নামে তিন লক্ষ টাকা ধার নেন পিন্টুর মা। পাওনাদার টাকা ফেরত চাইলে বড় ভাইকে দেখিয়ে দেন চতুর এ মহিলা । এ নিয়ে বড় ভাইয়ের সাথে সর্ম্পকের ইতি ঘটে। বিষয়টি জানা জানি হলে এলাকার বিচারে পিন্টুর মা নিজের দোষ স্বীকার করে টাকা আত্নস্বাদের কথা জানান।

পরবর্তীতে ছেলেকে বিদেশ পাঠিয়ে নিজেকে সমাজের চোখে ভাল সাজিয়ে নেন মঙ্গলী রানী। কিন্তু গত কয়েক মাস আগে ছেলে বিদেশ থেকে এলে নতুন করে প্রতারনার ফাঁদ পাতেন মা এবং ছেলে। তারই ধারাবাহিকতায় গত আট মাস আগে পিন্টূ ১৩ লক্ষ টাকায় একটি মাইক্রোবাস কিনেন। যার নম্বর ঢাকা মেট্রো-চ ১৩৫১৮১। সবাইকে পিন্টু নিজেই গাড়িটি কিনেছেন বলে জানান। কিন্তু গত কয়েকদিন আগে যাদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে গাড়িটি কিনেন তাদের কোন রোজিরোজগার না দেয়ায় তারা মালিক সমিতির কাছে বিচার দেন এবং তাদের কাছ থেকে গাড়ি কেনার সময় পার্টনারশীপের লিখিত চুক্তি পত্র দেখান।

১৩ লক্ষ টাকায় যে মাইক্রোবাসটি পিন্টু ক্রয় করেছিলেন তার অর্ধেক ৬ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা নেন ফাওকাল গ্রামের তপু সরকারের কাছে থেকে আর ৩ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা নেন একজন কলেজ শিক্ষকের কাছে থেকে । ১৩ লক্ষ টাকার ১০ লক্ষ টাকা অন্যদের কাছ থেকে নিয়ে সুকৌশলে গাড়িটি নিজের নামে করিয়েছেন পিন্টু।

এ বিষয়ে তপু স্থানীয়দের কাছে বিচার চাইলে স্থানীয়রা দু’পক্ষকে ডেকে পিন্টুকে জিজ্ঞাসা করলে অন্যদেরকে সাথে নিয়ে গাড়ি কেনার বিষয়টি স্বীকার করেন। এবং টাকা ফেরত দিয়ে নিজেই মালিক হবেন বলে জানান।

পরিস্থিতি বেগতিক বুঝতে পেরে মা ছেলে বাড়ির অধিকাংশ ফার্নিচার অজানা স্থানে সরিয়ে ফেলেন। এবং আজকে নিজেরা সরে পড়তে বাড়ি থেকে বের হন খবর পেয়ে তপু এলাকার মুরব্বী এবং মালিক সমিতির লোকদের নিয়ে তাদের স্থানীয় বিচারের আওতায় আনেন। তবে রবিবার টাকা ফেরতের কথা বলে জনরোষ থেকে রক্ষা পান।

এলাকাবাসীদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যমতে এর আগেও এধরনের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তাদেরকে স্থানীয় সালিশ সন্মুখি হতে হয়েছে। সাধারনরা মনে করেন তাদের পিছনে আরো কেউ জড়িত থাকতে পারে। যারা পিছনে থেকে তাদেরকে সহয়তা করেছেন।

সময়ের কন্ঠস্বর

Comments are closed.