টোকিওস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রতিবাদ ও ‘সাপ্তাহিক’-এর বক্তব্য

প্রিয় সম্পাদক,
আপনার সম্পাদিত ‘সাপ্তাহিক সাময়িকীর’ বর্ষ ৯, সংখ্যা ৩-এ প্রকাশিত ‘টোকিওতে দূতাবাস ভবন উদ্বোধন উপেক্ষিত প্রবাসী সমাজ’ শীর্ষক প্রতিবেদন আমাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। উক্ত প্রতিবেদন পাঠ করে দূতাবাস মর্মাহত ও হতবাক হয়েছে। আমরা বিস্মিত হয়েছি সাপ্তাহিক-এর মতো একটি প্রতিষ্ঠিত সাময়িকীতে এ ধরনের একটি প্রতিবেদন ছাপা হওয়াতে। উক্ত প্রতিবেদনের পুরোটাই অসত্য, খণ্ডিত ও বিভ্রান্তিমূলক তথ্যে ভরা এবং সুনির্দিষ্ট প্রতিবাদলিপি দেবারও অনুপযুক্ত। সঙ্গত কারণেই দূতাবাস প্রতিটি শব্দ ও বাক্য ধরে প্রতিবাদলিপি পাঠাচ্ছে না। বরং দূতাবাস মনে করে এ ধরনের একটি অপেশাদার ও নিম্নমানের প্রতিবেদন কোনো অবস্থাতেই সাপ্তাহিক-এর মতো একটি সাময়িকীর সাথে মানানসই নয়। তদুপরি, উক্ত প্রতিবেদন প্রস্তুতে দূতাবাসের কোনো বক্তব্য নেয়া হয়নি। তাই দূতাবাস মনে করে অত্যন্ত দুর্বল ও ভুল বাংলায় লেখা এবং মনগড়া ও অসমর্থিত তথ্যে ভরা এই প্রতিবেদন অতি সত্বর ‘সাপ্তাহিক’ এর সার্ভার থেকে সরিয়ে ফেলা হোক এবং পরবর্তী সংখ্যায় দূতাবাসের এ সংক্রান্ত প্রতিবাদলিপি ছাপানো হোক।

টোকিওস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস আশা করে আপনার মতো একজন দায়িত্বশীল সাংবাদিকের সম্পাদনায় প্রকাশিত একটি সাময়িকীতে এ ধরনের প্রতিবেদন প্রকাশের ক্ষেত্রে ভবিষ্যতে আরও পেশাদারিত্বের পরিচয় দেয়া হবে এবং জাতীয় স্বার্থ প্রাধান্য পাবে।

(মোহাম্মদ নূরে-আলম)
দূতালয় প্রধান

‘সাপ্তাহিক’-এর বক্তব্য :
‘দুর্বল ও ভুল বাংলায় লেখা’ বিষয়টি নিয়ে ‘সবল বাংলা বিশেষজ্ঞদের’ মতামত নেয়া যেতে পারে। আপত্তি নেই।

প্রতিবেদনে উল্লিখিত প্রতিটি বিষয় ধরে ধরে প্রতিবাদ করারও দরকার নেই। প্রতিবাদলিপিতে অন্তত একটি তথ্য সুনির্দিষ্টভাবে প্রত্যাশিত ছিল। তা হলো প্রতিবেদনের মূল বিষয় ‘প্রবাসীদের উপেক্ষা করা হয়েছে’। অনেক গুণীজন প্রবাসী বাঙালিকেও আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। এই বিষয়টি কেন ‘অসত্য, খণ্ডিত ও বিভ্রান্তিমূলক তথ্যে ভরা’? তা পরিষ্কার করে যুক্তিসহকারে ব্যাখ্যা করলে, যদি বোঝা যায় যে আপনাদের বক্তব্য সঠিক- নিশ্চয়ই সার্ভার থেকে প্রতিবেদনটি সরিয়ে ফেলা হবে। ব্যাখ্যা জানার প্রত্যাশায় রইলাম।

টোকিও দূতাবাসসহ জাপান প্রবাসীদের সংবাদ ‘সাপ্তাহিক’ সবসময় অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে প্রকাশ করে থাকে। এই প্রতিবেদনটিও সেই গুরুত্বের অংশ হিসেবেই প্রকাশ করা হয়েছে।

দূতাবাসকে মর্মাহত করা প্রতিবেদনের উদ্দেশ্য নয়, তা করার চেষ্টাও হয়নি। যা ঘটেছে, তা শুধু বলা হয়েছে প্রতিবেদনে। প্রতিবেদনটিকে নিম্নমানের বলতে গিয়ে প্রতিবাদলিপিতে যে ভাষা-শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে, তাও উচ্চমানের বা মানসম্পন্ন হয়নি, যা দেখে ‘সাপ্তাহিক’ হতবাক হয়েছে।

সাপ্তাহিক

Comments are closed.