শ্রীনগরে ব্যানার ফেষ্টুনে নেতা-কর্মীদের ছবি নিয়ে ক্ষোভ ঝাড়লেন ওবায়দুল কাদের

আরিফ হোসেন: শ্রীনগরে বন্যাদুর্গতদে মাঝে ত্রাণ বিতরণ করতে এসে ব্যানার ফেষ্টুনে নেতা কর্মীদের ছবি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন সড়ক ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি তার বক্তব্যে বলেন, এখন পাতি নেতা ও আধুলী-সিকি নেতায় দেশ ভরে গেছে। এতো নেতা হলে দেশ চলবে কিভাবে? আমাদের নেতা একজন, তিনি হলেন প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনা। সমাবেশ স্থলের বিভিন্ন ব্যানার ফেষ্টুন দেখিয়ে তিনি বলেন, আজকাল এসব ব্যানারে ফেষ্টুনে দেখা যায়, বঙ্গবন্ধুর ছবি ছোট আকারে, শেখ হাসিনার ছবি আরো ছোট। যিনি নেতা তার ছবি বড় আর যিনি সৌজন্যে দিয়েছেন তার ছবি অনেক বড়। তিনি নেতা কর্মীদের উদ্দেশ্য বলেন, বিলবোর্ড, ব্যানার, ফেষ্টুন, পোষ্টারের ছবি আজ আছে কাল থাকবেনা। কাজের মাধ্যমে মানুষের মনে ছবি আকেন ওই ছবি থেকে যাবে। তার ছবি ব্যানার ফেষ্টুনে ব্যাবহার না করার জন্য তিনি স্থানীয় সংসদ সদস্যকে অনুরোধ করেন। পাশাপাশি তিনি ঢাকা-মাওয়া মহাসড়কে ব্যানার ফেষ্টুন লাগাতে নিষেধ করেন।

অনুষ্ঠান চলাকালে সেতু মন্ত্রী সহ অন্যান্য অতিথীদের ভাগ্যকুলের বিখ্যাত ঘোল পরিবেশন করা হয়। এসময় অন্যান্যরা ঘোল খেলেও সেতু মন্ত্রী বন্যার্তদের সামনে বসিয়ে রেখে ঘোল খেতে অস্বীকৃতি জানান। এসময় মন্ত্রীকে ঘোল খাওয়ার জন্য বার বার অনুরোধ করা হলে তিনি আয়োজকদের উপর ক্ষেপে যান এবং বলেন বন্যার্তদের সামনে রেখে এটা খাওয়া সম্ভব নয়। পুনরায় অনুরোধ করা হলে তিনি ঘোল ফেলে দেওয়ার কথা বলেন। বন্যার্ত বৃদ্ধ নারী-পুরুষ ও শিশুদের দেখিয়ে বলেন এরা সেই সকাল থেকে কষ্ট করে এখানে বসে আছে। তাদেরকে আপনাদের চোখে পড়েনা?

বৃহস্পতিবার দুপুরে শ্রীনগর উপজেলার ভাগ্যকূল হরেন্দ্রলাল উচ্চ বিদ্যালয়ের বন্যাদূর্গতদের মাঝে ত্রান বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথীর বক্তব্যে তিনি আরো বলেন, পদ্মা সেতু নির্মাণে বিশ্ব ব্যাংক আমাদেরকে চোর অপবাদ দিয়ে চলে গিয়েছিল। বিশ্ব ব্যাংকের টাকা ছাড়াই জননেত্রী শেখ হাসিনা সাহসী ভূমিকা নিয়ে ৩০ হাজার কোটি টাকা ব্যায়ের পদ্মা সেতু নির্মানের কাজে হাত দেন। আমরা বীরের জাতি তা পদ্মা সেতু নির্মাণ করে আবার প্রমান করেছি। পদ্মা নদীর উপড় সেতু নির্মানের চাইতে আমাদের কাছে বিষয়টি ছিল সন্মানের। এটা আমাদের প্রেষ্টিজ ইস্যু।

আগামী ২ বছরে পদ্মা সেতু নির্মান হলে এঅঞ্চলে কেউ আর গরীব থাকবেনা। কারো সাহাজ্যের প্রয়োজন হবেনা। এবছর রিলিফ চুরির কোন অভিযোগ নেই। নিজ ঘরে পুনর্বাসন না হওয়া পর্যন্ত বন্যার্তদেরকে সাহাজ্য দেওয়া হবে। দলীয়

মুন্সীগঞ্জ জেলা প্রশাসনের আয়োজনে এক হাজার বন্যার্তদের মাঝে ত্রাণ হিসাবে চাল, চিড়,চিণি ও নগদ টাকা বিতরনের করা হয়। অনুষ্ঠানের মুন্সীগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ফজলে আজীমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বক্তব্য রাখেন মুন্সীগঞ্জ ১ আসনের এমপি সুকুমার রঞ্জন ঘোষ, মুন্সীগঞ্জ ৩ আসনের এমপি মৃণাল কান্তি দাস, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা বিষয়ক সম্পাদক ডা: বদিউজ্জামান, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক লুৎফর রহমান, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তোফাজ্জল হোসেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা যতন মার্মা, সহকারী কমিশান (ভূমি) দিলরুবা শারমিন, মনির হোসেন মিটুল, হাজী নেছারউল্লাহ সুজন, মশিউর রহমান চপল প্রমুখ।

Comments are closed.