মুন্সিগঞ্জে পৌর শিশুপার্কটি কাদের জন্য?

মরচে পড়া একটি চরকি। দুটি দোলনা এবং দুটি স্লিপার না থাকলে বোঝারই উপায় নেই এটি একটি শিশুপার্ক। কারণ, পার্কজুড়ে বড় বড় ঘাস। বেশির ভাগ জায়গায় জমে আছে পচা পানি। তা থেকে ছড়ানো গন্ধে মনে হয় এটি একটি পরিত্যক্ত জায়গা।

এই শিশুপার্কের অবস্থান জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের বিপরীত দিকে। নতুন সংযোজিত দুটি দোলনা ও দুটি স্লিপার যে জায়গাটিতে বসানো হয়েছে, সেখানে বৃষ্টির পানি পড়ে শেওলা জমেছে। একটি ছাউনি দেওয়া বসার জায়গা আছে, কিন্তু সেখানে যাওয়া দুষ্কর।

নতুন রাইডের সামনে বৃষ্টির পানিতে শেওলা জমেছে। গত বুধবার তোলা ছবি

গত মঙ্গলবার সরেজমিনে দেখা যায়, পার্কের সামনে সাইকেল নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে দুটি শিশু। একজনের নাম শিমুল, বয়স ১৩ বছর। অপরজন রবিন, বয়স ১২। এই পার্কে আসে কি না জানতে চাইলে শিমুলের জবাব, ‘না, এই দিক দিয়া যাইতেছিলাম, তাই দাঁড়াইছি। এই পার্কে বড়রা আড্ডা দেয়। তাই আমরা আসি না।’
স্থানীয় বাসিন্দা এবং পার্কের সামনের দোকানিরা বললেন, পার্কটি গত বছর সামান্য সংস্কার করা হলেও এখানে শিশুদের আসার মতো পরিবেশ তৈরি হয়নি। বেশির ভাগ সময় তরুণ-যুবকদের আড্ডা চলে। দোকানি মো. সিফাত বললেন, ভেতরে যা অবস্থা, তাতে শিশুরা এসে তেমন কিছু পায় না।

প্রায় পৌনে দুই একর জায়গার ওপর মুন্সিগঞ্জ পৌরসভার উদ্যোগে শিশুপার্কটি নির্মাণ করা হয় ১৯৯৩ সালে। মুন্সিগঞ্জ পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী খন্দকার মো. আখতার হায়দার জানান, গত বছর ৯ লাখ ৭৭ হাজার টাকা ব্যয়ে পৌরসভা শিশুপার্কের নিরাপত্তাদেয়াল, বসার ব্যবস্থা এবং ভেতরে হাঁটার রাস্তা তৈরি করে দিয়েছে। পাশাপাশি দুটি দোলনা ও দুটি স্লিপারও যুক্ত করা হয়। কিন্তু ব্যবস্থাপনার অভাবে শিশুদের খেলার সামগ্রী নষ্ট হয়ে যাওয়ায় শিশুপার্কটি অচল হয়ে যায়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে মুন্সিগঞ্জ পৌরসভার মেয়র মোহাম্মদ ফয়সাল বলেন, ‘শিশুপার্কটির উন্নয়নের জন্য একটি প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। মন্ত্রণালয় থেকে জমির মালিকানার বিষয়ে জানতে চেয়ে একটি চিঠি এসেছে জেলা প্রশাসকের কাছে। তিনি চিঠির জবাব দিলে এবং অনুমোদন পেলে এটা নিয়ে কাজ শুরু করতে পারব।’

জেলা প্রশাসক সাইফুল হাসান বলেন, ‘আমার কাছে কোনো সম্মতিপত্র বা চিঠি আসেনি। তবে আমরা এ বিষয়ে পৌরসভাকে সার্বিক সহযোগিতা দেব।’

প্রথম আলো

Comments are closed.