শ্রীনগরে হজ্বে পাঠানোর কথা বলে ১৫ লাখ টাকা নিয়ে মাদ্রাসা সুপার উধাও!

আরিফ হোসেন: হজ্বে পাঠানোর কথা বলে ৫ জনের কাছ থেকে ১৫ লাখ টাকা ও পাসপোর্ট নিয়ে উধাও হয়ে গেছে শ্রীনগর উপজেলার এক মাদ্রাসা সুপার। টানা দুই বছর অপেক্ষার পর হজ্বে যাওয়ার জন্য পরিবার পরিজনের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে এসে ওই হজ্ব যাত্রীরা মাদ্রাসা সুপারের প্রতারণার শিকার হয়ে এখন মানসিক ভাবে ভেঙ্গে পরেছেন। প্রতিকার চেয়ে লিখিত অভিযোগ করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারের কাছে।

লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানাগেছে, উপজেলার দয়হাটা গাউসুল আযম জিলানিয়া দাখিল মাদ্রাসার সুপার ও পটুয়াখালী জেলার চরমৈসাদী দক্ষিন ধরান্দী গ্রামের মৃত কাদের মৃধার ছেলে সোহরাব হোসেন তার গ্রামের বাড়ীর এলাকার একেএম কবির উদ্দিন (৬২), নুর মোহাম্মদ খান (৭০), আব্দুল খালেক মাষ্টার (৭৫), কাশেম শরীফ (৭৫), আবুল কালাম মীর (৬০) কে ২০১৫ সালে ঢাকার পুরানা পল্টনের ডাঃ নওয়াব আলী টাওয়ারের দ্বিতীয় তলায় অবস্থিত মেসার্স ফিজা এয়ার ট্রাভেল ও ট্যুরস এর মাধ্যমে হজ্বে পাঠানোর কথা বলে ৫ জনের কাছ থেকে ৩ লাখ করে ১৫ লাখ টাকা নেয়। কিন্তু গত বছর হজ্বে পাঠাতে না পেরে তাদের কাছে অনুনয় বিনয় করে এবছর হজ্বে পাঠাবে বলে প্রতিশ্রতি দেয় এবং সারা বছর ধরে যোগাযোগ রক্ষা করে আসে। কয়েকদিন আগে হজ্ব প্রত্যাশীদেরকে ৪ সেপ্টেম্বর ফ্লাই করা হবে জানিয়ে শ্রীনগর আসতে বলে। গত ৩ সেপ্টম্বর তারা পটুয়াখালী থেকে পরিবার পরিজনের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে শ্রীনগর এসে দেখে সোহরাব হোসেন তার কর্মস্থলে নেই এবং তার মোবাইল ফোনটিও বন্ধ। পরে ৪ সেপ্টেম্বর ভুক্তভোগীরা ঢাকায় ফিজা ট্রাভেলসে গিয়ে দেখতে পান সেখানেও তালা ঝুলছে। প্রতারণার বিষটি বুঝতে পেরে তারা কান্নায় ভেঙ্গে পরেন এবং শ্রীনগরে ফিরে এসে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার ও মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সভাপতি বরাবর লিখিত অভিযোগ করে।

এব্যাপারে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আজিজুল হক লিখিত অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, মাদ্রসার সহ সুপার তাকে জানিয়েছেন শনিবার থেকে সোহরাব হোসেন মাদ্রাসায় উপস্তিত নেই। কোথায় গেছেন কিছু বলে জাননি। বিষটি তদন্ত করে মাদ্রাসা সুপারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Comments are closed.