গভীর শ্রদ্ধা, ভালোবাসা এবং কৃতজ্ঞতায় জাতির জনককে স্মরণ করল জাপান আওয়ামী লীগ

রাহমান মনি: গভীর শ্রদ্ধা, অন্তর নিংড়ানো ভালোবাসা এবং কৃতজ্ঞতায় জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে স্মরণ করে জাতীয় শোক দিবস পালন করেছে জাপান শাখা আওয়ামী লীগ। দিবসটির তাৎপর্যে জাপান শাখা আওয়ামী লীগ এক আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করে। একই আয়োজনে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার প্রতিবাদ জানানো হয়।

শোক দিবসের কর্মসূচিতে অংশ নেয়ার জন্য জাপান আওয়ামী লীগের আমন্ত্রণে বাংলাদেশ থেকে ছুটে এসেছিলেন কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, কেন্দ্রীয় কমিটির তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক অ্যাডভোকেট আফজাল হোসেন এবং কেন্দ্রীয় কমিটির কার্যনির্বাহী সদস্য সুজিত রায় নন্দী।

জাপান আওয়ামী লীগের সভাপতি সালেহ্ মোঃ আরিফের সভাপতিত্বে ২৮ আগস্ট রোববার টোকিওর কিতা সিটি ওজি হোকু তোপিয়া হলে আয়োজিত শোক দিবসের আয়োজনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী (এমপি), বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় কমিটির তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক অ্যাডভোকেট আফজাল হোসেন এবং নির্বাহী সদস্য সুজিত রায় নন্দী। এছাড়াও বাংলাদেশ দূতাবাসের কমার্শিয়াল কাউন্সিলর হাসান আরিফসহ দলীয় নেতৃবৃন্দ এবং বিপুলসংখ্যক প্রবাসী উপস্থিত ছিলেন।

চৌধুরী সাইফুর রহমান লিটনের স্বাগতিক বক্তব্যে আলোচনা সভার পূর্বে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে আগত সকলেই সারিবদ্ধভাবে পুষ্পার্ঘ্য শ্রদ্ধা জানান।

জাপান আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক খন্দকার আসলাম হিরার পরিচালনায় আলোচনা সভার শুরুতেই ১৫ আগস্ট জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, পরিবারের সদস্যবৃন্দ এবং ১৫ ও ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় নিহত সবার বিদেহি আত্মার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।

দিবসটির তাৎপর্যে বক্তব্য রাখেন পঙ্কজ কুমার দাস, কামরুল আহসান জুয়েল, নাজমুল ইসলাম রতন, কাজী ইনসানুল হক, মোঃ মাসুদ পারভেজ, সুখেন ব্রহ্ম, মোতালেব শাহ্ আইয়ুব প্রিন্স, কাজী মাহফুজুল হক, মোল্লা ওহেদুল ইসলাম, মুন্শী কে. আজাদ, হাসান আরিফ, সুজিত রায় নন্দী, অ্যাডভোকেট আফজাল হোসেন এবং খালিদ মাহমুদ চৌধুরী (সংসদ সদস্য) প্রমুখ।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ থেকে আমন্ত্রিত, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির কার্যনির্বাহী সদস্য সুজিত রায় নন্দী জাতির জনক বঙ্গবন্ধুকে বিশ্ব নেতাদের সাথে তুলনা করে বলেন, হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কেবল বাংলাদেশেরই নেতা ছিলেন না, তিনি ছিলেন বিশ্ব নেতা। বিশ্ববাসীর আদর্শ। ব্যক্তি বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করা হয়েছে, কিন্তু তার আদর্শকে হত্যা করা যায়নি। তাঁর আদর্শকে ধারণ করে তারই সুযোগ্য কন্যা, জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ আজ অভূতভাবে উন্নতির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। পদ্মা সেতু নিজস্ব অর্থায়নে আজ বাস্তবে রূপ নিতে যাচ্ছে। শেখ হাসিনার দৃঢ়তা, দূরদর্শিতা এবং যোগ্য নেতৃত্বের কারণেই তা সম্ভব হচ্ছে। কারণ শেখ হাসিনা ১৬ কোটি মানুষের নেত্রী।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে কেন্দ্রীয় কমিটির তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক অ্যাডভোকেট আফজাল হোসেন বলেন, বঙ্গবন্ধুকে স্মরণ করা হয় পরম শ্রদ্ধা, গভীর ভালোবাসা আর আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানানোর মাধ্যমে। আজকের যে বাংলাদেশ সারাবিশ্বে মাথা উঁচু করে দাঁড়াচ্ছে, বাংলাদেশের অর্থনীতি যেভাবে এগিয়ে যাচ্ছে তা কেবল এই দেশকে বঙ্গবন্ধু নেতৃত্ব দিয়েছিলেন বলেই সম্ভব হচ্ছে, তারই সুযোগ্য কন্যা তার অসমাপ্ত কাজগুলো করে সত্যিকার অর্থেই স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ে তোলার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করে যাচ্ছেন। আমাদের সকলের উচিত তার হাতকে শক্তিশালী করা।

তিনি বলেন, ছোটবেলায় বইয়ে পড়েছিলাম হিলারী, তেনজিং এভারেস্ট জয় করেছিলেন। আর এখন আমাদের দেশের ছেলে এবং মেয়েরা উভয়েই এভারেস্ট জয় করে আরও এগিয়ে যাচ্ছে। এর সবই সম্ভব হচ্ছে কেবল বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ এনে দিয়েছিলেন বলে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী (সংসদ সদস্য) বলেন, সাম্য, শান্তি, শোষণমুক্ত অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের যে স্বপ্ন বঙ্গবন্ধু দেখেছিলেন ’৭৫-এর ১৫ আগস্টের পর বারবার তা হোঁচট খেয়েছে। আমাদের নেত্রী, জননেত্রী শেখ হাসিনা তা পুনরুদ্ধারে নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন। রাজনীতির মূল ট্রেন থেকে ছিটকে গিয়ে খালেদা জিয়া আজ রাজনৈতিক দেউলিয়াতে পরিণত হয়েছে।

তিনি বলেন, এত বড় একটি রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডের বিচার করা যাবে না এমন একটি হাস্যকর অমানবিক আইন অধ্যাদেশ আকারে জারি করে তার বৈধতা দিয়েছিলেন জিয়াউর রহমান। তাতেই তারা ক্ষান্ত হননি। বঙ্গবন্ধু পরিবারের সদস্যদের চরিত্র হননে বিভিন্ন কাল্পনিক কাহিনি তৈরি করে তা প্রচারের ব্যবস্থাও করা হয়েছিল। কিন্তু ইতিহাস বড়ই নির্মম। আজ খালেদা জিয়ার দুই ছেলে উচ্চ আদালত কর্তৃক অপরাধী প্রমাণিত। তিনি নিজেও প্রমাণিত হবেন।

খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, এমনও কল্পকাহিনী রটানো হয়েছিল যে, বঙ্গবন্ধু তনয় শেখ কামাল ব্যাংক ডাকাতির সাথে জড়িত ছিল। অথচ শেখ কামালের মতো চৌকস মেধা সংবলিত দ্বিতীয়জন আর বাংলাদেশে জন্ম নেননি। শেখ কামাল একাধারে একজন ক্রীড়াবিদ, সফল সংগঠক, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, সাংস্কৃতিকমনা ও বন্ধুবাৎসল্য ছিলেন।

প্রধান অতিথি বলেন, বঙ্গবন্ধুকে খাটো করার জন্য খালেদা জিয়া ১৫ আগস্টকে তার জন্মদিন হিসেবে বেছে নিলেন। অথচ ১৯৯১ সালের আগ পর্যন্ত ১৫ আগস্ট তার জন্মদিনের কথা জানা যায়নি। বঙ্গবন্ধুর মতো একজন মহান নেতাকে মুছে ফেলার জন্য জিয়াউর রহমান এবং তার স্ত্রী খালেদা জিয়া বহু ষড়যন্ত্র করেছেন। কিন্তু আজ বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে যত গবেষণা, যত আলোচনা হচ্ছে বিশ্বের আর কোনো নেতাকে নিয়ে এমনটি হয়নি।

জাপান আওয়ামী লীগের সভাপতি, আলোচনা সভার সভাপতি সালেহ মোঃ আরিফ সমাপনী বক্তব্যে বলেন, বঙ্গবন্ধু এমনি এক ব্যক্তিত্ব এবং একাধারে প্রতিষ্ঠান, যা শত চেষ্টা করলেও মুছে ফেলা যাবে না। বঙ্গবন্ধুকে জানতে হলে তার অসমাপ্ত আত্মজীবনী পড়তে হবে। অনেক পড়াশুনা করতে হবে। তার মতো একজন মহান নেতাকে পেয়ে বাংলাদেশই কেবল নয়, বিশ্বও ধন্য হয়েছিল। তিনি ১৫ আগস্ট ’৭৫ এবং ২১ আগস্ট ’০৪ নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে এবং প্রধানমন্ত্রী, জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বের প্রতি অবিচল থেকে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ার আহ্বান জানিয়ে সভার সমাপ্তি ঘোষণা করেন।
rahmanmoni@gmail.com

সাপ্তাহিক

Comments are closed.