সিরাজদিখানে শ্রেণিকক্ষে কোচিং

মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার কোলা ইউনিয়নের থৈরগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষকের নামে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। স্কুল চলাকালিন শ্রেণিকক্ষে একই সাথে চলে ক্লাশ ও কোচিং। টিফিনের সময় ছাত্রছাত্রীরা বের হলে বই ভিতরে থাকা অবস্থায় শিক্ষকরা তালা দিয়ে চলে যায়।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে প্রধান শিক্ষিকা শাহানা বেগম স্কুলে এসে হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর দিয়ে চলে যান। কোন কোন দিন ঘণ্টা খানেক থাকেন।

তিনি স্থানীয় হওয়ায় স্কুলের সময় বাড়িতে কাটান। তার অবহেলার কারণে অন্যান্য শিক্ষিকরা স্কুল চলাকালিন ছাত্রছাত্রীদের নিয়ে মাঠে খেলাধুলায় মেতে উঠেন।

তাছাড়া শ্রেণিকক্ষে ময়লা আবর্জনায় ও দুর্গন্ধের মধ্যেই কোমলমতি ছাত্রছাত্রীদের ক্লাস করতে দেখা গেছে। শ্রেণি কক্ষ মাত্র ৩টি, সকাল ১০ টা থেকে ১২ টা পর্যন্ত চলে শিশু, ১ম ও ২য় শ্রেণি আর সাড়ে ১২ টা থেকে বিকাল ৪ টা পর্যন্ত চলে ৩য়, ৪র্থ ও ৫ম শ্রেণি।

আরো জানা যায়, খন্ডকালীন শিক্ষিকা রানু আক্তার বিদ্যালয়ে ক্লাস চলাকালিন ছাত্রছাত্রীদের বাধ্যতামূলক শ্রেণি কক্ষেই ৩য় শ্রেণী থেকে ৫ম শ্রেণীর ছাত্র-ছাত্রীদের ক্লাসের মতো কোচিং করান।

ক্লাস ভেদে ২শ ৫০ টাকা থেকে ৫শ টাকা পর্যন্ত নেন। ম্যানেজিং কমিটির সহ সভাপতি আনসারুল হকের আত্মীয় হওয়ায় তিনি এমন কাজ করার সুযোগ পাচ্ছেন বলে অনেকে জানান।

তৃতীয় শ্রেণির ছাত্র সিয়াম ঢালী জানান, আমরা রানু ম্যাডামের কাছে সকাল ১০ টা থেকে দুপুর ১২ টা পর্যন্ত সব বিষয়ে প্রাইভেট পড়ি ৩ শ টাকা মাস দিয়ে। টিফিনের সময় আমরা বের হলে ফিরে এসে দেখি স্কুল বন্ধ তালা ঝুলছে। বই নিতে পারি না, পড়া হয় না পরদিন এসে বই নিতে হয়।

ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মো. হান্নান জানান, আমার কথা না মেনে সহ সভাপতির একক সিদ্ধান্তে রানুকে খন্ডকালিন শিক্ষিকা হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়।প্রধান শিক্ষিকা ঠিক মত না আসার বিষয় নিয়ে বেশ কিছুদিন আগে শিক্ষা অফিসারের মাধ্যমে শোকজ করা হয়।

প্রধান শিক্ষিকা শাহিনা বেগম জানান, আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ সঠিক নয়। কোন শিক্ষক আমার কথা মানে না। রানু ক্লাসে কোচিং করানোর বিষয়ে সভাপতি ও আমি অনেকবার নিষেধ করার পরও শোনেনি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক অভিভাবক জানান, প্রধান শিক্ষক দুপুর ১২ টায় ক্লাসে আসে ঘন্টাখানিক থেকে চলে যান। কোন শিক্ষকই আমাদের ছেলে মেয়েদের ঠিকমত পড়ালেখা করান না।

অভিযুক্ত রানু আক্তার জানান, আমার সাড়ে ১২ টায় ক্লাস তাই আমি ১০ থেকে ১২ পর্যন্ত প্রাইভেট পড়াই।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার বেলায়েত হোসেন জানান, এ উপজেলায় আমার জানামতে এমন কোন স্কুল নেই। তার পরও আমি খোজঁ নিয়ে দেখি অভিযোক্ত স্কুলটিতে একজন খন্ড কালিন শিক্ষক দিয়ে শ্রেণি কক্ষে ক্লাস নেয়া হচ্ছে। আর এ খন্ড কালিন শিক্ষককে বাদ দেয়ার জন্য স্কুল ম্যানেজিং কমিটিকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

বাংলাপ্রেস

Comments are closed.