জঙ্গিদের জামিন ঠেকাতে কোঅর্ডিনেশন সেল দরকার

অ্যাটর্নি জেনারেল
জঙ্গি মামলায় জামিন ঠেকাতে অ্যাটর্নি জেনারেল অফিস ও পাবলিক প্রসিকিউটর অফিসকে তথ্য দিতে একটি কোঅর্ডিনেশন সেল গঠনের উপর জোর দিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম।

মঙ্গলবার দুপুরে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ তথ্য দেন তিনি।

জঙ্গিরা আইনের ফাঁকফোকরে বেরিয়ে যাচ্ছে এমন সংবাদ অনেক গণমাধ্যমে প্রকাশিত হচ্ছে। এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে মাহবুবে আলম বলেন, ‘জামিন পেয়ে যাওয়ার ব্যাপারে একটি কো-অর্ডিনেশন সেল থাকা দরকার। যারা নাকি জঙ্গি তাদের ব্যাপারে একেবারে কম্পিউটারে নাম থাকা উচিত। এবং সেই কম্পিউটার প্রত্যেক জেলায় যারা পিপি আছেন তারা যাতে বোতাম টিপলেই সেসব নাম পান। আমার অফিসেও এটা থাকা উচিত যাতে বোতাম টিপলেই আমি কোন জেলায় সন্ত্রাসী মামলায় কে কে আছে এবং তাদের জামিন কখন হয়েছে বা তাদের জামিন আবেদন কখন করা হয়েছে, এটা যাতে আমরা জানতে পারি।’

এ ধরনের সেল শুধু থাকলেই হবে না, তাদের সর্বোচ্চ প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে সরকারি আইনজীবীদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখার কথাও বলেন অ্যাটর্নি জেনারেল।

তিনি বলেন, ‘এ ব্যাপারে ইনফরমেশন টেকনোলজি যতো এপ্লিকেশন হবে ততো এটা ত্বরিত গতির হবে। একটা সেল থাকা দরকার। শুধু মাত্র তাদের ব্যাপারে পর্যালোচনা করার। আর সেই সেলকে শুধু ঘরে বসে থাকলে হবে না, তাদের অনবরত যোগাযোগ করতে হবে পাবলিক প্রসিকিউটর অফিসের সাথে, অ্যাটর্নি জেনারেল অফিসের সাথে।’

এ ধরনের সেলের প্রয়োজনীয়তার কথা ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, ‘এটা নিশ্চয়ই জঙ্গিরা নানারকম চালাকির সুযোগ নিচ্ছে। দরখাস্তে লিখছে ১৭ নম্বর কোর্টে মুভ করবে। কিন্তু মুভ করছে ১৩ নম্বর কোর্টে। আমার ওই অফিস, ওই কোর্ট ওটা জানতে পারে না। যদি এটা ট্র্যাকিং করতে থাকে কোন কোর্টে কোন মামলা নিয়ে মুভ করল, এবং ইমিডিয়েটলি যদি আমাকে জানানো হয়, আমরা অথবা আমার সহকর্মীরা যাতে প্রবলভাবে বাধা দিতে পারি।’

জঙ্গিদের জামিনের ক্ষেত্রে এজাহার ও চার্জশিটে দুর্বলতা যেন না থাকে সেকথাও বলেন অ্যাটর্নি জেনারেল। তিনি বলেন, ‘আর সবচেয়ে বড় কথা জঙ্গিদের ব্যাপারে যখন এজাহার করা হয়, সেটা যদি ঠিকমতো করা না হয়, তাদের থেকে কি কি আলামত পাচ্ছে সেটা যদি সঠিকভাবে না উল্লেখ করা হয়, অথবা চার্জশিট যদি ঠিকমতো না দেওয়া না হয়, তাহলে তার ফাঁকফোকরেই তারা বেইলের সুযোগ নিচ্ছে।’

সুনির্দিষ্ট কিছু সুপারিশের কথা উল্লেখ করে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, ‘চার্জশিট যাতে ঠিক মতো হয়, অ্যাপায়ার যাতে ঠিকমতো হয়, আলামত যাতে ঠিকমতো করা হয় এটা একটা জিনিস। দুই নম্বর একটি কো-অর্ডিনেটর সেল থাকা যারা পিপি অফিস ও আমার অফিসের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখবে। সবচেয়ে বড় কথা হলো ইনফরমেশন টেকনোলজিকে এখানে ব্যবহার করা। যাতে জঙ্গিদের নাম ও তারা কোন থানার আসামী এগুলো যাতে কম্পিউটারের বোতাম টিপলেই আমরা পেতে পারি। চতুর্থত তারা কোন আদালতে কখন গিয়ে মুভ করছে সেটা নখদর্পনে রাখা যাতে আমরা সেগুলো ঠিকমতো দেখতে করতে পারি।’

জঙ্গি মামলা নিস্পত্তিতে দীর্ঘ সূত্রিতা নিয়েও সমালোচনা হচ্ছে। আইনের প্রক্রিয়া শেষ করে দণ্ড কার্যকর করতে গিয়েই এমনটি হচ্ছে বলে জানালেন অ্যাটর্নি জেনারেল। তিনি বলেন, ‘মূল আদালত যদি তাদের মৃত্যুদণ্ড প্রদানও করেন তা কার্যকর হয় না যদি হাইকোর্ট সেটাকে কনফার্ম না করে বহাল না রাখে। পঞ্চম সংশোধনীর প্রেক্ষিতে এখন মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দণ্ডিত যে কোনো লোক তার তিনি আপিল করলে অটোমেটিক আপিল হিসেবে হিসেবে ট্রিট হয়, লিভ পিটিশন হিসেবে নয়। তাই প্রত্যেকটা মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামী তিনটা কোর্টে বিচারের সুযোগ নিতে পারছে। এক. ট্রায়াল কোর্টে, হাইকোর্টে আপিলে এবং সুপ্রিম কোর্টে আপিল হিসেবে ট্রিট হচ্ছে। ফলে দুটি কোর্টে এটি আপিল হিসেবে থাকার পরিপ্রেক্ষিতে সময় বেশি লেগে যাচ্ছে।’

তারপরও আপ্রাণ চেষ্টা তারা করছেন উল্লেখ করে মাহবুবে আলম বলেন, ‘আমরা আপ্রাণ চেষ্টা করছি। বিচারপতিদেরও আইনের ফরমালিটিজ অবজার্ভ করেই বিচার করতে হয়। সুতরাং আইন মোতাবেকই চলতে হচ্ছে। ও আইন মোতাবেকই এগুলো নিস্পত্তি হবে। এবং সুপ্রিম কোর্ট এগুলো বহাল রাখে তাহলে এগুলো কার্যকর হবে। তাই সবাইকে ধের্য্য ধরে একটু অপেক্ষা করতে হবে।’

শীর্ষ নিউজ

Comments are closed.