ফলোআপ: মাদক ও দেহ ব্যবসা চালিয়ে যেতে স্বামীকে হত্যা

স্ত্রী মৌসুমি আক্তার মৌর পরকীয়ার জের ধরে মুন্সিগঞ্জে স্বামী রবিন (৩০) নামের এক যুবককে হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে। মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১০ টার দিকে শহরের উপকণ্ঠ পঞ্চসারের মালিরপাথর গ্রামে এ ঘটনা ঘটেছে। মা ও মেয়ের মাদক ও যৌন ব্যবসা চালিয়ে যেতেই এই হত্যা কান্ড ঘটানো হয়েছে বলে এলাকাবাসীর অভিযোগ। মা এবং মেয়ে একই পথে হাটছেন। মা তার জীবন যৌবন যে ব্যবসা করে কাটিয়েছেন সেই ব্যবসায় নামিয়েছেন মেয়ে মৌকে। পুলিশের ছত্রছায়ায় মাদক ও দেহ ব্যবসা চালানোরও অভিযোগ করেছেন একাধিক নারী ও পুরুষ। রবিনের বাবা নুর হোসেন ও মা হাসিনা বেগম জানান, আমার ছেলে রবিনকে মক্ষিরাণী বালা ও মৌ মিলে হত্যা করেছে। তাদের ফাঁসি চাই। আর কিছু চাইনা।

কে এই বালা? এলাকাঘুরে জানা যায়, বালা একজন মুন্সিগঞ্জের মক্ষিরাণী। বালার পথেই চলছে তার মেয়ে মৌসুমী আক্তার মৌ। নামটিও যেমন মৌ কাজেও তার ভিতরে মৌ। পুলিশ প্রশাসন থেকে শুরু করে এখন সকলের কাছে প্রিয় হয়ে উঠেছেন মৌ। মুন্সিগঞ্জের সদর থানার পুলিশের কর্মকর্তারাও নাকি বালার বাড়িতে আসর বসান। বালা মৌকে দিয়ে তার পূর্বের মক্ষিরাণীর ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন। মালিরপাথর গ্রামের একাধিক নারী পুরুষ জানান, মালার স্বামীর অভাব নেই। বড় বড় নেতা থেকে শুরু করে পুলিশ প্রশাসনের সকলেই নাকি তার বিছানার লোক। বর্তমানে দুই স্বামী রয়েছে তার। তার যৌবন না থাকার কারণে এবার মেয়েকে দিয়ে তার পুরানো ব্যবসা চালিয়ে যেতে তার মেয়ের স্বামী রবিনকে হত্যা করে আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দিতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন? এমনটি বলেছেন স্থানীয় কয়েকজন নারী ও পুরুষ। স্থানীয় এক যুবক নুর মোহাম্মদ জানান, রবিনকে মক্ষিরাণী বালা ও তার মেয়ে মৌ হত্যা করেছে। এদেরকে এলাকা ছাড়া করতে না পারলে এলাকার ছেলে মেয়ে নষ্ট হয়ে যাবে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত দুই বছর পূর্বে প্রেম ভালোবাসার সর্ম্পকে জড়িয়ে সদর উপজেলার পঞ্চসার ইউনিয়নের মালির পাথর গ্রামের মোঃ জাকির হোসেনের মেয়ে মৌসুমী আক্তার মৌ এর সাথে একই গ্রামের নূর হোসেনের ছেলে রবিনের বিয়ে হয়। বিয়ের পরে শশুরবাড়ীতে ঘরজামাই হিসাবে বসত করতো রবিন। পরে বিয়ের প্রথম একবছর দু’জনের মধ্যে সর্ম্পক ঠিকঠাকই চলছিলো। কিন্তু পরের বছরে এসে পরকীয়ায় জড়িয়ে যান মৌসুমী আক্তার মৌ। পরকীয়ার বিষয়টি স্বামী রবিন জেনে ফেললে শুরু হয় অশান্তি। পরকীয়াকে কেন্দ্র করে মৌসুমী স্বামী রবিনের সাথে মাঝে মাঝে ঝগড়া করতেন।

আর ঝগড়া থেকে নিজেকে গুটিয়ে নিয়ে রবিন বাড়ী থেকে বের হয়ে যেতেন আর এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে পরকীয়া প্রেমিকের সাথে ফোন আলাপ করে বাড়ীতে নিয়ে আসতেন ও মাঝে মাঝে ঘুরতে যাওয়ার সুযোগ পেয়ে যেতেন মৌসুমী। তাই স্বামীর সাথে ঝগড়া করাটা তার নিয়মিত হয়ে উঠে। শুধু তাইই নয় পরকীয়া চালিয়ে যেতে নারি নির্যাতনের মতো মিথ্যা মামলা দিয়ে ফসিয়ে দেয়া হয়েছে রবিনের বড় ভাই শাহিনকে। তাই ভাইকে বাচাতে বাধ্য হয়েই স্ত্রীর কাছে মাথা নত করে ভাই ছাড়ানোর চেষ্টা করেন রবিন। গত রবিবারে রবিন তার ভাইকে মিথ্যা মামলা থেকে বাচাতে শশুর মোঃ জাকির হোসেন, শাশুড়ী মিতু বেগম (বালা) ও স্ত্রী মৌসুমী আক্তার মৌর কাছে যান। সেখানে কথা কাটাকাটি হলে শশুর, শাশুরী ও স্ত্রী মিলে বসত ঘরে ভিতরে আটকে রেখে রবিনের উপর চালানো হয় অমানুষিক নির্যাতন। পরে গত মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১০ টায় রবিনের শাশুড়ীর মালিকানাধীন কারেন্ট জাল কারখানা থেকে ঝুলন্ত অবস্থায উদ্ধার করা হয় রবিনের মৃতদেহ। তবে এটি আত্বহত্যা নয় হত্যা হয়েছে বলে দাবী করছেন রবিনের পরিবার ও এলাকার লোকজন।

মৃত রবিনের সাত মাসের লাবিবা নামের একটি কন্যা সন্তান রয়েছে। মামলা না করার হুমকী দিচ্ছে হত্যাকারীরা। এমন দাবী করে রবিনের বড় ভাইয়ের স্ত্রীর কলি বেগম বলেন, বিয়ের পর থেকে শত চেষ্টা করে মৌসুমীকে স্বামীর বাড়ীকে আনা সম্ভব হয়নি। মৌসুমী তার নিজ বাড়ীতে থেকে পরকীয়ার সম্পর্ক চালিয়ে যেতেন। তাই শত চেষ্টা করে স্বামীর বাড়ী আনতে ব্যার্থ হতে হয় আমাদের। তার পরকীয়া সর্ম্পক রবিনে জেনে ফেললে শুরু হয় অশান্তি। এ বিষয়ে রবিনের শশুড়, শাশুড়ী ও স্ত্রীর সাথে কথা বলতে গেলে তারা জানান শাহিনকে মিথ্যা মামলা দিয়ে ফাসিয়ে দেয়া হয়েছে। সেই বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে রবিনকে বসত ঘরের বিতরে আটকে রেখে নির্যাতন চালীয়ে হত্যা করা হয়েছে। পরে হত্যা মামলা থেকে বাচতে আত্মহত্যার নাটক সাজানো হয়েছে।

তবে মারধরের বিষয়টি অস্বীকার করে রবিনের শাশুরী মিতু বেগম (বালা) বলেন, রবিন ও আমার মেয়ে মৌসুমী প্রেম ভালোবাসা সম্পর্ক করে বিবাহ করেন। বিয়ের এক বছর সর্ম্পক ভালোই চলছিলো কিন্তু হঠাৎ করে মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে আমার মেয়েকে প্রায় সময় চালানো হতো নির্যাতন। আমার জামাই আত্মহত্যা করেছে। তবে কি কারণে রবিন আত্মহত্যা করেছেন সেটি আমার জানা নেই।

এ ব্যাপারে সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইউনুছ আলী বলেন, লাশ ময়নাতদন্ত চলছে তদন্ত শেষে এটি হত্যা না আত্মহত্যা সেটি যানা যাবে। এই বিষয়ে আমাদের তদন্ত চলছে।

ক্রাইম ভিশন

Comments are closed.