বাবা সন্দেহভাজন অপরাধী তাই মায়ের সাথে দু’শিশু থানায় আটক

হাওয়া নূর বেগম। দরিদ্র ট্রলার চালক গোলাম হোসেনের স্ত্রী। কোন দোষ না করেও দুটি শিশু বাচ্চাসহ গজারিয়া থানায় দু’দিন ধরে আটক আছে। বাচ্চাদের বাড়ি যাওয়ার আকুতি মায়ের কোমল মনকে কাঁদালেও এতে পুলিশের পাথর মনকে গলাতে পারেনি। অগত্যা থানায় দু’বছরের ছেলে জিসানকে কোলে নিয়ে আর তিন বছরের ছেলে সিয়ামকে পাশে বসে মুক্তির অপেক্ষায় ক্ষণ গুনছেন হাওয়া নূর। পুলিশের দাবী গত বৃহস্পতিবার মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার হোসেন্দী ইউনিয়নের টান বলাকি চর গ্রামে সহিংসতায় দু’জনকে হত্যার পর সন্ত্রাসীরা গোলাম হোসেনের ট্রলারে করে মেঘনা নদী পারি দিয়ে মুন্সীগঞ্জ সদরে চলে যায়। এ ঘটনায় শুক্রবার সকালে ট্রলার চালক গোলাম হোসেনের বাড়ীতে অভিযান চালায় পুলিশ। এ সময় তাকে না পেয়ে দুই শিশু বাচ্চাসহ তার স্ত্রী হাওয়া নূর বেগমকে আটক করে গজারিয়া থানার পুলিশ।

শনিবার দুপুরে গজারিয়া থানায় গিয়ে আটক মা হাওয়া নূর বেগমের সাথে কাথা হয়। আমার বা মাসুম বাচ্চাগুলোর কি অপরাধ? প্রশ্ন করে আগোপ্লুত হয়ে পড়েন তিনি। শিশু খাদ্য নেই আর আটক শিশুর বাড়ী যাবার জন্য ভীষণ কান্নাকাটি করছে।

স্থানীয়দের মানবাধিকার কর্মী মাসুদ রনার দাবী চরবলাকীর ঘটনায় সহিংসতায় অংশ গ্রহনকারীরা এলাকায় চিহ্নিত সন্ত্রাসী। আটক করতে হলে তাদের পরিবারের সদস্যদের আটক করুক। দরিদ্র সামান্য ট্রলার চালকের স্ত্রী ও শিশু বাচ্চাদের আটক করা মানবতা বিবর্জিত।

এব্যাপরে গজারিয়া থানার ওসি (তদন্ত) হেলাল উদ্দিন জানান, হাওয়া নূর আসামী নয়। তাকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার হোসেন্দী ইউনিয়নের চর বলাকি গ্রামে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে সংঘর্ষে নবনির্বাচিত ইউপি মেম্বর ভাইসহ নিহত হয়। এ ঘটনায় ৭ জন গুলিবিদ্ধসহ ১২ জন আহত ও একজন জন নিখোঁজ রয়েছে।

জনকন্ঠ

Comments are closed.