নৃত্যশিল্পী হওয়ার স্বপ্নে দেড় যুগ লড়ছেন মৌরিন

হাঁটতে পারেন না, বসতে পারেন না। অবশ কোমর থেকে পা পর্যন্ত। সেজন্য সারাক্ষণই থাকতে হয় শুয়ে অথবা হুইল চেয়ারে। তবু দেখে চলেছেন সে স্বপ্ন, শৈশবে যে স্বপ্ন বেঁধেছিলেন, নৃত্যশিল্পী হওয়ার।

গত দেড় যুগ ধরে এ স্বপ্ন হৃদয়ে ধারণ করে লড়ে আসা তরুণীর নাম সানজিদা আক্তার মৌরিন (২৬)। শুক্রবার (১৯ আগস্ট) সন্ধ্যায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন এ তরুণীর সঙ্গে কথা হয় বাংলানিউজের।

বিছানায় শুয়ে থাকতে থাকতে কোমরে যে ক্ষত হয়েছে তার চিকিৎস‍ার জন্য মৌরিনকে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে ঢামেকে। তিনি মুন্সীগঞ্জ জেলার লৌহজং উপজেলার বসতগাঁও গ্রামের নুরুল হকের মেয়ে।

আলাপে সেই দুর্ঘটনা আর সংগ্রামের কথা বলছিলেন মৌরিন। তিনি জানান, তার শৈশবের লালিত এ স্বপ্নের পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায় আট বছর বয়সে ঘটে যাওয়া এক দুর্ঘটনা।

তিনি বলছিলেন, ‘আট বছর বয়স তখন। গেন্ডারিয়ায় একটি ছয়তলা ভবনে থাকতাম। ওই ভবনের ছাদে নূপুর পরে এক শিক্ষিকার কাছে নাচ শিখছিলাম। হঠাৎ নাচতে নাচতে ছাদ থেকে পড়ে যাই।’

পড়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কোমরের হাড় ভেঙে যায় তখনকার শিশু মৌরিনের। বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা করেও কিছুতেই কিছু হয়নি।

মৌরিন বলছিলেন, ‘বিছানায় পড়ে গেলেও শুয়ে শুয়ে পায়ে নূপুর পরে মনে মনে নাচি। নিজে নূপুর পরতে পারি না। কিন্তু ছোট ভাই নূপুর পরিয়ে দেয়।’

আলাপে জানা যায়, এই অবস্থার মধ্যেই অর্থাৎ হুইল চেয়ারে বসেই দাখিল (মাদ্রাসা) পাস করে ফেলেন মৌরিন। সেই আত্মবিশ্বাস থেকে তিনি এখনও মাঝে মাঝে ঘুঙুর পরে হুইল চেয়ারে বসে মনে মনে নাচেন।

মৌরিনের দৃঢ়বিশ্বাস, একদিন তিনি সুস্থ হয়ে আবার নিজের পায়ে দাঁড়াবে এবং নাচবেন। হবেন নৃত্যশিল্পী।

চিকিৎসাধীন মৌরিন সবার কাছে তার স্বপ্নপূরণের জন্য দোয়া কামনা করেন, যেন তাড়াতাড়ি সুস্থ হয়ে আবার নূপুর পরে নাচতে পারেন।

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর

Comments are closed.