চান্দেরচর-খাসকান্দি-সিরাজদিখান: ৭ কিলোমিটারই বেহাল

মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার বালুচর ইউনিয়নের চান্দেরচর-খাসকান্দি-সিরাজদিখানের সাত কিলোমিটার সড়কটির অবস্থা বেহাল। এতে আশপাশের স্কুলের শিক্ষার্থীসহ গ্রামবাসীর যাতায়াতে মারাত্মক সমস্যা হচ্ছে। যান চলাচলের জন্যও সড়কটি মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে।

এলাকাবাসী জানান, ইউনিয়নের প্রত্যন্ত চান্দেরচর, পূর্ব চান্দেরচর, পশ্চিম চান্দেরচর, খাসকান্দি ও মদিনাপাড়া—এই পাঁচ গ্রামের ৮ থেকে ১০ হাজার মানুষকে ঢাকা ও সিরাজদিখান উপজেলা সদরে যাতায়াত করতে নিয়মিত এ সড়কটি ব্যবহার করতে হয়। এ সড়কের বেশ কয়েকটি স্থানের মাটি সরে গিয়ে সড়কটি সরু হয়ে গেছে। সড়কে সৃষ্টি হওয়া বড় বড় গর্তে বৃষ্টির পানি জমেছে এবং সড়কটি কাদায় মাখামাখি হয়ে আছে। তাই এ সড়কে হাঁটাও কষ্টকর।

মুন্সিগঞ্জের চান্দেরচর-খাসকান্দি-সিরাজদিখান সড়কের চান্দেরচর এলাকা থেকে সম্প্রতি তোলা ছবি

এলাকাবাসী জানান, ওই পাঁচ গ্রামের কৃষিপণ্য ঢাকার কারওয়ান বাজার, বাবুবাজারসহ বিভিন্ন বাজারে নিতে চন্দেরচর গ্রামসহ আশপাশের মানুষকে ওই সড়ক ব্যবহার করতে হয়। কারণ, এ সড়ক দিয়ে ঢাকা-মাওয়া মহাসড়কের দূরত্ব মাত্র পাঁচ কিলোমিটার। অন্যথায় সিরাজদিখান উপজেলা সদরে যেতে চান্দেরচরসহ আশপাশের গ্রামের মানুষকে নয় কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে হয়। এ সড়কের ঢাকা-মাওয়া সড়ক থেকে বালুচর যাওয়ার দুই পাশে সাত কিলোমিটার পর্যন্ত সড়ক কাঁচা। এই কাঁচা সড়কটির বর্তমান অবস্থান একেবারেই নাজুক।

খাসকান্দি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. ছিদ্দুকুর রহমান বলেন, পাঁচ গ্রামেই প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে বেশ কয়েকটি প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মাদ্রাসা ও বাজার। তাঁর বিদ্যালয়ের আড়াই শ শিক্ষার্থীকে প্রতিদিন এ ভাঙা সড়ক দিয়ে চলাচল করতে হয়।

খাসকান্দি দাখিল মাদ্রাসার সুপার আমির হোসেন বলেন, ভাঙা ও ঝুঁকিপূর্ণ সড়কটিতে প্রায়ই ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে। সড়কটি মেরামত হলে এক ঘণ্টারও কম সময়ে ঢাকায় যাওয়া যাবে। সিরাজদিখান সদরে যাওয়াও সহজ হবে।

বালুচর ইউপির চেয়ারম্যান আবু বক্কর ছিদ্দিক বলেন, ‘সড়ক মেরামতে আবারও উদ্যোগ নেওয়া হবে। এর আগেও একাধিকবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সড়কটি মেরামতে বলেছিলাম।’ সিরাজদিখান উপজেলা প্রকৌশলী আমিনুর রহমান বলেন, ‘সড়কটির অবস্থা খুব খারাপ বলে শুনেছি। এটির মেরামতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে।’

প্রথম আলো

Comments are closed.