বিলুপ্তির পথে বিকল্প ধারা!

সাবেক রাষ্ট্রপতি অধ্যাপক ড. এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরীর (বি চৌধুরী) নেতৃত্বাধীন ‘বিকল্প ধারা বাংলাদেশ’ বিলুপ্তির পথে। কার্যত রাজনৈতিক কোনো কর্মকাণ্ডের মধ্যে নেই দলটি। তাই অনেকেই এখন দলটিকে ‘বিকল ধারা’ বলে ডাকতে শুরু করেছেন।

দলের প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক ড. একিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী (বি চৌধুরী), মহাসচিব মেজর (অব.) এম এ মান্নান ও এক নম্বর যুগ্ম মহাসচিব মাহি বি চৌধুরী রাজনীতি থেকে অনেকটা দূরে রয়েছেন। রাজনৈতিক ও সামাজিক কোনো কর্মকাণ্ডে এদের খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।

দলটি নেহায়েত নাম সর্বস্ব হওয়ায় আর কোনো সক্রিয় নেতা-কর্মীও নেই, যারা দলের প্রধান তিন ব্যক্তির অনুপস্থিতিতে দলীয় কর্মকাণ্ড এগিয়ে নেবেন। অথবা প্রেসিডেন্ট, মহাসচিব ও যুগ্ম মহাসচিবের অবর্তমানে দলের হাল ধরবেন।

সূত্রমতে, সারা বছর নিষ্ক্রিয় থাকার পর মাহে রমজানে দলের মহাসচিব মেহর (অব.) এম এ মান্নান ও যুগ্ম মহাসচিব মাহি বি চৌধুরীকে সঙ্গে নিয়ে খালেদা জিয়ার ইফতার মাহফিলে অংশ নিতেন বি. চৌধুরী।

এবারও রমজান শুরুর আগেই বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ইফতার মাহফিলের দাওয়াত দেন বিকল্প ধারার চেয়ারম্যানকে। বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন নিজে গিয়ে বি চৌধুরীকে আমন্ত্রণপত্র দিয়ে আসেন।

কিন্তু গত ১১ জুন রাজধানীর ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি, বসুন্ধরায় (আইসিসিবি) আয়োজিত খালেদা জিয়ার ওই ইফতার মাহফিলে যাননি বিকল্প ধারার প্রেসিডেন্ট। দলের কোনো প্রতিনিধিকেও পাঠাননি তিনি।

অন্যদিকে প্রতিবছর পবিত্র মাহে রমজানে রাজনীতিবিদ ও বিশিষ্ট নাগরিকদের সম্মানে ইফতার মাহফিল আয়োজন করতেন বি চৌধুরী। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে প্রধান অতিথি করে আয়োজিত ওইসব ইফতার মাহফিলে জামায়াত ছাড়া ২০ দলীয় জোটের বেশিরভাগ শরিক দলই আমন্ত্রণ পেতেন এবং উপস্থিত হতেন দলগুলোর শীর্ষ নেতারা।

২০ দলীয় জোটের বাইরে থাকা জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) সভাপতি আ স ম আব্দুর রব, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ সভাপতি বঙ্গবীর আব্দুল কাদের সিদ্দিকীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক অংশ নিতেন।

এইসব ইফতার মাহফিলের মধ্য দিয়ে বিকল্প ধারা বাংলাদেশ’র অস্তিত্ব টের পেতেন রাজনীতি সংশ্লিষ্টরা। দলের হাতে-গোণা নেতা-কর্মীরাও বছরান্তে একটা দিন সবার সাথে মিলিত হওয়ার সুযোগ পেতেন।

কিন্তু এ বছর সেই ইফতার মাহফিলও আয়োজন করছে না বিকল্প ধারা বাংলাদেশ। দলটির প্রেসিডেন্ট বি চৌধুরী ঘর থেকেই বের হচ্ছেন না। মহাসচিব মেজর (অব.) মান্নানও ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন ব্যবসা-বাণিজ্য নিয়ে। রাজনৈতিক কোনো কর্মকাণ্ডে যুক্ত হচ্ছেন না তিনি। আর যুগ্ম মহাসচিব মাহি বি চৌধুরী ব্যক্তিগত সফরে এই মুহূর্তে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন।

সূত্রমতে, দলটির ‘রাজনীতিচ্যুত’ হওয়ার পেছনে কোনো জোটের সমর্থন ছাড়াই গত বছর ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নামাকে দায়ী করছেন রাজনীতি সংশ্লিষ্টরা।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে নেমে বেশ কয়েকবার খালেদা জিয়ার কাছে বি চৌধুরী ও মাহি বি চৌধুরী ধর্ণা দিয়েছেন বিএনপি ও ২০ দলীয় জোটের সমর্থনের আশায়। কিন্তু তাবিথ আউয়ালকে সমর্থন দেওয়ায় শেষ পর্যন্ত বিএনপির নেতৃ্ত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের সমর্থন পাননি মাহি বি চৌধুরী।

ওই নির্বাচনেই মূলত বিকল্প ধ‍ারার জনপ্রিয়তা ও ভোটের রাজনীতিতে দলটির অবস্থান পরিষ্কার হয়ে যায়। বিকল্প ধারার ভব্যিষৎ দেখে ফেলেন দলটির শীর্ষ তিন নেতা। এর পর আর কোনো কর্মকাণ্ডে জড়াননি তারা।

বিষয়টি নিয়ে কথা বলার জন্য ফোন করলে বি চৌধুরীর প্রেস সেক্রেটারি জাহাঙ্গীর আলম বাংলানিউজকে বলেন, স্যার তো মোবাইল ব্যবহার করেন না। কথা বলতে চাইলে আগামীকাল ফোন দিতে হবে। তা ছাড়া স্যার শারীরিকভাবে অসুস্থ।

রাষ্ট্রপতি থাকা অবস্থায় ২০০২ সালের ৩০ মে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকীতে তার সমাধীতে ফুল না বিএনপির বিরাগভাজন হন বি চৌধুরী।

২০০২ সালের ২১ জুন রাষ্ট্রপতি পদ ও বিএনপি থেকে পদত্যাগ করেন তিনি। এর পর ২০০৪ সালের মার্চ মাসে বিকল্পধারা বাংলাদেশ গঠন করেন বি চৌধুরী।

নিজে দলের প্রেসিডেন্ট হন। মহাসচিব বানান মেজর (অব.) এম এ মান্নাকে। ছেলে মাহি বি চৌধুরীকে এক নম্বর যুগ্ম মহাসচিব পদে বসান। ওই বছর উপ নির্বাচনে মুন্সীগঞ্জ ১ আসনে জয়লাভ করে বিকল্পধারা। বর্তমান সংসদে দলটির কোনো প্রতিনিধিত্ব নেই।

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর

Comments are closed.