লৌহজংয়ে স্বামীর ইলেক্ট্রিক সকে স্ত্রী হাসপাতালে

মোঃ জাফর মিয়া: মুন্সিগঞ্জে পাষন্ড স্বামীর ইলেক্ট্রিক সকে স্ত্রী হাসপাতালে মৃত্যু শয্যায়। স্বামীর অমানবিক অত্যাচার আর নির্যাতনের শিকার হয়ে হাসপাতালে কাতরাচ্ছেন গৃহবধু সীমা।

জানা গেছে ১১ বছর আগে জেলার লৌহজং থানার জশলদিয়া গ্রামের কৃষক হাতেম আলীর মেয়ে সীমা আক্তারের বিয়ে হয় পাশের থানা শ্রীনগরের কামার খাড়া গ্রামের মৃত কানু শেখের ছেলে পান্নু শেখের সাথে। বিয়ের সময় পান্নুকে নগদ টাকা আর আসবাবপত্র দিলেও যৌতুকের টাকার জন্য প্রায়সই চাপ দিয়ে আসছিল সীমাকে। সীমার বাবা গরিব কৃষক তার বাবার টাকা দেওয়ার সামর্থ নাই জানালেও নির্যাতন করতে থাকে পাষন্ড স্বামী পান্নু।

এরই মাঝে পান্নুর ঔরষে ২ সন্তান জন্ম দেয় সীমা। মাঝে মধ্যে গরিব পিতার কাছ থেকে টাকাও এনে দেয় সীমা। পান্নু এখন কোন কাজ করেনা। সংসার চলে সীমার পরের বাড়ি কাজ করে। পান্নু স্ত্রীর টাকায় নেশা খেতে চায়। এক পর্যায়ে সীমার উপর অত্যাচারের মাত্রা বাড়িয়ে দেয় পাষন্ড সামী পান্নু।

গত ৭ আগষ্ট সন্ধায় পান্নু টাকা চায় স্ত্রী সীমার কাছে সীমা টাকা পাবে কোথায় জানালেই সীমাকে বেধড়ক পেটাতে থাকে। সীমা মার খেয়ে বেহুশ হয়ে পড়লেই তাকে ইলেক্ট্রিক তার দিয়ে সক দিতে থাকে। সীমার বাম হাতের তিনটি আংগুলে ইলেট্রিক সক দিয়ে পুড়িয়ে দেয় পাষন্ড স্বামী। সীমার ৭ বছরের মেয়ে সামিয়া মাকে বাঁচাতে চিৎকার কর কাদতে থাকলে প্রতিবেশীর সহায়তায় সীমা মুমুর্ষ অবস্থায় পাশের গ্রামে তার ফুফুর বাড়িতে ওঠে।

সীমা শ্রীনগর থানায় গেলেও থানা কর্তৃপক্ষ মামলা না নিয়ে আদালতে পাঠায়। অবশেষে জেলা লিগ্যাল এইডের কর্মকর্তার উদ্দোগের সীমাকে মুন্সিগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়। সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক ডা: মো: সাখাওয়াত হোসেন জানান সীমার শারীরীক অবস্থা খুবই দুর্বল। পুষ্টির অভাব এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে মারাত্মক জখম রয়েছে। গলায় চামড়া ক্ষতিগ্রস্থ্র হযেছে। সে এখন সদর হাসপাতালের মহিলা ওয়ার্ডের ৪ নম্বর সিটে জীবন মরন সন্দিক্ষনে।

সীমা বিচার চায়। হাসপাতালে তাকে দেখার কেউ নাই। আরএমও এবং লিগ্যাল এইডের দুই কর্মচারি জয় এবং জুবায়েরই তার দেখা শুনা করছে। সীমার সেই পাষন্ড স্বামী পান্নুুর যথায়ত বিচার চায় হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা শত শত রুগী আর সচেতন মানুষ।

মুন্সিগঞ্জ নিউজ

Comments are closed.