সিরাজদিখানে আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে জমি দখলের অভিযোগ

মুন্সীগঞ্জ সিরাজদিখানে আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে জমি দখল করে পাকা ঘর নির্মাণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ নিয়ে বাদী পুনরায় পুলিশের কাছে অভিযোগ করেছে। অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, সিরাজদিখান উপজেলার বয়রাগাদী ইউনিয়নের গোবরদি মৌজায় ৮৫৭,৮৫৮,৮৫৯,৮৬০.৮৬১,৮৫৭ নম্বর দাগে ১৮৮ শতক জমি দীর্ঘ দিন ধরে ভোগ দখল করে আসছিলেন চিকনিসার গ্রামের মৃত আঃ রহমানের মেয়ে সৈয়দা হেনা আক্তার ও তার বোনেরা।

কিন্তু একই গ্রামের মৃত মোয়াজ্জেম হোসেনর ছেলে হাজী আব্দুল সাত্তার (৬৫)এই জমির মালিকানা দাবী করলে ২০১৪ সালে সৈয়দা হেনা আক্তার মুন্সীগঞ্জ অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি মামলা (মামলা নং ২৩২) দায়ের করেন। সৈয়দা আনজুমারা হেনা জানান, মামলা দায়েরের প্রেক্ষিতে সৈয়দা আনজুমারা হেনাকে আদালতে তার কাগজপত্র দাখিল করার নির্দেশ দেয়া হয়। সৈয়দা আনজুমারা হেনা আদালতে জমির যাবতীয় কাগজপত্র দাখিল করে কেউ যাতে দখল করতে না পারে এজন্য নিষেধাজ্ঞা চেয়ে আবেদন করেন। আদালত অস্থায়ীভাবে জমির উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে বাদীকে কারণ দর্শানোর জন্য নির্দেশ দেন।

কিন্তু মামলার বিবাদী আঃ সাত্তার ও তার ছেলে মেয়েরা আদালতের অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে বিরোধপূর্ণ জমি দখল করে পাকা ঘর নির্মাণ করছেন। এ ঘটনায় সৈয়দা আনজুমারা হেনা আদালতের নিষেধজ্ঞার ইনফরমেশন মামলার কাগজপত্রসহ একটি লিখিত অভিযোগ করলে সিরাজদিখান থানা পুলিশ দখলকারীদের পাকা ঘর নির্মাণ কাজ বন্ধ করে দেয়। আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে দখলকারীরা গত মঙ্গলবার দিনভর ঘরের নির্মাণ কাজ করতে থাকলে পুনরায় পুলিশের কাছে অভিযোগ করা হয়েছে বলে সৈয়দা আনজুমারা হেনা জানান।

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত হাজী আব্দুল সাত্তার ও তার মেয়ে সুমনা আক্তার বলেন, আমাদের ১০৩ শতাংশ জায়গা রয়েছে এর মধ্যে ৫২শতাং জায়গা জোত ও ৫১ শতাংশ জায়গা লিজ নেয়া। ৫২শতাংশ জোত জায়গার ২৪শতাং আমার পৈত্রিক সম্পত্তি আর বাকী ২৭ শতাংশ হিন্দুদের থেকে নগদ টাকায় ক্রয়করা যার দলিল রয়েছে আমাদের। লিজ নেয়া সম্পত্তি ২০১০ইং সালের পর আর নবায়ন করা হয় নাই। গোবদি মৌজার ৩০১ নং দাগে ২১ শতাংশ আমাদের জায়গা যেখানে আমরা পাকা ঘর নির্মান করেতেছি। ক্ষতিগ্রস্থ সৈয়দা আনজুমারা হেনা বলেন, গোবরদি মৌজার ৮৫৭,৮৫৮,৮৫৯,৮৬০.৮৬১,৮৫৭ নম্বর দাগে ১৮৮ শতক জমি এস এ ৪১,৪২ ,আর এস ৬৬,২৪৬ ও সিএস ও এসএ৭৪৫ নং খতিয়াভূক্ত হাল ভিটি জমির মালিক তিনি । আ: সাত্তার গংরা আমার জমিতে জোরপূর্বক বেড়া, ঘর নির্মাণ করতে না পারে সেজন্য আমি আদালতের আশ্রয় নিই। আদালত নালিশী ভূমিতে স্থিতিঅবস্থা বজায় রাখার জন্য নির্দেশনা প্রদান করেন।

কিন্তু পতিপক্ষ প্রভাবশালী হওয়ায় বাহিরাগত লোক দিয়ে জমিটি দখল করে নেয়। আমি ঘটনার সাথে সাথে সিরাজদিখান থানাকে জানালে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে পাকা গড় নির্মান বন্ধ করতে বলে। আঃসাত্তরা আমার বাড়ির রাস্তা কেটে আমাদেও যাতায়াত বন্ধ কওে দিয়েছে। আমরা সবাই মেয়ে মানুষ তাই ওরা আমাদের গায়ের জোর এসব করছে। আমি প্রশাসনের কাছে ন্যায় বিচার দাবি করি। এ প্রসঙ্গে সিরাজদিখান থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ ইয়ারদৌস হাসান বলেন, নিষেধাজ্ঞা অমান্য করলে দখলকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

জনকন্ঠ

Comments are closed.