সংবাদ নিয়ে দিনভর শ্রীনগরে তোলপাড়: বিকালে স্বেচ্ছায় থানায় এসে হাজির

একমাস ধরে নিখোঁজ কলেজ ছাত্রীর জঙ্গী কানেকশন
আরিফ হোসেন: শ্রীনগরে একমাস ধরে নিখোজ এক কলেজ ছাত্রীর জঙ্গী কানেকশন নিয়ে কয়েকটি সংবাদ মাধ্যমে খবর প্রকাশ হলে এ নিয়ে জেলায় কর্মরত সংবাদ কর্মী, প্রশাসন ও সাধারণ লোকজনের মধ্যে তোলপাড় শুরু হয়। গত কয়েকদিন পূর্বে ওই ছাত্রী তার পরিবারের লোকজনকে ফোনে জানায় সে পবিত্র স্থানে রয়েছে এবং ভালো আছে। তাকে খোজাখুজি করে লাভ নেই। এর বরাদ দিয়ে সংবাদ মাধ্যমগুলো তার জঙ্গী সম্পৃক্ততার সংবাদ পরিবেশন করলে নড়ে চড়ে বসে শ্রীনগর থানা পুলিশ। শুরু হয় দৌড় ঝাপ। কিন্তু সবাইকে অবাক করে দিয়ে বিকাল পাচটার দিকে ওই ছাত্রী সেচ্ছায় শ্রীনগর থানায় এসে হাজির হয় এবং কেউ যেন হয়রাণীর শিকার না হয় এজন্য একটি সাধারণ ডাইরী করার কথা বলে। পরিচয় পেয়ে থানা পুলিশ তাকে তাৎক্ষনিক ভাবে আটক করে।

মঙ্গলবার সকালে নিখোজ সরকারী শ্রীনগর কলেজের একাদশ শ্রেণীর ছাত্রী নুরুন নাহার ইরার বাবা ইয়াকুব আলী ও মা শামীমা বেগম কয়েকটি টিভি চ্যানেল ও অনলাইন পোর্টালের সাংবাদিকদের কাছে শঙ্কা প্রকাশ করে বলেন তাদের মেয়ে বিদেশে জঙ্গী মিশনে যেতেই বাড়ি ছেড়েছে। ফোন কলের পর তাদের এ ধারণা আরো পোক্ত হয়। তাছাড়া নিখোঁজের কিছু দিন পূর্বে সে বাড়িতে ধর্মীয় বই আনা শুরু করে এবং হঠাৎ করে বোরখা পড়া শুরু করে। গত ১৯ জুন নিজ বাড়ি থেকে বের হয়ে আর ফিরে আসেনি। এর ২০ দিন পর গত ১০ জুলাই তাঁর মা শামীমা আক্তার শ্রীনগর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। যা কিনা গুলশান ও শোলাকিয়ার জঙ্গী হামলার পরে করা হয়। থানায় জিডি করার পর পুলিশ তাদের বাসা থেকে দুটি ধর্মীয় বই উদ্ধার করে। তবে শ্রীনগর থানার অফিসার ইনচার্জ সাহিদুর রহমান জানান এগুলো সাধারণ ধর্মীয় বই।

ইরার বাবা জানান, সমষপুর বিজনেস ম্যানেজমেন্ট স্কুল এন্ড কলেজ থেকে ২০১৫ সালে এসএসসি পাস করে। এরপর শ্রীনগর সরকারি কলেজের একাদশ শ্রেণীতে ভর্তি হয়। কোন কারণ ছাড়াই তার মেয়ে হঠাৎ করে উধাও হয়ে যায়। কলেজে যাওয়ার কথা বলেই ওই দিন বাড়ি থেকে বের হয়েছিল ইরা। এর পর আর ফেরেনি।

মঙ্গলবার ইরার পরিবারের কাছ থেকে পাওয়া একটি ছবির সূত্র ধরে মাঠে নামে পুলিশ। ছবিতে দাড়ি ওয়ালা এক যুবকের সাথে ইরা ও তার আরো দুই বান্ধবী রয়েছে। ওই যুবকের সন্ধান করতে গিয়ে দেখা যায় তার নাম সিরাজুল ইসলাম নয়ন (৩৫)। সে পাবনার বর্জনাথপুর গ্রামের আঃ হামিদের ছেলে। সিরাজুল ইসলাম বর্তমানে সমষপুর বিজনেস ম্যানেজমেন্ট স্কুল এন্ড কলেজের পরিচালনা পরিষদের সভাপতি ফজলুল হক হান্নুর মালিকানাধীন ঢাকার গুলশান-২ এর ৭২ নম্বর সড়কের ১৫ নং বাড়িতে অবস্থিত আহামেদ গ্রুপের কর্মকর্তা। তাকে ২০১৫ সালে ওই স্কুলের খন্ড কালীন শিক্ষক হিসাবে নিয়োগ করা হয়েছিল। ওই বছর এএসসি পরীক্ষার পূর্বে সে ইরা সহ আরো কয়েক জনের গাইড হিসাবে তিনমাস নিযুক্ত ছিল।

গতকাল দুপুর দুইটার দিকে পুলিশ সিরাজুল ইসলামকে শ্রীনগর থানায় হাজির করার জন্য আহমেদ গ্রুপের কর্নধারকে অনুরোধ করলে সিরাজুল ইসলামকে ওই প্রতিষ্ঠানের একটি গাড়িতে করে তার কয়েকজন সহকর্মী সহ গুলশান থেকে শ্রীনগর পাঠানো হয়। সিরাজুল ইসলাম থানায় পৌছানোর আধ ঘন্টা পূর্বে ইরা সেচ্ছায় থানায় এসে হাজির হয় এবং তার জন্য অন্য কাউকে হয়রানী না করতে বলে।

শ্রীনগর থানার অফিসার ইনচার্জ সাহিদুর রহমান জানান, ওই কলেজ ছাত্রী এই এক মাস কোথায় ছিল এ নিয়ে বিভ্রান্তি মূলক তথ্য দিচ্ছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

Comments are closed.