জুতা চুরি মামলায় জামিন পেল শ্রেষ্ঠ চেয়ারম্যান সেকান্দর বেপারী

জুতা ছিনতাই ও জুতা ব্যাবসায়ীদের মারধরের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় টঙ্গীবাড়ী উপজেলার শ্রেষ্ঠ চেয়ারম্যান সেকান্দর বেপারীকে জেল হাজতে প্রেরণ করেছে আদালত। রাজধানীর গুলিস্থানের ফুটপাতের এক জুতা ব্যবসায়ীর মামলায় গ্রেফতার হওয়া সেকান্দর বেপারী, গুলিস্থানের ট্রেড সেন্টার মালিক সমিতির সভাপতিসহ ১৯০ জনকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। শুক্রবার রাতে ঢাকার মহানগর হাকিম খোরশেদ আলম এই আদেশ দেন।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পল্টন থানার এসআই ওবায়দুর রহমান গ্রেফতারকৃত ১৯০ জনকে ঢাকার সিএমএস আদালতে হাজির করলে আদালত এ আদেশ দেন। এ ব্যাপারে আদালত পুলিশের সাধারণ নিবন্ধন কর্মকর্তা উপপরিদর্শক জালাল উদ্দিন জানান, আসামীদের রিমান্ডে নেওয়ার কোনো আবেদন করা হয়নি। তাই তাদের আদালতেও তোলা হয়নি। আদালত আসামিদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন।

কারাগারে যাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে উল্লেখযোগ্যদের মধ্যে গুলিস্থান ট্রেড সেন্টারের যুগ্ন সম্পাদক ও টঙ্গীবাড়ীর আউটশাহী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান সেকান্দর বেপারী ছাড়াও গুলিস্থানের ট্রেড সেন্টার মালিক সমিতির সভাপতি হুমায়ুন কবির মোল্লা (৫৬), ট্রেড সেন্টারের মালিক সমিতির (দক্ষিণ) কোষাধ্যক্ষ খন্দকার সিরাজুল ইসলাম (৬৮), ট্রেড সেন্টারের দক্ষিণের ধর্মবিষয়ক সম্পাদক হাজী মো. নান্নু মিয়া (৫৫), সহসভাপতি শাহাদাত হোসেন (৫৫)। গুলিস্থানে লুৎফর রহমান নামের এক ফুটপাতের জুতা ব্যবসায়ী পল্টন থানায় বৃহস্পতিবার বাদী হয়ে মামলা করেন। মামলায় তিনি অভিযোগ করেন, তাঁরা দীর্ঘদিন ধরে গুলিস্থানের ট্রেড সেন্টারের দক্ষিণপাশের ফুটপাতে জুতার ব্যবসা করে জীবিকা নির্বাহ করছেন। কিন্তু ট্রেড সেন্টারের বিভিন্ন দোকানদার তাঁদের হুমকি দিয়ে বলেন, ‘তাঁদের ফুটপাতে জুতার ব্যবসা করতে দেবে না।’

মামলার বাদীসহ ফুটপাতের দু শ জুতা ব্যবসায়ীকে পূর্বপরিকল্পিতভাবে বেআইনি জনতাবদ্ধ হয়ে তাঁদের ওপর হামলা করে। এতে কয়েকজন গুরুতর আহত হয়। মামলায় পাঁচজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত ৩০-৩৫ জন ফুটপাতের জুতা ব্যবসায়ীর ওপর হামলা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন। এ ছাড়া আসামিরা ফুটপাতের ব্যবসায়ীদের দোকান ভাঙচুর ও মালামাল লুট করে। ফুটপাতের জুতা ব্যবসায়ীদের ১ কোটি ২৭ লাখ ৯৫ হাজার টাকার মালামাল লুট করেছে বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। ট্রেড সেন্টারের কেয়ার সুজের মালিক শব্দের আলীর হুকুমে এই হামলা ও মালামাল লুট করেছেন আসামিরা।

জানাগেছে, গত শুক্রবার বিকেল ৫টার দিকে পাঁচটি প্রিজন ভ্যানে করে আসামিদের আদালতের হাজতখানায় আনে পল্টন থানা-পুলিশ। পরে রাত সাড়ে দশটার দিকে প্রিজন ভ্যানে করে তাঁদের কেন্দ্রীয় কারাগারে নিয়ে যাওয়া শুরু হয়। সর্বশেষ প্রিজন ভ্যানটি রাত ১১টার দিকে আদালত এলাকা ত্যাগ করে। গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের আত্মীয়স্বজন আদালতের হাজতখানার সামনে জড়ো হয়।

জুতা ছিনতাই ঘটনায় টঙ্গীবাড়ী উপজেলার শ্রেষ্ঠ চেয়ারম্যান গ্রেফতার হওয়াকে কেন্দ্র করে টঙ্গীবাড়ীতে আনন্দের জড় বইছে। আউটশাহী ইউনিয়ন বাসীকে কল দেওয়ার নামে বিপুল টাকা আতœসাৎকারী ও আউটশাহী ইউনিয়নের মামুরদাউল এবং দোরাবর্তীসহ একাধিক রাস্তার টাকা আতœসাৎকারী সেকান্দর বেপারীর বিরুদ্ধে নারী কেলাংকারীসহ এলাকায় শত শত অভিযোগ রয়েছে। চতুর্থ ধাপের গত ৭ই মে অনুষ্ঠিত ওই ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে নৌকা প্রতিক নিয়েও স্বতন্ত্র প্রার্থী জহিরুল হক লিটন ঢালীর কাছে প্রায় ৩হাজার ভোটের ব্যাবধানে পরাজিত হয় সে। এর আগে জহিরুল হক লিটন ঢালীর কাছে কাউন্সিলে হেরে বিপুল অঙ্কের টাকা বিনিময়ে নৌকা প্রতিক ছিনিয়ে নেওয়ার তার বিরুদ্ধে আভিযোগ রয়েছে। তাছাড়া টাকার বিনিময়ে শ্রেষ্ট চেয়ারম্যানের খেতাব কিনেছিলেন তিনি। তার অপকর্মের কারনে নৌকা ঘাটি হিসাবে পরিচিত আউটশাহী ইউনিয়নে নৌকার ভরাডুবী ঘটে বলে এলাকাবাসী সুত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে।

উল্লেখ্য যে, সম্প্রতি হকারদের সাথে সমযোতার ভিত্তিতে জামিন পায় সেকান্দর বেপারী।

বার্তা প্রবাহ

Comments are closed.