শাপলা বিক্রির টাকায় চলে পরিবার

ইমতিয়াজ উদ্দিন বাবুলঃ শাপলা। এটি দেখতে যেমন সুন্দর, তেমনি তরকারি হিসেবে খেতেও সুস্বাদু। কেউ খায় শখ করে, আবার কেউ খায় অভাবে পড়ে। অভাবগ্রস্ত বা নিতান্ত গরিব লোকজন এ বর্ষা মৌসুমে শাপলা তুলে তা দিয়ে ভাজি বা ভর্তা তৈরি করে আহার করে থাকেন। আর শহরে লোকজন শখের বসে এ মৌসুমে দু-চার দিন শাপলার তরকারি বা ভাজি খেয়ে থাকেন।

আর সেই শাপলা বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করছে মুন্সীগঞ্জের সিরাজদীখান উপজেলার বিভিন্ন এলাকার শত শত পরিবার। কৃষি জমি পানির নিচে থাকায় এ মৌসুমে কৃষকের তেমন কোনো কাজ নেই। তাই এলাকার অনেক কৃষক এ পেশায় জড়িয়ে পড়েছেন। কোনো পুঁজির প্রয়োজন না হওয়ায় বিভিন্ন বয়সের লোক এ পেশায় অংশ নিয়ে জীবিকা নির্বাহ করছেন। শাপলা সাধারণত তরকারি হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে থাকে।

লতব্দী ইউনিয়নের চর নিমতলার বিল থেকে শাপলা সংগ্রহকারী রবিউল ইসলাম জানান, এ সময় একেকজন কমপক্ষে ৩০ থেকে ৪০ মুঠো সংগ্রহ করতে পারে। পাইকাররা আবার সংগ্রহকারীর কাছ থেকে এসব শাপলা সংগ্রহ করে একত্রে করে। সিরাজদীখানের রসুনিয়া, ইমামগঞ্জ ও তালতলায় শাপলার পাইকারি ক্রয়কেন্দ্র রয়েছে। পাইকাররা এখান থেকে শাপলা ক্রয় করে ঢাকার যাত্রাবাড়ী পাইকারি বাজারে বিক্রি করে থাকে।

পাইকার বাবুল খান জানান, শাপলা সংগ্রহকারীদের কাছ থেকে এক মুঠো শাপলা ১০ টাকা দরে ক্রয় করা হয়। তারপর গাড়ি ভাড়া গড়ে ৩ টাকা, লেবার ১ টাকা, আড়ত খরচ ২ টাকাসহ মোট ১৭ থেকে ১৮ টাকা খরচ পড়ে । যাত্রাবাড়ী আড়তে শাপলা বিক্রি হয় ২৫ থেকে ২৭ টাকা মুঠো।

সমকাল

Comments are closed.