সংকটে কে কে গভর্নমেন্ট ইনস্টিটিউশন: পদ ৫২, ফাঁকা ২৭টি

শিক্ষকসংকটে পড়েছে মুন্সিগঞ্জ শহরের কে কে গভর্নমেন্ট ইনস্টিটিউশন। জেলার ঐতিহ্যবাহী এই মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকের ৫২টি পদের মধ্যে ২৭টি ফাঁকা। প্রয়োজনীয় সংখ্যক শিক্ষক না থাকায় শাখা কমিয়ে পাঠদান করা হচ্ছে। শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় মানসম্মত পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন অভিভাবকেরা।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ১৯৪২ সালে জেলা শহরের মধ্য কোর্টগাঁও এলাকায় প্রায় পৌনে তিন একর জমিতে প্রতিষ্ঠিত হয় কে কে গভর্নমেন্ট ইনস্টিটিউশন। ১৯৬৯ সালে এটি জাতীয়করণ হয়। বর্তমানে বিদ্যালয়টি প্রভাতি ও দিবা দুই শাখায় পরিচালিত হচ্ছে। দুই শাখা মিলে মোট ছাত্র রয়েছে ১ হাজার ৫৮৮ জন। দিবা ও প্রভাতি মিলে শিক্ষক রয়েছেন ২৫ জন। শিক্ষকের ৫২টি পদ থাকলেও ফাঁকা রয়েছে ২৭টি।

বিদ্যালয়ের তিন-চারজন শিক্ষক জানান, ২০১২ সালের পর থেকে শিক্ষকসংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে। বর্তমানে দিবা শাখায় বাংলার জন্য কোনো শিক্ষকই নেই। অন্যদিকে প্রভাতি শাখায় নবম শ্রেণির বাণিজ্য শাখা থাকলেও হিসাববিজ্ঞানের কোনো শিক্ষক নেই। শারীরিক শিক্ষা বিষয়ে শিক্ষককেও ক্লাস নিতে হয়। অন্য বিষয়গুলোয় একটি বা দুটি করে শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। তাঁরা আরও জানান, চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীর সাতটি পদ রয়েছে কিন্তু কর্মরত মাত্র একজন। সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের জন্য কোনো মিলনায়তনও নেই।

শিক্ষক গাজী নুরুল হক বলেন, আগে ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত প্রভাতি ও দিবা শাখার শ্রেণিকক্ষ ছিল ১৭টি। শিক্ষকের সংকটের কারণে তা ১০টিতে কমিয়ে আনা হয়েছে। প্রতি শ্রেণিকক্ষে ৬০ জনের আসন থাকলেও সেখানে ৮০ থেকে ৯০ জন বসছে। নবম শ্রেণির বাণিজ্য শাখায় ১২০ জন ছাত্র রয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দিবা শাখার এক ছাত্র জানায়, ক্লাসে এত বেশি ছাত্র যে স্যার বেশির ভাগ শিক্ষার্থীর পড়া ধরতে পারেন না। প্রায় প্রতিদিনই দু-একটি ক্লাস হয় না। তখন হই-হুল্লোড় ও দুষ্টুমি করে সময় কাটে।

কয়েকজন অভিভাবক জানান, এ বিদ্যালয়ের দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য ও সুনাম রয়েছে। এখন সেই সুনাম নষ্ট হওয়ার পথে। তাঁরা অভিযোগ করেন, শ্রেণিকক্ষে পড়ানোর চেয়ে অনেক শিক্ষকের প্রাইভেট পড়ানোর দিকে মনোযোগ বেশি। এসব কারণে বিদ্যালয়ে মানসম্মত পাঠদান নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে। পাসের হার সন্তোষজনক হলেও এসএসসিতে জিপিএ-৫ পাচ্ছে কম।

এ প্রসঙ্গে প্রধান শিক্ষক আনিসা সুলতানা বলেন, শিক্ষক সংকটের কারণে জোড়াতালি দিয়ে ক্লাস চালাতে হচ্ছে। শিক্ষক স্বল্পতার বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। অবিলম্বে শিক্ষকের শূন্য পদ পূরণ করা হলে শিক্ষার্থীদের মানসম্মত পাঠদান সম্ভব হবে। তবে শিক্ষকদের প্রাইভেট পড়ানোর বিষয়ে তিনি বলেন, এ ব্যাপারে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দেওয়া নির্দেশনা নোটিশ বোর্ডে টাঙিয়ে দেওয়া হয়েছে। কেউ নিয়ম লঙ্ঘন করলে তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জেলা প্রশাসক মো. সাইফুল হাসান বলেন, শিক্ষকসংকটের কথা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। শিগগিরই অভিভাবকদের নিয়ে একটি মতবিনিময় সভা করব। এতে বিদ্যালয়ের সমস্যা চিহ্নিতকরণে অভিভাবক ও শিক্ষকদের মতামত নেওয়া হবে।

প্রথম আলো

Comments are closed.